উদ্যোক্তা হওয়ার দিকে তরুণদের মনযোগে বাড়ছে

  যুগান্তর ডেস্ক    ২৬ জুন ২০১৮, ১৬:৩৯ | অনলাইন সংস্করণ

উদ্যোক্তা হওয়ার দিকে তরুণদের মনযোগে বাড়ছে

ঢাকায় বসবাসরত বেশিরভাগ চাকরিজীবী মানুষের ব্যস্ততম নগর জীবনে সাধ ও সাধ্যের মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত দেশি খাবার নিশ্চিত করতে স্বল্প মূল্যে আন্তজার্তিক মানের ফুড গ্রেড বক্স খাবার সরবরাহের লক্ষ্যে ২০১৭ সালে যাত্রা করে খানস কিচেন।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা বেগম। খান কিচেন ভাত, সবজি, মাছ, মাংসসহ সব ধরণের খাবার তৈরি হয় স্বয়ংক্রিয় মেশিনে।

রাজধানীর বেরাইদে প্রায় ১৫ বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠেছে কিচেনটি। মানুষকে উন্নত মানের খাবার পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করেছে খান কিচেন।

মোটর সাইকেলের বিভিন্ন পার্টস আমদানি করতে গিয়ে দেশেই সে সব পার্টস উৎপাদনের চিন্তা ভাবনা শুরু করেন যশোরের ফারুক।

এ ভাবনাকে সামনে রেখে ২০১০ সালে যশোরের বিসিক শিল্প নগরীতে ৪৬ একর জমি কিনে সেখানে তৈরি করেন মদিনা মেটাল।

তবে মোটর সাইকেল নয়, সেখানে তিনি গড়ে তোলেন সাইকেলের হুইল রিম তৈরির কারখানাও। আনুষ্ঠানিক উৎপাদন শুরু হয় ২০১৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। তার কারখানায় বর্তমানে প্রায় ১৫০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে।

ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে বাস ও লঞ্চের টিকিট কেনার সুবিধা দিতে ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করে সহজ ডটকম।

এর প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক মালিহা মেহের কাদির। বর্তমানে বাস ট্রেনে টিকিটের পাশাপাশি সিনেমা, বিভিন্ন ইভেন্ট এবং ক্রিকেট ম্যাচের টিকিট অনলাইনে কেনার সুবিধা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

আলোচিত এ তিনটি প্রতিদষ্ঠানই কেবল নয় দেশে গত নয় বছরে কয়েক হাজার উদ্যোক্তা তৈরি করেছেন নতুন নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সেখানে চাকরি হয়েছে অনেকেরই।

ই-কমার্স খাতে গত পাঁচ বছরে সবচেয়ে বেশি উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে। ই-ক্যাবের হিসাবে এক হাজারের মত প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। যারা নিজেদের তৈরি পণ্য বিক্রি করছেন।

এখানে কাজ করছেন এক লাখেরও বেশি মানুষ। প্রযুক্তি-ভিত্তিক এ সব প্রতিষ্ঠান দেশে প্রতিদিনই নতুন কর্মচাঞ্চল্য তৈরি করছে।

উবারের পাশাপাশি দেশীয় উদ্যোগে গড়ে উঠা রাইড শেয়ারিং পাঠাও, দারাজের পাশপাশি স্থানীয় উদ্যোগে গড়ে উঠা আজলের ডিল কিংবা চালডালের মত অনলাইন-ভিত্তিক ব্যবসায়িক উদ্যোগ বাজারে সাড়া ফেলেছে।

চিকিৎসার জন্য মায়া আপা, ডক্টরঅলার-মত অ্যাপও অনন্য।

পেশা নির্বাচনে সা¤প্রতিক সময়ে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষণীয়। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা এমন যে অধিকাংশ মানুষ তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ খুঁজে পায় না।

চাকরি করার মানসিকতা থেকে বের হয়ে নিজে কিছু একটা করার স্বপ্নে বিভোর তরুণ সমাজ। অনেকেই এই সিদ্ধান্তে এসে পৌঁছেছেন যে, কারও অধীনে কাজ করার চেয়ে নিজেরাই নিজেদের পছন্দমত কাজ তৈরি করে নেয়াটা সর্বোত্তম।

কারণ এ ধরনের কাজ মূলত ব্যক্তির ইচ্ছা, আকাক্সক্ষা এবং জীবনের লক্ষ্যের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠে।

দেশের সরকারি-বেসরকারি সব মহলের কথা ও কাজে উদ্যোক্তা সৃষ্টির তৎপরতা লক্ষণীয় মাত্রায় বাড়ছে।

বর্তমান সরকার নির্ধারিত ‘ভিশন ২০২১’ অনুসারে ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এ নতুন মানসিকতা বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন ডাকা ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার।

আইএলও’র হিসাবে ২০১০ সালে বাংলাদেশে ২০ লাখ লোক বেকার ছিল। ২০১২ সালে ছিল ২৪ লাখ। ২০১৬ সালে তা ২৮ লাখে পরিণত হয়েছে। ২০১৯ সালে এ সংখ্যা ৩০ লাখে ওঠার আশঙ্কা করছে আইএলও।

বৈশ্বিক কর্মসংস্থান সম্পর্কে আইএলও’র মহাপরিচালক গাই রাইডার’র মতে, বিশ্ব অর্থনীতি এখনো পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে না।

আবার কর্মজীবীদের কাজের মান উন্নত করতে বাড়তি উদ্যোগ দরকার, যাতে অর্থনৈতিক উন্নতির ভাগ সবাই পায়।

আর এক্ষেত্রে উদ্যোক্তা তৈরির কোন বিকল্প নেই। উদ্যোক্তা হওয়ার বিশেষ কোনও মুহূর্ত নেই, নেই কোনও কাল। একজন ব্যক্তি যেকোনো সময় নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।

বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে আধুনিক ও জনপ্রিয় কাজ হচ্ছে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারা।

আর এই চিন্তা ধারণা থেকেই গড়ে ওঠে উদ্যোক্তা। অর্থাৎ, নিজে যখন কিছুর জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করে।

একজন উদ্যোক্তা হতে গেলে আত্মবিশ্বাস, মানসিক স্থিতিশীলতা, প্রচেষ্টা, একটি নির্দিষ্ট লিখিত উদ্দেশ্য এবং তার গঠনপ্রণালী খুব প্রয়োজন। বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ সরকারও বিভিন্নভাবে উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা করে যাচ্ছে।

এক্ষেত্রে দেশের বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটরসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও এগিয়ে আসছে যা তরুণদের জন্য আশার কথা।

দেশের তথ্য-প্রযুক্তি খাতকে এগিয়ে নিতে ‘জিপি অ্যাকসেলেরেটর’ প্রকল্প পরিচালনা করছে গ্রামীণফোন। অন্যদিকে সরকারের আইসিটি বিভাগের সাথে ‘আইটি ইনকিউবেটর’ প্রকল্প হাতে নিয়েছে বাংলালিংক।

তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী একটি উদ্যোগ নিয়েছে রবি। তারা নিজেদের কর্মকর্তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য একটি অভ্যন্তরীণ প্রকল্প ‘আর-ভ্যাঞ্চারস’ নিয়ে কাজ করছে।

এ উদ্যোগ থেকে ১৫০ জন নতুন উদ্যোক্তা ২১২ টি ব্যবসায়িক ধারণা নিয়ে হাজির হয়েছেন। এতে দেশের বহুজাতিক কোম্পানিগুলোতে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্যেও উদ্যোক্তা হওয়ার আকাক্সক্ষার প্রতিফলন দেখা গেছে।

এ রকম আকাঙ্খাই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, উদ্যোক্তাদের হাত ধরে বেগবান হবে দেশের অর্থনীতির চাকা, এমনটাই করছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.