বিজ্ঞানীরা জানালেন, যেভাবে অদৃশ্য হতে পারবে মানুষ! (ভিডিও)

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০১৮, ১৮:৪০ | অনলাইন সংস্করণ

  আইটি ডেস্ক

ছবি: সংগৃহীত

অদৃশ্য হতে কে না চায়! আমাদের প্রত্যেকেরই একটা সুপ্ত বাসনা রয়েছে অদৃশ্য হওয়ার। এই ইচ্ছেটাকে মূলধন করেই ১৮৯৭ সালে এইচজি ওয়েলস লিখে ফেলছিলেন ‘দি ইনভিজিবল ম্যান’ নামের কল্পবিজ্ঞান উপন্যাসটি। 

তার পর থেকে ইউরোপীয়-আমেরিকান সাহিত্যে বারবার হানা দিয়েছে অদৃশ্য মানুযের আখ্যান। বাংলা সাহিত্যেও মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা ‘কায়াহীনের কাহিনী’ আজও পাঠকের আদর পায়। 

সবার ওপরে জেকে রাওলিং তার হ্যারি পটার সিরিজে সুনাম কুড়িয়েছেন ‘ইনভিজিবল ক্লোক’-এর কথা লিখে। সেটা এমনই এক আলখাল্লা, যা গায়ে চাপালেই ব্যস্! আপনি এক্কেবারে ভ্যানিশ! 

 

বিজ্ঞানীরা অনেক দিন ধরেই সচেষ্ট ছিলেন অদৃশ্য হওয়ার একটা উপায় বের করতে। আলোর কারসাজি ঘটিয়ে কীভাবে কোনো কিছুকে অদৃশ্য করে ফেলা যায়, তাই নিয়ে চলছিল দীর্ঘ গবেষণা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘মিরর’-এর প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, সেই কাজে অনেক দূর এগিয়েছেন কানাডাবাসী বিজ্ঞানী হোসে আজানা ও তার গবেষক দল। 

আজানা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আমরা কোনো বস্তুকে দেখতে পাই তার গায়ে আলোর প্রতিফলন থেকেই। তাদের গবেষণায় তারা এই কাজটাই করতে চেয়েছেন, যাতে আলো কোনো বস্তু থেকে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে না এসে তা ভেদ করে চলে যায়। 
তেমন কোনো আচ্ছাদন তারা তৈরি করতে চাইছেন, যা কোনো ত্রিমাত্রিক বস্তুর ওপরে চাপা দিলে তাদের উদ্দেশ্য পূরণ হয়। আজানার মতে, কোনো সবুজ রঙের বস্তুকে অদৃশ্য করতে হলে সেই আচ্ছাদন আলোকে প্রথমে নীল রঙে পরিণত করবে, যাতে তা বস্তুকে ভেদ করে চলে যায়। তার পরে তা আবার সবুজে পরিণত হবে। 

এই পদ্ধতিতে ফাইবার অপটিক লাইন দিয়ে ডেটা ট্রান্সমিশনও সহজতর হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা। গবেষক দলের সদস্য লুইস রোমেরো কোর্টেস জানিয়েছেন, তাদের উদ্দেশ্য আলোকে বস্তুর মধ্য দিয়ে চালনা করানো। এই কাজে তারা প্রায় সাফল্যের সামনে।

তাহলে সেই দিন আসতে বেশি দেরি নেই, যখন যে কেউ অদৃশ্য হওয়ার আলখাল্লা পরে বিভিন্ন গোলমাল ঘটাবে। তার দায় অবশ্য বিজ্ঞানের নয়। 

সূত্র: এবেলা