দেশে ডিজিটাল সেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে ‘শর্টকোড’ সেবা

  যুগান্তর ডেস্ক    ১৪ জুলাই ২০১৮, ১৩:০৯ | অনলাইন সংস্করণ

দেশে ডিজিটাল সেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে ‘শর্টকোড’ সেবা

বাংলাদেশ দ্রুত গতির ডিজিটাল সড়কে উঠে গেছে। খুব অল্প সময়ে দেশে চালু হয়েছে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক নানান প্রতিষ্ঠান। তাদের সেবা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দেয়া, গ্রহণযোগ্যতা এবং সহজলোভ্য করার জন্য নানান কর্মপরিকল্পনা করতে হয় এসব প্রতিষ্ঠানগুলোকে। এসব কর্মপরিকল্পনার অন্যতম একটি অংশ ‘শর্টকোড’ সেবা।

ফোন কল সেবার সংক্ষিপ্ত হলো শর্টকোড। লম্বা সিরিয়ালের নম্বরে ফোন না করে সংক্ষিপ্ত একটি নম্বরে কল করা যায় নিমিষেই। ছোট সংখ্যার নম্বর বলে এটি মনে রাখাও সহজ। দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জরুরী বিভাগ এই সেবাগুলো দিচ্ছে। তবে এসব নম্বর ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করার সুযোগ নেই।

প্রাতিষ্ঠানিক, দাফতরিক, ব্যবসায়িক ও মোবাইলফোন বা সংশ্লিষ্ট অপারেটররা তাদের সেবাদানের সুবিধার্থে এই শর্টকোড ব্যবহার করে থাকে। প্রচলিত টেলিফোন নম্বর থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট ৩ থেকে ৫ বা ৬ ডিজিটের ফোন নম্বরগুলোই বর্তমানের আলোচিত শর্টকোড। তবে দেশ অনুযায়ী এটি ভিন্নও হতে পারে।

বর্তমানে ছোট বড় যে কোনো প্রতিষ্ঠান নিজস্ব সেবাদানে (মার্কেটিং এবং প্রমোশনস, অ্যালার্ট অ্যান্ড নোটিফিকেশন, টু ফ্যাক্টর অথনটিকেশন ইত্যাদি) শর্টকোড ব্যবহার করে কল সেন্টার বা কনটাক্ট সেন্টার স্থাপন করছে।

যেখানে এই কোডগুলোতে কল করে বা এসএমএস পাঠিয়ে গ্রাহক তার প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করছেন। অনেক সময় তার বিপরীতটাও ঘটছে।

বিশ্বব্যাপী তিন ধরনের শর্টকোডের প্রচলন রয়েছে- গোল্ডেন শর্টকোড, ডেডিকেটেড শর্টকোড ও শেয়ারড শর্টকোড। নিয়ম মাফিক আইএসপি-টিএসপি (ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান) এবং পিএসটিএন (ফিক্সড ফোন) অপারেটররাই দেশে একমাত্র শর্টকোড পার্ক করে থাকে।

বাংলাদেশ টেলিকম রেগুলারেটি কমিশন (বিটিআরসি) দুই ধরনের সেবার জন্য শর্টকোড দিয়ে থাকে। একটি হলো ব্যবসায়িক আর দ্বিতীয়টি হলো অব্যবসায়িক। বিটিআরসির নির্দিষ্ট ফি ও নির্ধারিত ফরমে আবেদন করে শর্টকোড বরাদ্দ নেওয়া যায়।

ক্যাটাগরি এ-ব্যবসায়িক শর্টকোডের বরাদ্দ ফি ১ লাখ এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৫০ হাজার টাকা। ব্যাংকিং সেক্টরগুলো সাধারণত এই সেবা নিয়ে থাকে।

ক্যাটাগরি বি হলো অব্যবসায়িক শর্টকোড। এর বরাদ্দ ফি ৫০ হাজার এবং নবায়ন ফি ২৫ হাজার টাকা। ই-হেলথ, ই-এডুকেশন, ই-গভর্নেন্স এ জাতীয় সেবাগুলো এই ক্যটাগরির আওতায় দিয়ে থাক।

বিটিআরসি আগে ৩ বা ৪ ডিজিটের শর্টকোড বরাদ্দ দিলেও বর্তমানে ৫ ডিজিটের নম্বর বরাদ্দ দিয়ে থাকে।

৩, ৪ বা ৫ ডিজিটের নিজস্ব শর্টকোড রয়েছে মোবাইল অপারেটরদের । মূলত নিজেদের সেবা দেওয়ার জন্যই তারা নিজস্ব শটকোড ব্যবহার করে থাক। একজন মোবইল অপারেটরের শর্টকোড অন্য মোবাইল অপারেটর ব্যবহার করতে পারে না।

মোবাইল অপারেটররা নানা ধরনের ভ্যালু অ্যাডেড (ওয়েলকাম টিউন, কলার টিউন ইত্যাদি) সেবা প্রদান করতে নিজস্ব শর্টকোড ব্যবহার করে থাকে।

এই শটকোডের মাধ্যমে তারা নানারকম রেজিস্ট্রেশন, ভোটিং, পোলিং, কুইজ এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। এগুলোর মাধ্যমে পরীক্ষার আসন বিন্যাস, ফলাফল প্রকাশসহ অনেক কিছুই জানানো যায়।

তবে বিটিআরসি থেকে শর্টকোড বরাদ্দ নিলেই কিন্তু তা ব্যবহার করা বা সেবা দেওয়া যায় না।

দেশের যেকোনও জায়গায় সেবা দিতে সক্ষম আইপিটিএসপি বা পিএসটিএন অপারেটরের কাছ থেকে সেবা নিতে হয় যাদের উন্নত ও পরিষ্কার ভয়েস কল থাকতে হবে এবং কলড্রপের হার হবে শূন্য।

এ ধরনের কাজে দেশের অনেক প্রতিষ্ঠানই সেবা দিয়ে যাচ্ছে। তবে এর মধ্যে অন্যতম হলো আম্বার আইটি। প্রতিষ্ঠানটি আইটি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, করপোরেট ও সরকারের বিভিন্ন দফতরে বা প্রকল্পে শর্টকোডের প্রযুক্তি সেবা দিয়ে থাকে।

সেবা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ব্র্যাক ব্যাংক, বিকাশ, সিটি ব্যাংক, ইউসিবিএল ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক ও লংকাবাংলা। এছাড়া সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ হেল্পলাইন, তথ্যআপার হেল্পলাইন বা শর্টকোডে আম্বার আইটি সেবা দিয়ে থাকে। বাংলালায়ন এবং ওলোতেও শর্টকোড সেবা দিচ্ছে আম্বার আইটি।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী আমিনুল হাকিম বলেন, আম্বার আইটির বিশেষত্ব হলো এর রয়েছে ডেডিকেটেড সাপোর্ট টিম, ২৪ ঘণ্টা কাস্টমার কেয়ার, দক্ষ টিম।

শর্টকোড ব্যবহারকারী গ্রাহক বা প্রতিষ্ঠান তাদের সব তথ্য পোর্টালে দেখতে পাবেন বলে তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, সেবা প্রদানের জন্য এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে শর্টকোড বরাদ্দ দিয়েছে কমিশন। ন্যাশনাল নাম্বারিং প্ল্যান ২০০৫ অনুযায়ী, বরাদ্দ দেয়া এ নম্বরগুলো আন্তঃঅপারেটর শর্টকোড।

এর মধ্যে টোল ফ্রি শর্টকোডও রয়েছে। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে মোবাইল ফোন কিংবা ফিক্সড ফোন থেকে এসব শর্টকোডের মাধ্যমে বিনামূল্যে সেবা পাবেন যে কেউ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter