অবৈধ সিম বিক্রির অভিযোগে গ্রামীণফোনের ২ কর্মকর্তা আটক

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৭ অক্টোবর ২০১৮, ১৫:১০ | অনলাইন সংস্করণ

অবৈধ সিম বিক্রির অভিযোগে গ্রামীণফোনের ২ কর্মকর্তা আটক
অবৈধ সিম বিক্রির অভিযোগে গ্রামীণফোনের ২ কর্মকর্তা আটক

কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের নামে ইস্যু করা সিম বাইরে অবৈধভাবে বিক্রি করার অভিযোগে গ্রামীণফোনের বিজনেস সেলস বিভাগের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ সৈয়দ তানভীরুর রহমান ও পরিবেশক তৌফিক হোসেন খান পলাশকে আটক করেছে র‌্যাব-৪।

র‌্যাব-৪ এ দায়িত্বরত সিনিয়র এএসপি মোহাম্মদ সাজিদুল ইসলাম বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের চলন্তিকা রোড থেকে বিপুল পরিমাণ ‘অবৈধ সিমসহ’ তাদের আটক করা হয়।

সাজিদুল ইসলাম বলেন, আটক দুজন বিভিন্ন কোম্পানির নামে গ্রামীণফোনের ইস্যু করা করপোরেট সিম বাইরে বিক্রি করছিল। যে কোম্পানির নামে সিম বিক্রি হচ্ছিল, তারা বিষয়টি জানতও না। আর এসব সিম চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক এএসপি মিজানুর রহমান জানান, বিভিন্ন কোম্পানির নামে কর্পোরেট সিম ইস্যু করে বাইরে বিক্রি করছিল একটি চক্রটি।

তিনি বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের দু’জনকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সিমও জব্দ করা হয়।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা আরও জানান, বিভিন্ন কোম্পানির নামে কর্পোরেট সিম ইস্যু করে তা বাইরে বিক্রি করছিল একটি চক্র। সম্প্রতি একটি নাম্বার থেকে কল করে এক বিদেশি নাগরিকের কাছে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। সেই তদন্তের সূত্রধরে এ চক্রটি শনাক্ত করে সৈয়দ তানভীরুর ও তৌফিককে আটক করা হয়।

সিমের ভুয়া রেজিস্ট্রেশন দিচ্ছে গ্রামীণফোন!

গ্রামীণফোন সেল সেন্টারের সহযোগিতায় একটি প্রতারক চক্র বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে সিমের ভুয়া রেজিস্ট্রেশন করছে। ওই সিমগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে।

যুগান্তরের অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিরপুরে অবস্থিত বিকাশ এজেন্ট ও সিম বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘মোনাডিক্স বাংলাদেশ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রামীণফোনের কর্মকর্তারা ৪২টি কোম্পানির নামে একদিনে ৮৮৬টি সিম রেজিস্ট্রেশন করেছে।

সব সিমই কর্পোরেট সিম হিসেবে বিক্রি দেখানো হয়েছে। অথচ ওইসব প্রতিষ্ঠান জানে না যে, তাদের নামে অবৈধভাবে সিম রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে।

সম্প্রতি শ্রীলংকান এক নাগরিকের কাছে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবির ঘটনা অনুসন্ধান করতে গিয়ে এসব অবৈধ সিমের সন্ধান পেয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও ভাসানটেক থানা পুলিশ।

এদিকে প্রতারণার অভিযোগে গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রতারিত প্রতিষ্ঠানগুলো। এরই মধ্যে প্রতারিতদের কেউ কেউ র‌্যাব-পুলিশের কাছে অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগের সূত্র ধরে তদন্ত চালাচ্ছে র‌্যাব-পুলিশ।

প্রতারিত স্বপ্ন এগ্রো ফার্মের প্রোপ্রাইটর মোহাম্মদ আমিনুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, ৩১ জানুয়ারি গ্রামীণফোনের ধানমণ্ডি সেল সেন্টার থেকে আমার প্রতিষ্ঠানের নামে ২০টি কর্পোরেট সিম কিনি।

৫ অক্টোবর শুক্রবার র‌্যাব আমাদের জানায়, আমাদের প্রতিষ্ঠানের নামে আরও অতিরিক্ত সিম অবৈধভাবে রেজিস্ট্রেশন করে রেখেছে গ্রামীণফোন। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, আমাদের নাম ব্যবহার করে ২০০ সিম রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে শনিবার র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক চৌধুরী মঞ্জুরুল কবিরের কাছে অভিযোগ দিয়েছি। এ নিয়ে গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে মানহানি ও প্রতারণার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

গ্রামীণফোন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সিমের ভুয়া রেজিস্ট্রেশনকারী মোনাডিক্স বাংলাদেশের কর্মকর্তা মুশফিকুল হাসান ওরফে হাসনাতের সঙ্গে পরিচয় গোপন করে কথা বলেন যুগান্তর প্রতিবেদক।

তিনি যুগান্তরকে বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের ডিস্ট্রিবিউটর তৌফিক ও আইটি বিশেষজ্ঞ তানিয়া গ্রামীণফোন কর্মকর্তা তানভীনুর রহমানসহ অন্যদের যোগসাজশে ভুয়া নামে সিম রেজিস্ট্রেশন করেছে।

দীর্ঘদিন ধরেই গ্রামীণফোন ও মোনাডিক্স বাংলাদেশের কর্মকর্তারা ভুয়া সিম রেজিস্ট্রেশন করছিলেন। স্বপ্ন এগ্রো ফার্মের নামে গত জুনে ২০০ সিম অবৈধভাবে অ্যাকটিভ করা হয়।

হাসনাত বলেন, শুক্রবার র‌্যাব কর্মকর্তারা আমাদের অফিসে আসেন। তারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পর আমাকে র‌্যার-৪-এর কমান্ডিং অফিসার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবিরের কাছে নিয়ে যায়।

আমি তাকে জানাই, তানিয়া নামের এক মেয়ে ভুয়া নামে সিম বেশি রেজিস্ট্রেশন করত। সে এখন চাকরি ছেড়ে একটি কলেজে যোগ দিয়েছে। আমিও চাকরি ছেড়ে দেব। চাকরি ছেড়ে দেয়ার আগে বিষয়টি আপনাদের ধরিয়ে দিয়ে যাই।

হাসনাত জানান, কয়েকদিন আগে ভাসানটেক থানার এসআই মহেশ চন্দ্র সিংহ আমাদের অফিসে আসেন। তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চান, গ্রামীণফোন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এখান থেকে ভুয়া নামে সিম রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে।

ওই সিম দিয়ে এক শ্রীলংকান নাগরিককে হুমকি দেয়া হয়েছে। তখন মোনাডিক্স কর্তৃপক্ষ জানায়, এখানে তো অনেকে চাকরি করেছেন। তাদের মধ্যে হাসনাত নামের একজন ছিলেন।

তিনিও চাকরি ছেড়ে ৪-৫ মাস আগে নড়াইল চলে গেছেন। আমি তখন অফিসে ছিলাম।

জানতে চাইলে র‌্যাব-৪-এর কমান্ডিং অফিসার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির যুগান্তরকে বলেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাতের নামে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি ও হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগে ১৯ সেপ্টেম্বর এক শ্রীলংকান নাগরিক ভাসানটেক থানায় জিডি করেন।

ওই জিডির বিষয়টি অনুসন্ধান করতে গিয়ে গ্রামীণফোনের ভুয়া সিম রেজিস্ট্রেশনের তথ্য পাওয়া গেছে।

বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

ভাসানটেক থানার ওসি মুন্সি সাব্বির আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, ঘটনাস্থল ভাসানটেক থানার মধ্যে নয়।

ওই স্থানটি ক্যান্টনমেন্ট থানার মধ্যে পড়েছে। তারপরও আমাদের থানায় জিডি হয়েছে। জিডির তদন্ত করছেন এসআই মহেশ চন্দ্র সিংহ। বিষয়টি নিয়ে তিনিই ভালো বলতে পারবেন।

এসআই মহেশ চন্দ্র সিংহ বলেন, জিডির বাদী শ্রীলংকান নাগরিক এএইচ নিশান্তা ইউকুম একটি বায়িং হাউসে চাকরি করেন। ১৭ সেপ্টেম্বর শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাতের নামে ১০ কোটি টাকা দাবি করা হয়।

অন্যথায় তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। পরে ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি জিডি করেন। ইউকুমকে যখন হত্যার হুমকি দেয়া হয় তখন ওই সিমটির অবস্থান ছিল মাদারীপুরের রাজৈর এলাকায়।

এসআই মহেশ চন্দ্র সিংহ আরও বলেন, গ্রামীণফোনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছাড়া এভাবে সিম রেজিস্ট্রেশন করা সম্ভব নয়।

জানতে চাইলে গ্রামীণফোন হেড অফিসের ম্যানেজার (অ্যাডমিন) রাজিব হাসান যুগান্তরকে বলেন, গ্রামীণফোন অনেক বড় প্রতিষ্ঠান।

এ প্রতিষ্ঠান কোন শাখা থেকে কে কী ধরনের অপকর্মে লিপ্ত তা সহজেই বলা সম্ভব না। তাছাড়া বিষয়টি নিয়ে যেহেতু র‌্যাব ও পুলিশ তদন্ত করছে, তাই এ নিয়ে এ মুহূর্তে কিছু বলতে চাচ্ছি না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×