logo
চীনের সিল্করোড বাণিজ্য শুরু
বেইজিংয়ের ট্রেন ইরানে
    |    
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ০০:০০:০০
বহুল আলোচিত সিল্করোড দিয়ে প্রথমবারের মতো বাণিজ্য শুরু করল চীন। সোমবার বেইজিংয়ের একটি ট্রেন এই রোড দিয়ে ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছেছে। গত ২৯ জানুয়ারি এই ট্রেনটি চীনের জিনজিয়াং প্রদেশ থেকে রওনা দিয়ে কাজাখস্তান ও তুর্কমেনিস্তান হয়ে তেহরানে এসে পৌঁছায়। ১৪ দিনে ট্রেনটি ১০ হাজার ৩৯৯ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে। খবর সিনহুয়া ও প্রেস টিভির।

মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে রেলপথে চীনের এটিই পণ্য পরিবহনের প্রথম ট্রেন। এতে ৩২টি কন্টেইনার রয়েছে এবং প্রতিটি কন্টেইনারের ধারণক্ষমতা হচ্ছে ৪০ বর্গফুট। চীন দীর্ঘদিন ধরে ‘নতুন সিল্ক রোড’র মাধ্যমে যোগাযোগের যে উচ্চাকাক্সক্ষা পোষণ করে আসছিল শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবের মুখ দেখেছে। এরই মধ্যে ই ওয়াং শহরের সঙ্গে রেলপথে জার্মানির ডুইসবার্গ ও স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদ যুক্ত হয়েছে।

২০১৩ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নতুন ‘সিল্ক রোড ইকোনমিক বেল্ট এবং সমুদ্র সিল্ক রোড’ উদ্বোধন করেন, যাতে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের সঙ্গে শক্তিশালী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়।

এরই অংশ হিসেবে মহাসড়ক, রেলপথ ও বিমানবন্দর নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পসহ এশিয়ায় যোগাযোগের অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্য চীন এরই মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার কোটি ডলারের তহবিল গঠন করেছে। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এবং দেশটির সঙ্গে ১৫টি দেশের স্থল ও জলসীমা রয়েছে।

নতুন সিল্ক রোড প্রকল্পে ইরান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। আর তা চীনের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরেশিয়ার যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই প্রকল্পে ইরানও আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

আগামী ছয় বছরে ইরান নতুন সিল্করোডে ৬০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ‘সিল্ক রোড’ হলো প্রাচীনকালে চীন থেকে মধ্য এশিয়া হয়ে দক্ষিণ এশিয়া, পশ্চিম এশিয়া তথা ইউরোপে আর উত্তর আফ্রিকায় যাওয়ার একটি বাণিজ্যের স্থল পথ। এই পথে প্রচুর পরিমাণে চীনের রেশম আর রেশমী কাপড় পশ্চিম অঞ্চলে পাঠানো হয়েছিলো বলে এই পথ ‘সিল্ক রোড’ নামে সুপরিচিত। প্রত্নতাত্ত্বিক খনন থেকে আবিষ্কৃত হয়েছে যে, ‘সিল্ক রোড’ খৃষ্টপূর্ব প্রথম শতকে চীনের হান রাজবংশের আমলে মোটামুটি গড়ে উঠে। তখনকার ‘সিল্ক রোড’ বেয়ে আজকের আফগানিস্তান, উজবেকিস্তান, ইরান পর্যন্ত যাওয়া যায়। সবচেয়ে দূরে মিসরের আলেক্জান্দ্রিয়া শহর পর্যন্ত যাওয়া যায়।