ভাষা শহীদ জব্বারের পরিবারের দৈন্যদশা

দিন কাটছে জীর্ণ কুঠিরে

প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  তফাজ্জল হোসেন, গফরগাঁও

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে ভাষা শহীদ আবদুল জব্বারের গ্রামের বাড়িতে অরক্ষিত শহীদ মিনার

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার শহীদ আবদুল জব্বারের পরিবারের সদস্যদের দিন কাটছে রাজধানীর তেজগাঁও থানার তেজকুনি পাড়ার জরাজীর্ণ কুঠিরে। শহীদ জব্বারের পৈতৃক বাড়ি গফরগাঁও উপজেলার রাওনা ইউনিয়নের পাঁচুয়া গ্রামেও নেই কোনো জায়গা জমি। সরকারের কাছ থেকে বরাদ্দ পাওয়া সাড়ে পাঁচ শতাংশ জমিতে জীর্ণ কুঠিরে শহীদ জব্বারের একমাত্র ছেলে নূরুল ইসলাম বাদল তার পরিবার পরিজন নিয়ে দিন কাটাছেন কোনো রকমে। বরাদ্দ পাওয়া জমিতে অর্থঅভাবে কোনো ভবন নির্মাণ করতে পারছে না ছেলে মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম বাদল। ভবন নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে সরকারের কাছে বহু আবেদন নিবেদন কোনো সাড়া পাচ্ছে না শহীদ জব্বারের পরিবার। ভাষা আন্দোলনে আবদুল জব্বার শহীদ হওয়ার পর তার স্ত্রী আমেনা বেগম ছেলে নূরুল ইসলাম বাদলকে নিয়ে চলে যান ভারতের সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট উপজেলার শিমুলকুচি গ্রামে। সেখানে দ্বিতীয় বিয়ে করার পর নানা অভাব অনটনে কাটছিল তাদের সংসার। শহীদ আবদুল জব্বারের একমাত্র সন্তান নূরুল ইসলাম বাদল জানান, সেনাবাহিনীতে চাকরি শেষে পেনশনের টাকা দিয়ে বরাদ্দকৃত জমিতে একটি টিনসেড ঘর নির্মাণ করেছি। বর্তমানে স্ত্রী, দুই মেয়ে, এক ছেলে ও পুত্রবধূকে নিয়ে রাজধানীর এই জীর্ণ কুঠিরে এখন বসবাস করে আসছি। আর শহীদ আবদুল জব্বারের ছেলে হিসেবে প্রতি মাসে ১০ হাজার করে সরকারি টাকা ভাতা পাচ্ছি। এদিয়ে কোনো রকমে চলছে আমাদের সংসার। শহীদ আবদুল জব্বারে ছেলে নূরুল ইসলাম বাদল আরও দাবি করে বলেন, আরেকবার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে চাই। এদিকে শহীদ আবদুল জব্বারের জন্মভূমি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাঁচুয়া গ্রামে ২০০৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি এডিপির অর্থায়নে জেলা পরিষদের বাস্তবায়নে শহীদ জব্বার স্মৃতি গ্রন্থাগার ও জাদুঘরটি উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ দশ বছর পেরিয়ে গেলেও ভাষা শহীদ আবদুল জব্বার স্মৃতি গ্রন্থাগার ও জাদুঘরটি আজও পূর্ণাঙ্গতা পায়নি। পাঁচুয়ার নাম পরিবর্তন করে গেজেটে অন্তর্ভুক্তি হয়নি জব্বার নগরের নাম। ভাষা শহীদ আবদুল জব্বার ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার রাওনা ইউনিয়নের পাঁচুয়া গ্রামে ১৯১৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম হাসেন আলী শেখ। মাতার নাম সাফাতুন নেছা। আবদুর জব্বার ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে হাজার হাজার ছাত্র-জনতার সমাবেশে যোগ দেন। আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ গুলি চালালে গুলিবিদ্ধ হয়ে আবদুল জব্বার গুরুতর আহত হন। পরে ওই রাতেই (২১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।