দল যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই চূড়ান্ত

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সোহেল আহসান

ছাত্রজীবন থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অভিনেতা আকবর হোসেন পাঠান ফারুক। এক সময় রাজনীতির পাশাপাশি সিনেমায় অভিনয় শুরু করেন। দেশ স্বাধীনের পর সিনেমাতেই মনোযোগী হন। 

পাশাপাশি রাজনীতির সঙ্গেও সম্পৃক্ততা ছিল তার। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে আওয়ামী লাীগের প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন এ অভিনেতা।

মনোনয়নপ্রাপ্তি, নির্বাচন ভাবনাসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে আজকের ‘হ্যালো...’ বিভাগে কথা বলেছেন তিনি

ছাত্রজীবন থেকেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত আপনি। মাঝে সিনেমায় ব্যস্ত হন। এখন আবার সক্রিয় রাজনীতিতে। এই পথচলা সম্পর্কে বলুন?

- ৬৬’র ছয় দফা আন্দোলন থেকেই সক্রিয় হই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে। এরপর বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, স্বাধীনতা যুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা, জাতীয় চারনেতা হত্যা- এই সময়গুলোতে আমি প্রতিবাদী হিসেবে মাঠে ছিলাম।

আওয়ামী লীগের দুঃসময়েও দলের কথা বলেছি, রাজনীতি করেছি। আমার আজকের এই মনোনয়ন আরও আগেই পাওয়ার কথা ছিল। আজকের এ অবস্থানে আসার জন্য আমার প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে কৃতজ্ঞতা জানাই।

রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা অবস্থায়ই হঠাৎ সিনেমায় এসেছিলেন কেন?

-আসলে নিজের ইচ্ছায় সিনেমায় আসিনি। সিনেমায় আসার আগে আমার বিরুদ্ধে ৩৭টি মামলা দেয়া হয়েছিল। তাই বন্ধু-বান্ধবদের পরামর্শেই সিনেমায় কাজ শুরু করি এবং কীভাবে যেন এই অঙ্গনে স্থায়ীও হয়ে যাই। কিন্তু সবশেষে আবারও রাজনীতিতে সক্রিয় হই।

আজকের এ অবস্থানে আসতে বিলম্ব হল কেন?

-বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আমরা রক্তাক্ত প্রান্তরে ছিলাম। আমি মনে করতাম, চলচ্চিত্র থেকেও যে দলের জন্য কাজ করছি সেটা নেতারা জানতেন। কিন্তু আমার ভুল ধারণা ছিল। এ নির্বাচনে আমাকে মনোনয়ন দিয়ে বাধিত করেছেন আমাদের প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা।

এর আগে হয়তো আমিও দলকে ঠিকমতো সময় দিতে পারিনি। ছন্নছাড়া জীবন ছিল আমার। বিয়ে করেছি অনেক পরে। এছাড়া একবার মনোনয়নের জন্য মনোনীতও হয়েছিলাম। কিন্তু সেটা অন্যজনকে দিয়েছিলাম।

দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্তির পর চলচ্চিত্রাঙ্গনের লোকজনের প্রতিক্রিয়া কেমন পেলেন?

-বেশ ভালো উৎসাহ পাচ্ছি তাদের কাছে থেকে। তারা আমাকে ভালোবাসেন। অনেকেই ফোন করে শুভ কামনা জানিয়েছেন। তারা সবাই আমার এবং আওয়ামী লীগের জন্য মাঠে নামবেন। সবাই দেখিয়ে দেবেন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের লোক কীভাবে জড়িত আছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় শিল্পীরা যেভাবে সক্রিয় ছিলেন এখনও সে রকম কন্ট্রিবিউট করবেন তারা।

নির্বাচনে জিতলে চলচ্চিত্রাঙ্গনের জন্য কী কী করতে চান?

-এটা এ মুহূর্তে বলা কঠিন। কারণ সবে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছি। নির্বাচন কমিশন এবং শেষে নির্বাচন- অনেক কিছুই বাকি। তবে একটা কথা বলতে পারি, পার্লামেন্টে গেলে তো কথা বলা যায়। আমার লক্ষ্য থাকবে মানুষের জন্য কথা বলা। আমার নেত্রী যদি উন্নয়নের জন্য মাটিও কাটতে বলেন আমি তাই করব।

আপনার মনোনয়ন পরিবর্তন নিয়ে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে...

-আমি এ বিষয়ে কোনো খবর পাইনি দল থেকে (গতকাল পর্যন্ত)। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। দলকে জিতিয়ে আনার জন্য সর্বোচ্চ পরিশ্রম দিয়ে কাজ শুরু করেছি।

যদি দলীয় মনোনয়ন বাতিল করা হয় তখন কী করবেন?

-দল যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই চূড়ান্ত। আগেও দলের সঙ্গে ছিলাম, এখনও আছি, ভবিষ্যতেও থাকব।

কিছুদিন আগে আপনার নেতৃত্বে ‘বাঙালি সাংস্কৃতিক সংঘ’ নামে একটি সংগঠন যাত্রা শুরু করেছে। এটি কি কার্যক্রম চালাবে?

-নতুন প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে তুলে ধরা, আর্ট কালচারকে তুলে ধরা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা, এসব লক্ষ্য নিয়েই এ সংগঠন সক্রিয় থাকবে। মোটকথা উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য সংগঠনটি নিয়মিত কাজ করে যাবে।

ঢাকাই সিনেমা নিয়ে প্রতারণার কারণে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার বিরুদ্ধে আপনার অবস্থান ছিল। কিন্তু সম্প্রতি এ প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে আপনার দেয়া প্রশংসামূলক বক্তব্য প্রচার হয়েছে। এ নিয়ে আপনার অবস্থান কী?

-এ অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। আমি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্য ইচ্ছা প্রকাশও করেছিলাম। রাজনৈতিক ব্যস্ততার জন্য যেতে পারিনি। কিন্তু ভিডিও বার্তা দিয়েছিলাম। আমি আসলে চলচ্চিত্রাঙ্গনে বিভাজন চাই না। সবাই একসঙ্গে না থাকলে বিভাজন দূর করা সম্ভব নয়।