৭১’এর রনাঙ্গনে সশস্ত্র যোদ্ধা ছিলেন বুলবুল

প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আনন্দনগর প্রতিবেদক

১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী যখন ঢাকা আক্রমণ করল, তখন সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেকেই দেশ ছেড়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

অনেক গানের শিল্পী নিজ পেশায় থেকে গান গেয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের উৎসাহ জুগিয়েছেন। কেউ কেউ দেশে থাকলেও নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ছিলেন ব্যতিক্রম।

তিনি পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছিলেন। সশস্ত্র যুদ্ধের অনেক ঘটনাই ছিল তার স্মৃতিতে জমা। জীবদ্দশায় তেমনই অনেক স্মৃতির কথা এক সাক্ষাৎকারে যুগান্তরকে জানিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের অনেক স্মৃতিই মনে গেঁথে আছে। এক বিহারির বাসা থেকে বন্দুক চুরি করে যুদ্ধ শুরু করেছিলাম। এরপর বড় ভাইদের কাছ থেকে গ্রেনেড চুরি করি। আমি যে টিমে যুদ্ধ করতাম সেখান থেকে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে দলছুট হয়ে পড়ি। এরপর ভারতের আগরতলা হয়ে মেঘালয়ে চলে যাই প্রশিক্ষণ নিতে। সেখানে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়ে ঢাকায় ফিরে মুজিব বাহিনীতে যোগ দিই।

২ অক্টোবর আমি আবারও সহযোদ্ধা মানিক, মাহবুব ও সারোয়ারকে নিয়ে রসদ সংগ্রহে ভারতে যাওয়ার সময় কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাঝামাঝি চেকপোস্টের কাছে পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকারদের হাতে ধরা পড়ি। আমাদের পাকিস্তানি ক্যাম্পে নিয়ে তিন ঘণ্টা ধরে নির্যাতন চালায়।

পরে আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে আলাদা করে ফেলা হয়। আমাকে নিয়ে যাওয়া হয় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন আলী রেজার কাছে। আলী রেজা অকথ্য ভাষায় গালাগাল দেন। শারীরিক অত্যাচার করেন।

পরে আবার চারজনকে একত্রে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারে পাঠান হয়। সেখান থেকে ১৭ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ছাড়া পাই।’