ছবি রিমেক কেবল আওয়াজেই সীমাবদ্ধ

  এফ আই দীপু ১০ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছবি রিমেক কেবল আওয়াজেই সীমাবদ্ধ

প্রবাদ আছে ‘পুরনো চাল ভাতে বাড়ে।’ এ প্রবাদের সত্যতা মেলে অনেক জায়গাতেই। এই যেমন, ঢাকাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির পুরনো সব ছবির প্রতিই এখনও দর্শকদের আগ্রহ। এ আগ্রহকেই পুঁজি করে পুরনো ছবিই রিমেকের প্রতি ঝুঁকছে ঢাকাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির নির্মাতারা।

ঝুঁকছে বললে ভুল হবে, বলতে হবে দর্শকদের চাহিদার বিষয়টিকে পুঁজি করেই পুরনো জনপ্রিয় পাওয়া ছবি নির্মাণের আয়োজনে নামছেন তারা। বলিউডে এখন রিমেক ছবির জয়জয়কার। অধিকাংশ দক্ষিণী ছবিই রিমেক করছেন বলিউডের নির্মাতারা।

এসব রিমেক ছবিও তুমুল আলোড়ন তুলছে দর্শক মহলে। সালমান, শাহরুখ, অক্ষয়, হৃত্বিক রোশন থেকে শুরু করে জনপ্রিয় সব তারকাই রিমেকের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। পাশের দেশের এ হাওয়া-ই লেগেছে ঢাকাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে।

একটি ক্ষয়ে যাওয়া ইন্ডাস্ট্রিকে সচল রাখতে পুরনো ছবিকে আবারও নতুন করে নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত যুগোপযোগী। কিন্তু হতাশার কথা হচ্ছে, ঢাকাই ছবির সোনালি যুগে যেসব ছবি পর্দা কাঁপিয়েছে, সেগুলোই পুনর্নির্মাণ করার কথা কেবল ঘোষণা পর্যন্তই। বাস্তবে সেটি আর পর্দায় গড়াচ্ছে না। এছাড়াও ইদানীং পুরনো নামে নতুন ছবি নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। উপযুক্ত নাম খুঁজে না পেয়ে অনেকেই পুরনো সফল ছবির নামের পেছনে ছুটে চলছেন।

গত দুই বছরে নির্মিত ‘বাদশা’, ‘সম্রাট’, ‘অঙ্গার’, ‘নবাব’ ছবিগুলো আগে নির্মিত হওয়ার ছবির নামের ফায়দা নিয়েছে মাত্র। গল্প থেকে শুরু করে শিল্পী পর্যন্ত কোথাও কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। পুরনো নামের প্রতিই যেন অনেক নির্মাতার ক্ষিধে।

মাস কয়েক আগে কালজয়ী ‘চাঁদনী’ ছবিটিও রিমেক করতে চেয়েছিলেন এক নির্মাতা। কিন্তু এ নামটি তার নেয়ার সাধ্য হয়নি। এছাড়াও দর্শকনন্দিত অনেক ছবি রিমেক করার উদ্যোগ নিচ্ছেন কেউ কেউ। কিন্তু এখন পর্যন্ত কারও প্রচেষ্টাই শুটিং ফ্লোর অবধি গড়াতে পারেনি। কেবল ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।

ঢাকাই ছবির বিতর্কিত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া দু-দুটো রিমেকের ঘোষণা দিয়েও অগ্রগতি জানাতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রথমে তারা কাজী হায়াতের ব্যবসাসফল ছবি ‘আম্মাজান’-এর রিমেক করা ঘোষণা দিয়েছিল।

নায়করাজের মৃত্যুর পর তার অন্যতম সেরা ছবি ‘অনন্ত প্রেম’ও রিমেকের ঘোষণা দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। বলা হয়েছিল পরিচালক হিসেবেই বাপ্পারাজকে নেয়া হবে। কিন্তু সেটি ঘোষণা পর্যন্তই। এরপর আর কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি। অবশ্য রিমেকের পথে আগেও হেঁটেছে জাজ।

জাকির হোসেন রাজুকে দিয়ে নির্মাণ করিয়েছেন ‘অনেক সাধের ময়না’। এটি ছিল কাজী জহিরের কালজয়ী ‘ময়নামতি’ ছবির রিমেক। অন্যদিকে রাজ্জাকপুত্র বাপ্পারাজ ‘বেঈমান’ ছবিটি রিমেক করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন একবার। সংবাদ মাধ্যমে ঘোষণাটি এসেছিল ফলা করে। এরপর আরও কোনো খবর নেই।

সম্প্রতি অনলাইন প্লাটফর্ম বঙ্গবিডি পাঁচটি ছবি রিমেক করার ঘোষণা দিয়েছে। ছবিগুলো হচ্ছে- ‘বেদের মেয়ে জোসনা’, ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘মোল্লা বাড়ীর বউ’, ‘গাড়িয়াল ভাই’ ও ‘নসিমন’। ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ নির্মাণের মধ্য দিয়ে তাদের এ কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছে। পাশাপাশি চলতি বছরই ছবিটি মুক্তি দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রশ্ন হচ্ছে, আদৌ কী সেটি করা হবে? না কি ঘোষণাতেই শেষ হবে রিমেকের স্বপ্ন? এ প্রসঙ্গে কথা হয় চিত্রপরিচালক জাকির হোসেন রাজুর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ঘোষণা দিয়ে ছবি না করা মানে কথার খেলাপ করা। কোনো জনপ্রিয় ছবি যদি রিমেক করার সাহস না থাকে তাহলে ঘোষণা দেয়ার প্রয়োজন কী। আর এসব ছবি নির্মাণে আসার আগে অবশ্যই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি থাকা আবশ্যক।’

বঙ্গবিডির রিমেকের ঘোষণা দেয়া পাঁচ ছবির মধ্যে ‘মোল্লা বাড়ীর বউ’, ‘মনের মাঝে তুমি’ ও ‘নসিমন’- এ তিন ছবিরই নায়ক রিয়াজ। ছবি রিমেকের বিষয়ে একটু ভিন্নমত প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘মোল্লা বাড়ীর বউ’ নামে ছবি নির্মিত হয়েছে। এ ছবি একটিই থাকবে বলে আমি মনে করি। ‘বেদের মেয়ে জোছনা’ কিংবা ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ প্রত্যেকটি আলাদা সত্ত্বার ছবি এবং ব্যবসা সফল। এর বাইরে রিমেক করা ছবির পক্ষপাতি আমি নই। কারা, কেন এসব করছেন আমি জানি না। তবে হয়তো ভালো কিছু দেখছেন তাই করছেন। এ নিয়ে পুরো বিষয় জানা যাবে রিমেক ছবির মুক্তির পর।’

বেদের মেয়ে জোছনা রিমেক হওয়ার খবর শুনে এর অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘বেদের মেয়ে জোছনা এখনই রিমেক করার সময় নয় বলে আমি মনে করি। ছবিটি এখনও মানুষ দেখছেন। ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এ ছবির। তবে আরও চার-পাঁচ দশক পর এ ছবির রিমেক হতে পারে।’

রিমেকের খবরে ‘মোল্লা বাড়ীর বউ’ ছবির পরিচালক জনপ্রিয় নির্মাতা ও অভিনেতা সালাহউদ্দীন লাভলু বলেন, ‘ছবি রিমেক বিষয়টি আমার কাছে বিশেষ কিছু নয়। তবে নির্মাতা বা লগ্নিকারীদের নতুন কিছু ভাবা উচিত। মোল্লা বাড়ীর বউ ছবিটি চৌদ্দ বছর আগে নির্মাণ করেছি ওই সময়ের গল্প এবং পরিবেশে। তাই ওই সময়ে ছবিটি জনপ্রিয় হয়েছে। সে ক্ষেত্রে এ ছবিটি বর্তমান সময়ের সঙ্গে কতটা যুক্তি আমার জানা নেই। সময়ের গল্প নিয়ে ছবি বানানো উচিত। আর যদি রিমেক করতেই হবে বলে নির্মাতারা মনে করেন তবে সঠিকভাবে যেন নির্মাণ করেন এটাই বলব। কেননা একটি ছবি রিমেক করা মানে আগের ছবির চেয়ে যেন কোনো ভাবে ত্রুটিযুক্ত না থাকে।’

এদিকে রিমেক ছবি নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ছবি নির্মাণের অনেক কারণের মধ্যে একটি হচ্ছে কোনো না কোনোভাবে দর্শকদের বিনোদন দেয়ার পাশাপাশি কোনো তথ্য জানান দেয়া। একটি ছবির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে গল্প। নব্বই দশক বা তার আগের বছরগুলোকে গল্পনির্ভর এবং তথ্যবহুল ছবি নির্মাণের যুগ বলা হয়ে থাকে। কিন্তু এখন আর সেই দিন নেই।

এ অঙ্গনে মেধারও ঘাটতি রয়েছে প্রচুর। তাই এখনকার লোকজন নতুন গল্প তৈরি না করে পুরনো গল্পকেই নতুনভাবে নির্মাণ করে নিজেদের মেধার ঘাটতি ঢাকতে চাইছেন বলেও অনেকে মনে করেন। আবার রিমেক করা কিছু ছবি চলে, কিছু চলে না। তাই পুরনো ছবি রিমেক করার সাহস অনেকেই করে উঠতে পারেন না। কেউ কেউ স্রেফ আওয়াজ দিতেই ক্ষান্ত। আওয়াজেই শেষ হয়ে যায় রিমেকের স্বপ্ন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×