বাবা দিবসের বিশেষ আয়োজন

  অভি মঈনুদ্দীন ১৬ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাবা দিবসের বিশেষ আয়োজন
বাবার ছবি হাতে ববিতা

আজ বিশ্ব বাবা দিবস। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম দিনটি উদযাপিত হয়। এরপর থেকে এটি নিয়মিতভাবে বাংলাদেশেও উদযাপিত হয়ে আসছে। দিনটিকে উপলক্ষ করে শোবিজ চলচ্চিত্রের তিন প্রজন্মের তিন নায়িকা বাবা নিয়ে তাদের স্মৃতিচারণ ও অনুভূতির কথা জানিয়েছেন।

আব্বাই অভিনয়ে উৎসাহ দিতেন

ফরিদা আক্তার পপি (ববিতা)

আমার বিয়ের মাত্র চার মাস পরই আমার আব্বা ইন্তেকাল করেন। বাবাকে ঘিরে প্রত্যেক সন্তানেরই অনেক স্মৃতি থাকে। আব্বা সবসময় আমাদের ছয় ভাই-বোনকে সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে বাসায় ফেরার কথা বলতেন।

আমার জীবনের সাফল্যের মূলমন্ত্র কিন্তু আব্বার কাছ থেকেই পাওয়া। এই যে আমি এত পরিপাটি থাকি, গুছিয়ে থাকার চেষ্টা করি, এটা আব্বার কাছ থেকেই পাওয়া। তিনি যখন অফিস থেকে আসতেন তখন আমরা সবাই তাকে পান বানিয়ে খাওয়াতাম। তার পা টিপে দিতে দিতে তখন সব আবদার করতাম। তিনি আমাদের সেই আবদার রাখতেন।

আব্বা অনেক সিনেমা দেখতেন। সিনেমা দেখে দেখে আমাদের মজার মজার গল্প বলতেন এবং সেসব গল্পে তিনি আমাদের অভিনয় করতে বলতেন। সেখান থেকেই কিন্তু অভিনয়ে আমার অনুপ্রেরণা আসা। পরবর্তীতে যখন আমি সিনেমার নায়িকা হিসেবে কাজ শুরু করি, তখনও তিনি আমাকে অনেক অনুপ্রেরণা দিতেন।

সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ সিনেমায় অভিনয়ের আগে আব্বাই সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে চিঠি আদান-প্রদান করতেন ইংরেজিতে। শুটিংয়ের সময় সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে তার চমৎকার একটি সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। আমার ইংরেজি শেখার খুব শখ ছিল বলে আব্বা আমাকে ছোটবেলায় একটি ডিকশনারি কিনে দিয়েছিলেন।

আমি তখন প্রথম শ্রেণীতে পড়ি। বাগেরহাটে থাকি সবাই। সবাই আমাকে রেখে মামার বাড়ি যাবে বেড়াতে। আমি বুদ্ধি করলাম কীভাবে আব্বাকে রাজি করান যায়।

আব্বা সন্ধ্যা নাগাদ বাসায় ফেরার সময় আমিই হারিকেন নিয়ে তাকে এগিয়ে আনতে গেলাম। আমাকে দেখে তিনি ভীষণ খুশি, কারণ তখন বিদ্যুৎ ছিল না। খুশি হয়ে বললেন, কী চাও মা? আমি বললাম আমাদের মামার বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যেতে হবে। আব্বা রাজি হলেন।

আমার ডাক নাম পপি। নামটি আব্বা এবং আমার মা উভয়ে মিলেই রেখেছিলেন। আব্বা আমার জীবনের আদর্শ। তাই আমার ইচ্ছা আমার মৃত্যুর পর যেন বনানী কবরস্থানে তার কবরেই আমাকে দাফন করা হয়।

পরবর্তীতে আব্বুর কারণেই অনেক সাহস পেয়েছি

সাদিকা পারভীন পপি

আমি রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে। তাই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের শুরুতে পরিবারের কারও তেমন কোনো সমর্থন ছিল না। আমার বাবা শুরু থেকেই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের বিপক্ষে ছিলেন। কিন্তু তারপরও যখন কাজ শুরু করেছি, একের পর এক ভালো ভালো গল্পের চলচ্চিত্রে কাজ করতে থাকি। তখন আব্বু আমাকে সমর্থন দেয়া শুরু করেন।

যে কারণে পরে আব্বুর অনুপ্রেরণাতেই আমি চলচ্চিত্রে নিজেকে আরও নিবেদিত করে কাজ শুরু করি। আমার অনেক চলচ্চিত্রে শুটিংয়ে আব্বু সঙ্গে গিয়েছেন এবং ধৈর্য ধরে আমার পাশে থেকেছেন। এটা অনেক কঠিন কাজ। কিন্তু আমার বাবা আমার জন্যই কষ্ট করেছেন।

আব্বু চুপচাপ স্বভাবের একজন মানুষ। প্রয়োজনের বাইরে তিনি কথা বলতে অভ্যস্ত নন। যথেষ্ট বিনয়ী একজন মানুষ। আব্বুর এই স্বভাবটাই আমি পেয়েছি। আমিও প্রয়োজনের বাইরে কথা বলতে পছন্দ করি না। সবাইকে বয়সানুযায়ী শ্রদ্ধা রেখে কথা বলি, স্নেহ করি। আমার আব্বুর জন্য সবাই দোয়া করবেন, যেন আব্বু সুস্থ থাকেন, ভালো থাকেন।

বাবার আগেই যেন পৃথিবী ছেড়ে আমি চলে যাই

বিদ্যা সিনহা মিম

আমার বাবা শিক্ষকতা পেশায় ছিলেন। তাই বিভিন্ন সময়ে যখন বাবার কর্মক্ষেত্রে আমি গিয়েছি, নিজ চোখে দেখেছি বাবাকে সবাই কত সম্মান করেন, ভালোবাসেন। আবার এখন বাবা যখন আমার সঙ্গে কোথাও যান তখন তিনি নিজ চোখে উপভোগ করেন সেই বাবার মেয়েকে দর্শক কতটা ভালোবাসছেন, শ্রদ্ধা করছেন।

বাবার বুক তখন আনন্দে ভরে যায়। আমারও চোখে তখন জল চলে আসে। অভিনয় দিয়ে দর্শকের মন জয় করা খুব সহজ কোনো কথা নয়। সেই কঠিন কাজটিই যখন করতে পেরেছি তখনই আমাকে নিয়ে বাবার আনন্দ হয় বেশি। বাবা আমাকে ছোটবেলায় ‘টুকটুকি’ বলে ডাকতেন। আবার একটু বড় হওয়ার পর ‘বাবু’ বলে ডাকা শুরু করেন। এখনও আমাকে বাবা বাবু বলেই ডাকেন।

এ বয়সে এসেও বাবার বাবু ডাকার মধ্যে ছোট্টবেলার সেই আদুরের ডাকটাই পাই আমি। লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার হওয়ার পর আমি প্রথম হুমায়ূন আহমেদ স্যারের নির্দেশনায় রিয়াজ ভাইয়ের বিপরীতে অভিনয় করে পাঁচ হাজার টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছিলাম। পুরো টাকাটাই তখন বাবার হাতে তুলে দিয়েছি। অবশ্য তারও আগে আমি যখন অষ্টম শ্রেণীতে বৃত্তি পেলাম বৃত্তির টাকাও বাবার হাতে তুলে দিয়েছিলাম।

বাবা আমার জীবনের পুরোটাতে এমনভাবে মিশে আছেন বাবা ছাড়া পৃথিবীতে আমি একটি দিনও কল্পনা করতে পারি না। আমার বাবা-মায়ের আগেই যেন ঈশ্বর আমাকে এই পৃথিবী থেকে নিয়ে যান।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×