হ্যালো...

কাউকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নিজের ব্যর্থতা ঢাকা যায় না

‘কুলি’ ছবি দিয়ে ১৯৯৭ সালে ঢাকাই সিনেমা জগতে প্রবেশ করেন চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপি। প্রথম ছবিতেই সফল। এরপর অনেক সুপারহিট ছবি উপহার দিয়েছেন। জয় করেছেন অসংখ্য তরুণ, ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীর মন। ক্যারিয়ারের এ যাত্রায় কখনই ক্লান্ত মনে হয়নি এ নায়িকাকে। পথ চলেছেন বুক ভরা দম নিয়ে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই দমে যেন কিছুটা ক্লান্তি ঝরে পড়ছে। সেটিও কাজ নিয়ে নয়, শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কিছু সহকর্মীর মিথ্যা রটনা নিয়ে। কী ঘটছে এ নির্বাচনের অন্তরালে? এমন প্রশ্ন এ নায়িকারও। শিল্পী সমিতির নির্বাচন, ভোটযুদ্ধ, বর্তমান ব্যস্ততাসহ প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে আজকের ‘হ্যালো...’ বিভাগে কথা বলেছেন তিনি

  যুগান্তর ডেস্ক    ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

* কয়েকদিন ধরে খুব বিতর্ক চলছে শিল্পী সমিতির নির্বাচন নিয়ে। আপনার পক্ষ থেকে কোনো আওয়াজ নেই, কেন?

** কী আওয়াজ দেব? শিল্পী সমিতি কি আর আগের মতো আছে? বলা হয়, এখন সিনিয়রদের এখানে ডেকে সম্মানের সঙ্গে আপ্যায়ন করা হয়। এটা ঠিক, কিছু সিনিয়রকে ডেকে এনে আপ্যায়ন করা হয়, আবার কিছু সিনিয়রকে অপমানও করা হয়। সবই স্বার্থের কারণে।

* কাকে অপমান করা হয়েছে? স্বার্থটাই বা কী?

** অপমান কাকে নয় শুধু, বলুন কাদেরকে করা হয়েছে। অনেক সিনিয়রই অপমানিত হয়েছেন। আমি কী সিনিয়র নই? মৌসুমী আপু কী সিনিয়র নন? রিয়াজ, ফেরদৌস এরা কী সিনিয়র নন? আরও অনেকেই আছেন। আমাদের হয়তো মানুষজন চেনেন, তাই আমাদের বিষয়গুলো খবরে আসে। অন্যদেরটা খবরে আসে না।

* আপনাদের অপমান করা হয়েছে। বিষয়টি খুলে বলবেন?

** কিছুদিন আগে সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক বলেছেন- আমি, রিয়াজ, ফেরদৌস চ্যারিটি শো থেকে পারিশ্রমিক নিয়েছি। এটা কী অপমানমূলক মন্তব্য নয়? আমরা তিনজনই তার সিনিয়র। তিনি কীভাবে এ ধরনের কথা বলেন?

* তাহলে বলতে চাইছেন, এ অভিযোগ মিথ্যা?

** একেবারেই মিথ্যা। আমরা যদি অর্থ নিয়ে থাকি তাহলে তিনি সেটির প্রমাণ দেখাক। কথা হচ্ছে একই শো থেকে তিনি অর্থ সংগ্রহ করেছেন। সেই অর্থের কতটা সমিতিতে জমা দিয়েছেন? যদি আমরা নিয়ে থাকি তাহলে নিশ্চয়ই তিনিও চ্যারিটি শোয়ের নামে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন? আমি যৌক্তিক প্রশ্ন করছি। কাউকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নিজের ব্যর্থতা ঢাকা যায় না।

* তাহলে আপনারা এটা নিয়ে যৌথ বিবৃতি দিলেন না কেন?

** যৌথ না হলেও আলাদা আলাদা দিয়েছি। তিনি যেহেতু সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন, আমরাও সংবাদমাধ্যম দিয়েই তার প্রতিবাদ করেছি। তাছাড়া নিচু মনের কারও সঙ্গে লড়তে যাওয়াটাও নিজের জন্য মানহানিকর বলে মনে করি। বিষয়টি নিয়ে তাই বাড়তি কিছু বলতে চাইনি। অনেক অনিয়ম আছে, যা আমরা জানি। এগুলো বললে শিল্পীদের সম্মান বলতে আর কিছু থাকবে না।

* সম্মান কি এখনও আছে বলে মনে করেন? এই সমিতির নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষ এখন শিল্পীদের নিয়ে ট্রল করেন...

** মানুষ এখনও শিল্পীদের সম্মান করেন। গুটিকয়েক ব্যর্থ শিল্পীর জন্য বাকিদের অসম্মান করা হয়, এটা সত্যি। তবে মানুষ এখন অনেক সচেতন। মিথ্যা বললে সেটাও বুঝতে পারেন তারা। ট্রল করা হয় তাদের নিয়ে, যারা স্বার্থের জন্য চলচ্চিত্রকে, সমিতিকে ব্যবহার করেন।

* কী ধরনের স্বার্থ? তারা কারা?

** তারা কারা, সেটা সবাই জানেন। নতুন করে তাদের চিনিয়ে দিতে হবে না। আর স্বার্থটা কী সেটা তো নির্বাচনকেন্দ্রিক খবরগুলো পড়লেই বুঝতে পারবেন পাঠক, দর্শকরা। এটা তো শিল্পী সমিতির নির্বাচন নয়, মনে হচ্ছে জাতীয় নির্বাচনেরও বেশি কিছু!

* আপনার ওতো নির্বাচনে অংশ নেয়ার কথা ছিল। করেননি কেন?

** কথা ছিল, এটা সত্যি। কিন্তু ব্যক্তিগত কিছু কারণে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে এসেছি। প্রথমত, আমার সময় কম। আমার ছোট বোন অস্ট্রেলিয়া থাকে। ওখানে তার কাছে যাওয়ার কথা ছিল। তাই সময় হবে না বলে নির্বাচনে অংশ নিতে পারিনি। তাছাড়া এ রকম কাদা ছোড়াছুড়ির মধ্যেও থাকতে চাইনি। সমিতির নির্বাচনটা আর আগের মতো নেই। যেটা উৎসব ছিল, সেটা এখন রীতিমতো যুদ্ধে পরিণত হয়েছে।

* সমিতির বর্তমান কমিটির প্রতি নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ আছে?

** সমিতির নামে গত দুই বছরে অনেক টাকা উঠানো হয়েছে। সেটির পরিমাণ ৫০ লাখেরও বেশি। কিন্তু সমিতিতে জমার পরিমাণ একেবারেই কম। সমিতির নামে উঠানো টাকাগুলোর হিসাব নেই। টাকাগুলো কোথায় গেল? এই প্রশ্ন কিন্তু কেউ করছে না। উত্তরও নেই। অন্যদের দিকে আঙুল তোলার সময় মনে রাখা উচিত বাকি তিনটে আঙুল নিজের দিকে তাক করা থাকে। অনেক অনেক অনিয়ম আছে, অযথা ব্যয় করা হয়েছে, যেগুলো না করে সমিতির ফান্ডে টাকাগুলো জমানো যেত। তাছাড়া ইচ্ছা করেই কিছু শিল্পীকে রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে হেয় করা হচ্ছে, যেটা একেবারেই অন্যায়। সবকিছুই করছে বর্তমান কমিটি। সাধারণ সম্পাদকের কথা বাদ দিলাম, তিনি এমনই। কিন্তু মিশা ভাই নিজেকে ধার্মিক ও নামাজি বলে দাবি করেন। তাহলে তিনি কীভাবে মিথ্যা অভিযোগ করেন কিংবা অন্যায়কে সাপোর্ট করেন?

* এসবের শেষ কোথায়?

** শেষ কোথায় তা জানি না। তবে শিল্পীদের মধ্যে এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো ও বিভাজন তৈরি করা মোটেও উচিত নয়। যারা করেন তাদের বয়কট করা উচিত। নাহলে শিল্পী সমাজের প্রতি সাধারণ মানুষের মনে ভুল ধারণার জন্ম নেবে।

* বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে?

** শুটিং করছি কয়েকটি ছবির। কাজ শেষ হয়ে আছে দুটি ছবির। ওয়েব সিরিজেও কাজের প্রস্তাব আছে। সবকিছুই

স্বাভাবিক চলছে। এই কাজগুলো নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চাই।

সোহেল আহসান

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×