হ্যালো...

সময়টা পরিবারের সঙ্গে উপভোগ করছি

  এসএম শাফায়েত ১০ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চিত্রনায়িকা নিপুণ। ক্যারিয়ারে প্রায় অর্ধশত ছবিতে কাজ করেছেন। মাঝে মধ্যে দেখা যায় ছোট পর্দায়ও। অভিনয়ের বাইরে ব্যবসায়ও মনোনিবেশ করেছেন এ অভিনেত্রী।

বর্তমানে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে অন্য সবার মতো ঘরবন্দি জীবনযাপন করছেন। এসব প্রসঙ্গ নিয়ে আজকের ‘হ্যালো...’ বিভাগে কথা বলেছেন তিনি

* যুগান্তর: অবসর সময় কীভাবে কাটছে?

** এখন তো রোজা। যেহেতু ইফতারের বিষয় থাকে, কিছু মানুষকে ইফতারি দিচ্ছি। সকাল থেকে মোটামুটি ব্যস্তই থাকতে হয়। গত ১৮ বছর ধরে রোজা এলেই আমার আম্মু কিছু রোজাদারের জন্য ইফতারির আয়োজন করেন। এফডিসিতে নিরাপত্তাকর্মী, ওখানকার মসজিদে দুই ইমামসহ মোট ১২ জনের ইফতার যায়। বাকিটা নিয়ে রাস্তায় বের হয় আমার লোক। বিভিন্ন চেকপোস্টে থাকা পুলিশ সদস্য, ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দোকানদার, বয়স্ক মানুষদের কাছে ইফতার পৌঁছে দেয় তারা।

* যুগান্তর: হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার অভিজ্ঞতা কেমন?

** আমার জীবনটা এতটাই ব্যস্ত হয়ে গিয়েছিল যে, অবসরের সুযোগ হচ্ছিল না। কাজে যেতাম, আসতাম। এসে ঘুমিয়ে যেতাম। কিন্তু এ সময়টাতে সবার সঙ্গে অনেক সময় কাটানো যাচ্ছে, অনেক কথা বলা হচ্ছে, আলোচনা করা হচ্ছে, ছবি দেখা হচ্ছে, অনেকরকম রান্না করা হচ্ছে। আমার আম্মু আর মেয়ে নিউইয়র্কে থাকত, ওদের দেশে নিয়ে এসেছি। মেয়ের তো এ সময় ওখানেই থাকার কথা। এখন সবাইকে কাছে পেয়েছি। দুর্যোগের মধ্যেও এ সময়টাকে পরিবারের সঙ্গে উপভোগ করছি।

* যুগান্তর: এ পরিস্থিতি আসার আগে কী কাজ করছিলেন?

** রোজার ঈদের কিছু নাটকের কাজ ছিল। যেগুলো নিয়ে শুধু কথা হয়েছিল। কাজ শুরু করা হয়নি। তার আগেই পরিস্থিতি আমাদের ঘরবন্দি করে দিল। যে কারণে একটা স্ক্রিপ্টও দেখার সুযোগ হয়নি। শুধু পরিচিত কয়েকজন পরিচালকের সঙ্গে কথা হয়েছিল কাজের ব্যাপারে ও সিডিউল নিয়ে। হাতে যেহেতু সময় ছিল তাই সেভাবে কাজের কোনো অগ্রগতি হয়নি।

* যুগান্তর: করোনার এ দুর্যোগে সাধারণ মানুষের জন্য কী করছেন?

** কুমিল্লায় আমার গ্রামের বাড়িতে মসজিদ-মাদ্রাসা আছে। সেখানকার মানুষের সঙ্গে আমার সবসময় যোগাযোগ আছে। কারও কোনো সমস্যা আছে কিনা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছি। ওখানে একজন লোক রাখা আছে, তার কাছে একটা নির্দিষ্ট অর্থ দেয়া আছে। যারই সমস্যা আছে জানামাত্র তাকে সাহায্য সহযোগিতা করা হচ্ছে। তিনি সেখান থেকে আমাকে ফোন করে সমস্যার কথা জানান, আমি তখন তার জন্য কী করতে হবে সেটা বলে দিই। গ্রামে তো খাবার সমস্যা ছাড়া আর তেমন কোনো কিছুর সমস্যা নেই। যেহেতু ঢাকা শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত প্রতিদিন খাবার পৌঁছান সম্ভব হয় না, তাই আর্থিকভাবে যতটা সম্ভব তাদের সহযোগিতা করা হচ্ছে। এছাড়া আমার ঢাকার বাসাতে নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, গাড়িচালকসহ ৮-১০ কর্মী রয়েছে, আমি বলব ওরা খুবই ভালো আছে।

* যুগান্তর: দীর্ঘদিন বড় পর্দায় অনুপস্থিত, তবে ছোট পর্দায় দেখা যায় মাঝে মধ্যে। এর কারণ কী?

** বড় কিংবা ছোট পর্দা বিষয় নয়। আমার কাছে যে কাজটা মানসম্মত মনে হবে সেটা আমি করি। একটা মানসম্মত কাজ একজন শিল্পীকে অনেকদিন বাঁচিয়ে রাখে। কাজ করলেই কিন্তু আমি অর্থ উপার্জন করতে পারি। সেটা আসলে আমি করতে চাইনি। চেয়েছি যে একটা ভালো কাজ করি। ২০১৬ সালে আমি ব্যবসায় মনোযোগী হলাম। যেখানে ২৫ থেকে ৩০ জন কাজ করছে। ব্যবসাটাকে গতিশীল করার জন্য আমি ওখানেও ফোকাস করছিলাম।

* যুগান্তর: বিগত বছরের রমজানের দিনগুলো আর এবারের রমজান কেমন কাটছে?

** অন্য বছরের তুলনায় এবারের পরিস্থিতিটা একেবারেই অন্যরকম। এ সময় আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজের চাপ বাড়তে থাকে, কর্মীরা ব্যস্ত সময় পার করে। এতদিনে তো জাকাতের কাপড় কেনা হয়ে যায়। গ্রামেসহ সব জায়গা মিলিয়ে দুই থেকে আড়াই হাজার মানুষকে আমরা জাকাত দেই। সেটা তো এবার হয়নি। সবকিছু বন্ধ থাকার কারণে কোনো কাপড় কিনতে পারিনি। আমার গ্রামের লোকরা তো আসলে অনেক অপেক্ষায় থাকে, আমি তাদের কাপড় দেব। পাঁচ-ছয় রোজার পরই কিন্তু আমি গ্রামে গিয়ে সবার মধ্যে কাপড় দিয়ে আসি, তার সঙ্গে যতটুকু পারি কিছু টাকা দিয়ে আসি ঈদের খরচ হিসেবে। এরপর কিছু টিভি প্রোগ্রাম থাকে, শুটিং থাকে, নাচের প্রোগ্রামও থাকত সেগুলো এবার কিছুই নেই।

* যুগান্তর: লাইফস্টাইল বিষয়ে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে আপনার। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের কী অবস্থা?

** ২২ মার্চ থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য একদম বন্ধ করে দিয়েছি। বাংলাদেশে তখন সেভাবে না হলেও গোটাবিশ্বে কী চলছে তা ধারণা করতে পারছিলাম। খুব বাজেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে এ করোনাভাইরাস। সেই মুহূর্তে আসলে কর্মীদের এখানে আনা, কিছু বিদেশি কর্মীও আছে ওখানে, তাদের কাছে এসে মানুষ সার্ভিস নেবে এটা আসলে নিরাপদ মনে হয়নি। তারপর কর্মচারীদের দুই মাসের বেতনসহ ছুটি দিয়ে দিয়েছি। তারপরও সবসময় তাদের খবর নিই। যেভাবে পারছি, যতটুকু পারছি, তাই নিয়ে আমি আমার স্টাফদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি।

আরও খবর
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত