হ্যালো...

সুস্থ প্রকৃতিতে ফিরে গিয়ে বুক ভরে শ্বাস নিতে চাই

ছোট পর্দার জনপ্রিয় মুখ মেহজাবিন চৌধুরী। করোনাভাইরাসের প্রকোপে অন্য সব শিল্পীর মতো তিনিও ঘরবন্দি। এই বন্দি জীবনের দিনলিপি, ক্যামেরার সামনে কাজের বাইরে গৃহস্থালির দৈনন্দিন কাজ, করোনা পরিস্থিতির নানা বিষয় নিয়ে আজকের ‘হ্যালো...’ বিভাগে কথা বলেছেন তিনি

  এসএম শাফায়েত ১৪ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

* ব্যস্ত জীবন থেকে হঠাৎ দীর্ঘ অবসর- সময় কীভাবে কাটছে?

** বাসায় থেকে পরিবারের সঙ্গেই সময় কাটাচ্ছি। এক মাসেরও বেশি সময় ঘরবন্দি রয়েছি, যা যা পরিকল্পনা ছিল সবই হয়ে গেছে। এখন সময়গুলো স্বাভাবিকভাবেই কেটে যাচ্ছে। এ অবস্থার মধ্যে পরিবারের সবার সঙ্গে বাসায় থাকতে পারছি, আলহামদুলিল্লাহ, এটাই অনেক বড় ব্যাপার। বাইরে বের হচ্ছি না। কোনো কিছুর প্রয়োজন হলে অনলাইনে অর্ডার করলে হোম ডেলিভারি দিয়ে যাচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে পরিবেশটা এখনও ঠিক আছে। এভাবে যার যার ঘরে থেকে কিছুদিন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে ইনশাআল্লাহ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

* করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে কী করছেন?

** যেহেতু এটি ছোঁয়াচে রোগ, তাই নিজেকে বাইরের জগৎ থেকে একটু দূরে রাখতে পারলেই আমি আসলে বেঁচে যাচ্ছি। এই একই জিনিস প্রত্যেক মানুষেরই করণীয় এই মুহূর্তে। নতুন করে তেমন কিছু করার নেই। স্বাভাবিক যা যা করণীয় সেগুলো করছি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছি। সবাইকে বলতে চাই, বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগটা কিছুদিন বন্ধ রাখার চেষ্টা করতে হবে।

* দেশের বাইরে জীবনের শৈশব থেকে শুরু করে একটা দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন। সেই সময় থেকে এই সময় পর্যন্ত, কখনও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন যার জন্য ঘরবন্দি থাকতে হয়েছে?

** এটাই প্রথমবারের মতো ঘরবন্দি থাকার অভিজ্ঞতা বলা যায়। এতটা সময় ধরে আমি কখনও ঘরের মধ্যে থাকিনি। তবে তিন মাসের জন্য আমি ‘লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতার সময় একটা ক্যাম্পে ছিলাম। আমার পরিবারের বাইরে কয়েকজন প্রতিযোগীকে নিয়ে সেখানে ক্যাম্পের মধ্যে থাকতে হয়েছে। সেটা একটা ভিন্ন অভিজ্ঞতা ছিল। তবে সেটা একেবারে ঘরবন্দি থাকা নয়, আমরা সেখানে নানা অ্যাক্টিভিটিজের মধ্যে থাকতাম, আনন্দ হই-হুল্লোড়ে দিন কেটে যেত। কিন্তু করোনার মধ্যে বন্দি থাকার মতো অবস্থা এটাই প্রথম।

* বর্তমান ঘরবন্দি জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা কেমন?

** এই এক মাসে আসলে অভিজ্ঞতার জায়গা থেকে অনেক কিছু দেখছি। শুধু একটা জিনিসই মনে হচ্ছে, যেটা বারবার দেখছি, দিন শেষে আমরা যদি দেশের উন্নয়ন করতে পারি, তাহলেই যে কোনো ধরনের পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে পারব। দেশের স্বার্থে জনসচেতনতা বাড়ানো, শিক্ষিত সমৃদ্ধ মানুষ গড়ে তোলা খুবই জরুরি। যুব সমাজকে যখন আমরা যথাযথ শিক্ষা দিতে পারব, তখনই এমন পরিস্থিতির সঙ্গে আমরা যুদ্ধ করতে পারব। যদি যথাযথ শিক্ষা থাকে তবে একটা ভাইরাসকে বুঝতে পারব, রিসার্চ করে বের করতে পারব এটা কতটা ভয়ংকর। কিন্তু আমাদের মধ্যে যদি সেই শিক্ষা না থাকে তবে নিজের অজান্তেই ভাইরাসটি শরীরে নিয়ে ছড়িয়ে দিতে পারি। এছাড়া সহযোগিতা ও মানবিকতার উন্নয়ন নিয়ে আগে থেকে কতটা ভাবার দরকার ছিল, সেটা এখন বোঝা যাচ্ছে।

* সর্বশেষ কী করছিলেন?

** মিজানুর রহমান আরিয়ানের একটা টেলিফিল্মের কাজ শুরু করেছিলাম। তবে শেষ করা সম্ভব হয়নি। ‘কেমন আছে ফ্রি ল্যান্সার নাদিয়া’ নামের টেলিফিল্মটিতে আমিই মূলত নাদিয়া চরিত্রে অভিনয় করছিলাম। কিন্তু পরিস্থিতি বেগতিক দেখে একদিনেই শুটিং বন্ধ করে ঘরে ফিরে আসতে হয়েছে। তখন তো সময়টা খুব খারাপের দিকে চলে যাচ্ছিল।

* আর কী কী কাজের সিডিউল ছিল?

** পহেলা বৈশাখ ও ঈদকেন্দ্রিক অনেক কাজের সিডিউল দেয়া ছিল। টানা মে মাস পর্যন্ত ২০ থেকে ২৫টি নাটক/টেলিফিল্মে কাজ করার কথা ছিল। কিন্তু এখন তো সবই বন্ধ।

* পরবর্তী সময় কি কাজগুলো করবেন?

** পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তো কাজগুলো করতেই হবে। তার আগে তো বাঁচতে হবে। সবকিছু ঠিক হোক তারপর দেখব। এ মুহূর্তে আসলে কাজ নিয়ে একদম ভাবছি না। ভাবনায় শুধু এই পরিস্থিতি। কবে যে সবকিছু ঠিকঠাক হবে, সেটা নিয়েই চিন্তায় আছি।

* ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ছোট পর্দায় একমনে সময় দিয়ে আসছেন। বড় পর্দায় আপনাকে দেখা যায় না কেন?

** কোনো বিশেষ কারণ নেই। যেদিন আসলে আমার সুন্দর একটা গল্প পছন্দ হবে, মনে হবে সবকিছু ঠিকঠাক আছে, ডিরেক্টর, কো-আর্টিস্ট, গল্প, ফিল্মের বাজেট এই জিনিসগুলো ঠিক থাকবে সেদিনই বড় পর্দায় দেখা দেব। এখন পর্যন্ত অনেক অফার এসেছে। কিন্তু কোনো না কোনো ঘাটতি ছিল। সে কারণে কাজগুলো করা হয়নি।

* মহামারী এই ভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়ার আশা করেন কতটুকু?

** ইনশাআল্লাহ, সবকিছু একদিন ঠিক হয়ে যাবে। এর আগেও পৃথিবীতে এ ধরনের অনেক পরিস্থিতি এসেছে। তখন আমাদের সৃষ্টিকর্তা কোনো না কোনো একটা ব্যবস্থা করে দেন। সবাই মিলে দোয়া করছি। রমজান মাস চলছে। সবাই রোজা রাখবে, ইবাদত বন্দেগি করবে। আরও বেশি দোয়া করব। আশা করছি খুব শিগগিরই এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পাব। তবে এটার জন্য আমাদের যে বিধি নিষেধগুলো দেয়া আছে তা মানতে হবে।

* আবারও যেদিন ঘর থেকে বের হবেন, সর্বপ্রথম কী করবেন?

** সুস্থ প্রকৃতিতে ফিরে গিয়ে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে চাই। এখন তো নিঃশ্বাস নিতেও অনেকটা ভয় লাগে। সবকিছু যেদিন ঠিক হয়ে যাবে, অশান্ত পৃথিবী শান্ত হবে, সেদিন খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে বুক ভরে শ্বাস নিতে চাই।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত