হ্যালো...

বাংলাদেশে মাল্টিস্টার কাস্ট নিয়ে কাজ করা সম্ভব নয়

উপস্থাপক হিসেবেই বেশি পরিচিত দেবাশীষ বিশ্বাস। ছবিও পরিচালনা করেন। তার পরিচালিত সর্বশেষ ছবি ছিল ‘চল পালাই’। মুক্তির অপেক্ষায় আছে ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ-২’। এ ছবির প্রমোশন নিয়েই করোনার আগে ব্যস্ত ছিলেন। লকডাউনের মধ্যে নিজগৃহে অবস্থান করেই বানিয়েছেন একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যরে ছবি ‘আলো আসবেই’। ঈদে মুক্তিও পেয়েছে এটি। এসব নিয়েই আজকের ‘হ্যালো...’ বিভাগে কথা বলেছেন তিনি

  অরণ্য শোয়েব ২৯ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

* গৃহবন্দি অবসর সময় কাটছে কেমন?

** আমি ওভাবে ঠিক বলব না বন্দি আছি। বন্দি থেকেও আমার মাঝে মধ্যেই বের হতে হয় কেনাকাটার জন্য; কিন্তু সেটাও কাছাকাছি এবং সতর্ক ও দূরত্ব মেনেই। তারপরও যদি বলি প্রায় পঞ্চাশ দিনের মতো ঘরেই আছি। বাসায় বসে বই পড়ছি প্রচুর সিনেমা দেখছি। পরিবারকে সময় দিচ্ছি ও ছেলের সঙ্গে খেলাধুলা করে সময় কেটে যায়।

* সর্বশেষ ব্যস্ততা ছিল কী নিয়ে?

** ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ-২’ ছবির প্রমোশন নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। এরপরই তো লকডাউন শুরু হল, ছবি মুক্তির তারিখ পিছিয়ে গেল। অন্যদিকে আমার মা একটু অসুস্থ ছিল, তাকে নিয়ে হসপিটালে যাওয়া-আসা করতে হয়েছে চেকআপের জন্য। সবার দোয়াতে সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে তিনি এখন মোটামুটি সুস্থ আছেন। এছাড়া নিজের কিছু কাজ ছিল সেগুলো সমাপ্ত করলাম।

* লকডাউনের মধ্যেই একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি করেছেন। কেমন সাড়া পেলেন?

** ‘আলো আসবেই’ নামে এ স্বল্পদৈর্ঘ্যরে ছবিতে করোনাভাইরাসের জন্য লকডাউন জীবন নিয়ে সচেতনমূলক মেসেজ ছিল। এখানে ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী অভিনয় করেছেন। ঘরে থেকেই নিজেদের ক্যামেরা বা অন্য ডিভাইস থেকে শুটিং করেছেন। এ সময়েই প্রথমবার আমি নির্মাণ করেছি। এতে আমিও অভিনয় করেছি। একটা বড় ব্যাপার হচ্ছে কেউ কোনো পারিশ্রমিক নেয়নি এ ছবির জন্য। ঈদের দিন এটি অবমুক্ত করার পর থেকে এখন পর্যন্ত ভালো সাড়া পাচ্ছি। খারাপ লাগার বিষয় হচ্ছে এবার মাল্টিস্টার কাস্ট নিয়ে কাজ করে খুব খারাপ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হল। পুরো বিষয়টি বলতে চাই না। এতটুকু বলব, বাংলাদেশে মাল্টিস্টার কাস্ট নিয়ে কাজ করা সম্ভব নয়।

* সবকিছু তো সরকার খুলে দিল। আপনারাও নিশ্চয়ই শুটিং শুরু করবেন শিগগিরই?

** সেটা এখনই বলতে পারছি না। পরিস্থিতি কোন দিকে যায় সেটি দেখব। জীবন আগে, পরে কাজ। জীবন না থাকলে কাজ দিয়ে কী হবে? আগে করোনাভাইরাস সমস্যা সমাধান হোক।

* সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি করোনাভাইরাসের ক্ষতি থেকে কীভাবে উত্তরণ ঘটাবে নিজেদের?

** ক্ষতি অনেক হয়েছে এটি সত্যি; কিন্তু কত টাকার যে ক্ষতি হয়েছে সেটি ঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। দর্শক এমনিতেই হলবিমুখ ছিল। এরপর যদি হলগুলো খোলাও হয় এদের ফিরিয়ে আনতেও কিন্তু বছর কেটে যাবে। জানিনা অদূর ভবিষ্যতে কী হবে। আমাদের আসলে বিকল্প পদ্ধতিও চিন্তা করতে হবে। এখন অনেক ডিজিটাল প্লাটফর্ম আছে এবং অনলাইনে সিনেমা মুক্তি দেয়ার কথাও ভাবতে হবে। মোট কথা হচ্ছে আমাদের বিকল্প পদ্ধতি ছাড়া সারভাইব করা সম্ভব নয়।

* অনলাইন প্লাটফর্মের কথা বলছেন, আমরা কি অনলাইনে দেয়ার মতো কন্টেন্ট দিতে পারছি দর্শকদের?

** এটা ঠিক ওই রকম কন্টেন্ট হয়তো এখনও দিতে পারছি না আমরা। এর অবশ্য কারণ আছে। আমাদের যতটুকু মেধা আছে তার সঙ্গে বিনিয়োগ যদি ভালো থাকে, তাহলে অনেক কিছু করা সম্ভব। কারণ নেটফ্লিক্স বা আমাজন শুধু ওয়েবসিরিজে যে পরিমাণ টাকা ঢালছে ওটা যে কোনো হিন্দি সিনেমার চেয়ে বেশি ইনভেস্ট। বিষয়টি হচ্ছে, আমাদের চিন্তা-ভাবনা আরও প্রসারিত করতে হবে। আমাদের জায়গা ছোট তারপরও আমরা চেষ্টা করছি, লড়াই করছি। এ মুহূর্তে সিনেমা রাইজ করতে সময় লাগবে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত