পহেলা জুন থেকে শুরু হচ্ছে নাটকের শুটিং

  সোহেল আহসান ৩০ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের প্রভাবে স্থবির পুরো দেশ। মহামারী থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সরকারিভাবে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে লকডাউন। গত দুই মাসের পুরোটা সময় তাই নাট্যাঙ্গনও স্থবির ছিল। তবে সম্প্রতি সরকারের তরফ থেকে লকডাউন তুলে নেয়ার ঘোষণা এসেছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিধি মেনে সব সেক্টরই সক্রিয় হচ্ছে ৩১ মে থেকে। সরকারি ঘোষণার পর ২৮ মে রাতে টেলিভিশন নাটকসংশ্লিষ্ট ১৫টি সংগঠন বিশেষ সভা বসে। সভায় শুটিং শুরু করার বিষয়ে সবাই একমত হওয়ায় ১ জুন থেকে নাটকের শুটিং বন্ধের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি সংগঠনগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় একটি স্বাস্থ্যবিধি তৈরি করা হয়েছে। সেই বিধি অনুসরণ করেই শুটিং করতে হবে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীলরা।

এ বিষয়ে অভিনয়শিল্পী সংঘের সভাপতি শহীদুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘আমরা কাউকে চাপ দিচ্ছি না। যেহেতু অনেকদিন ধরে কাজ বন্ধ, তাই নানা ধরনের সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে অনেককেই। অনেক কলা-কুশলী অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। তাদের কথাও ভাবতে হচ্ছে। তবে আমরা জেনেছি, সব সেক্টরই স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করবে। তাই আমরাও স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কাজ শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যদি এরপর কোনো জটিলতা তৈরি হয়, সেগুলোর দিকেও আমরা নজর রাখব।’

এ প্রসঙ্গে ডিরেক্টরস গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক এসএ হক অলিক বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকটি সংগঠনের দায়িত্বশীলরা এক হয়ে কথা বলেছি। ইতিবাচক-নেতিবাচক সব বিষয় নিয়েই ভেবেছি। সবার মতামতের ভিত্তিতেই শুটিং শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ১ জুন থেকে শুটিং শুরুর কথা বলা হলেও হয়তো তা বাস্তবায়ন হতে অনেক সময় লাগবে। কারণ, আমরা কাজের যে নির্দেশনাগুলো তৈরি করছি, সেগুলো অনুসরণ করতে কিছুটা সময় তো লাগবেই। আশা করছি জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই কাজ পুরোদমে শুরু করা যাবে। তবে শুটিংয়ের এ প্রক্রিয়াটি বাধ্যতামূলক নয়। যার ইচ্ছা হয় করবে, যার ইচ্ছা করবে না। এ নিয়ে কোনো জবরদস্তি নেই। তবে নিয়ম পালন করে কাজ করছে কি না, এ বিষয়টি তদারকির জন্য একটি টিমও গঠন করা হয়েছে।’

টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি ইরেশ যাকের বলেন, ‘আমরা অনেক বিশ্লেষণ ও আলাপ-আলোচনার পর একমত হয়েছি, নাটকের শুটিং কীভাবে শুরু করা যায়। তবে এর জন্য কিছু নিয়ম মানতে হবে সবার। সেগুলো নিশ্চিত হলেই শুটিং করতে পারবেন সংশ্লিষ্টরা। তবে কোনো সমস্যা তৈরি হলে আমরা তা সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধান করার বিষয়ে গুরুত্ব দেব।’

এদিকে শুটিং শুরুর এ খবরটি পৌঁছে গেছে অভিনয়শিল্পীদের কাছেও। কেউ কেউ শুটিংয়ে যোগ দেয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেও অনেকেই আবার এখনই শুটিং শুরু করতে চাইছেন না। তাদের মধ্যে অন্যতম একজন চঞ্চল চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘শুটিং শুরু হচ্ছে এটি অনেকের কাছেই হয়তো স্বস্তির খবর। বিশেষ করে যারা আর্থিকভাবে সমস্যাগ্রস্ত। তবে আমি এখনই শুটিংয়ে যেতে চাই না। কারণ শুধু আমার নয়, আমার সঙ্গে পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টিও যুক্ত। আমি তাদের বিপদের মুখে ফেলে দিতে পারি না। তবে শুটিংয়ে যাওয়া না যাওয়ার বিষয়ে কাউকে উৎসাহিত কিংবা নিরুৎসাহিত করছি না। পরিস্থিতি অনুযায়ীই কাজ করতে চাই।’

জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা বলেন, ‘প্রতিনিয়ত সংক্রমণ বাড়ছে। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টি সবার আগে ভাবতে হচ্ছে আমাকে। শুটিং শুরু হলেও এখনই আমি কাজে যোগ দিতে চাই না। কীভাবে শুটিং করা হচ্ছে কিংবা এ পরিস্থিতিতে কীভাবে শুটিং প্রক্রিয়াটি সম্পাদিত হচ্ছে তা আগে দেখতে চাই। যদি পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে তাহলে অবশ্যই কাজ করব।’

অভিনেতা আনিসুর রহমান মিলন বলেন, ‘যদি দেখি যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ হচ্ছে এবং নিরাপদে কাজ করা যাচ্ছে, তাহলে অবশ্যই কাজ করব। আর না হলে তো কাজ করার প্রশ্নই আসে না। জীবন আগে, তারপর কাজ। তা সবার সচেতনতা জরুরি। জীবন বিপন্ন করে কাজ করার পক্ষপাতী নই আমি।’

অন্যদিকে পরিচালক, কলা-কুশলীদের অনেকেই এ পরিস্থিতিতে কাজ করার বিষয়ে অনাগ্রহের কথা জানান এ প্রতিবেদককে। এ নিয়ে এক ধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যাচ্ছে নাট্যাঙ্গনে। মূলত সবাই আগে দেখতে চাইছেন কীভাবে শুটিং হয় এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেয়া হচ্ছে।

এটি দেখেই শুটিংয়ে নামার পক্ষপাতী তারা।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত