করোনাভাইরাসের প্রভাব

ধারাবাহিক নাটকের ভবিষ্যৎ কী

  সোহেল আহসান ০২ জুন ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের কারণে সংকটে পড়েছেন সবাই। শুধু বাংলাদেশই নয়, বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই চলছে লকডাউন। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর বিনোদনের চাহিদা পূরণ করে আসছে ধারাবাহিক নাটক। এ ধারাবাহিক নাটকের কারণেই নাট্যকার, নির্মাতা, প্রযোজক এবং অভিনয়শিল্পীরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান। এজন্য সবাইকে দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিক নাটকের কাজ করতে হয়। তাই দর্শকও পছন্দের ধারাবাহিক নাটকের জন্য মুখিয়ে থাকেন। বলা যায়, এ ধারাবাহিক নাটকই নাট্যাঙ্গনের প্রাণভোমরা। তবে গত মার্চে করোনাভাইরাসের প্রভাবে সব ধরনের শুটিং বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে প্রচার চলতি অনেক জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটকের প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। ফুটেজ সংকটের কারণে চ্যানেল কর্তৃপক্ষকে নির্মাতারা নাটক প্রচার বন্ধের অনুরোধ করেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে প্রচার চলতি ধারাবাহিক নাটকগুলো বন্ধ করে দেয় চ্যানেলগুলো। এছাড়া প্রচারের অপেক্ষায় থাকা ধারাবাহিক নাটকগুলোও আর আলোর মুখ দেখেনি। এতে করে বিপুল অঙ্কের টাকা লগ্নি করে প্রযোজকরা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছেন। ভবিষ্যৎ কী অপেক্ষা করছে কেউ তা অনুমান করতে পারছেন না। আর কবে পরিবেশ স্বাভাবিক হবে তাও বোঝা যাচ্ছে না।

লকডাউনের আগেই এনটিভিতে প্রচার চলতি ধারাবাহিক নাটকের মধ্যে মুহম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের পরিচালনায় ‘ফ্যামিলি ক্রাইসিস’, হাবিব শাকিলের পরিচালনায় ‘পরের মেয়ে’ নাটক দুটি জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিল। নাটক দুটি টিভি চ্যানেলের পাশাপাশি বিকল্প মাধ্যমগুলোতেও জনপ্রিয়তা পেয়েছে। একুশে টেলিভিশনে আল হারুনের পরিচালনায় ‘ইস্টিকুটুম’ প্রচারের শীর্ষে ছিল। আরটিভিতে সঞ্জিত সরকারের পরিচালনায় ‘চিটিং মাস্টার’ এবং মুসাফির রনির পরিচালনায় ‘তোলপাড়’ নাটক দুটিও দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। অন্যদিকে দীপ্ত টিভিতে কায়সার আহমেদের পরিচালনায় ‘বকুলপুর’, গোলাম সোহরাব দোদুলের ‘ভালোবাসার আলো আঁধার’ দর্শকের মনোযোগ কাড়তে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাভিশনে এসএ হক অলিকের ‘জায়গীর মাস্টার’ এবং কাজল আরেফিন অমির পরিচালনায় ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট-২’ নাটকগুলো জনপ্রিয়তার শীর্ষে চলে আসে। নাটকগুলো দেশের পাশাপাশি প্রবাসে অবস্থান করা বাংলা ভাষাভাষী দর্শকও আগ্রহ নিয়ে দেখছেন; কিন্তু বর্তমানে করোনাভাইরাসের কারণে এ নাটকগুলোসহ প্রচার চলতি সব ধারাবাহিক নাটকের প্রচার বন্ধ আছে। কবে আবার নাটকগুলো প্রচারে আসবে তা কেউ জানেন না। অনিশ্চিত এক ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হচ্ছে ধারাবাহিক নাটক। কীভাবে আবার নাটকগুলোর প্রচার শুরু করা যাবে তা নিয়ে অনেকেই কথা বলেছেন যুগান্তরের সঙ্গে।

এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী তানভীন সুইটি বলেন, ‘লকডাউন তুলে দেয়ার কারণে হয়তো এখন কাজ শুরু হবে। কাজ শুরু হলেই পরিস্থিতি বোঝা যাবে। যদি শুটিং করা না যায় তাহলে তো আর নাটকের নতুন পর্ব দেখার সুযোগ নেই। জীবিকার তাগিদে অনেকেই হয়তো স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কাজ শুরু করবেন। তবে ধারাবাহিক নাটক হয়তো আবারও প্রচার শুরু হবে, তবে তা অনেকটা নতুন ফরমেটেই হবে। সবকিছু যেন স্বাভাবিকভাবে আবারও শুরু করা যায় সেদিকেই তাকিয়ে আছি।’

বিষয়টি নিয়ে একুশে টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান জাহিদ হোসেন শোভন বলেন, ‘কিছুদিন বিলম্ব হলেও হয়তো প্রচার চলতি ধারাবাহিক নাটকগুলো আবারও প্রচার শুরু করা যাবে। কারণ নাটকের সংগঠনগুলো থেকে শুটিং শুরুর বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে করে হয়তো কিছু নাটকের শুটিং শুরু করা যাবে। তাছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে কতটুকু কাজ করা যাবে তা নিয়ে সংশয় আছে। টিভি চ্যানেলের প্রাণ হল ধারাবাহিক নাটক। তাই আমরাও নজর রাখছি কীভাবে দ্রুত বন্ধ নাটকগুলো প্রচার শুরু করা যায়।’

নাট্যকার ও নির্মাতা এজাজ মুন্না বলেন, ‘পুরো পৃথিবীর ভিজুয়্যাল মিডিয়াই সংকটে পড়েছে। এখানে আসলে কারও কিছু করার নেই। আল্লাহর রহমত ছাড়া কোনোভাবেই এ পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কাজ শুরু করলে হয়তো প্রচার চলতি নাটকগুলো আবারও শুরু করা যাবে; কিন্তু বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’

নির্মাতা ও অভিনেতা সালউদ্দিন লাভলু ‘দ্য ডিরেক্টর’ নামের নতুন একটি ধারাবাহিক নাটক নির্মাণ শুরু করেছিলেন; কিন্তু লকডাউনের কারণে সেটির কাজও বন্ধ হয়ে আছে। ধারাবাহিক নাটকের এ অনিশ্চিত ভবিষ্যতের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অফিস-আদালতের মতো করে তো আর শুটিং করা যাবে না। কারণ বেশিরভাগ নাটকের শুটিংই করতে হয় আউটডোরে। এ পরিস্থিতিতে তো আরও কঠিন। তবে ধারাবাহিক নাটকের যদি শুটিং না করা যায়, তাহলে অনেক লগ্নি করা টাকা আটকে থাকবে।’

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত