সহকর্মীদের শ্রদ্ধাঞ্জলি

এক প্লেব্যাক সম্রাটের বিদায়

এন্ড্রু কিশোর। ঢাকাই সিনেমার গানের সম্রাট। নয় মাসেরও বেশি সময় লড়েছেন মরণব্যাধি ক্যান্সারের সঙ্গে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হেরে গেলেন। চিকিৎসার জন্য ছিলেন সিঙ্গাপুরে। কিন্তু সেখান থেকে ব্যর্থ হয়ে জীবনের শেষ দিনগুলো কাটাতে চলে এলেন দেশে। ১১ জুন অনেকটা চুপিসারে ঢাকায় ফিরেই দু’দিন পর চলে যান নিজ শহর রাজশাহী। জীবনের শেষ কটা দিন কোলাহলমুক্ত কাটাতে চেয়েছিলেন। কাটিয়েছেনও। অবশেষে ৬ জুলাই সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগরীর বড় বোনের ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সহকর্মীরা জানিয়েছেন প্রিয় শিল্পীর প্রতি তাদের অভিজ্ঞতা ও ভালোবাসার কথা। তাদের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন -

  এফ আই দীপু, সোহেল আহসান ও হাসান সাইদুল ০৭ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এন্ড্রু কিশোর আমার ছোট ভাইয়ের মতো। তবে কাজের ক্ষেত্রে আমরা সহকর্মীই ছিলাম। গীতিকার হিসেবে আমাকে যথার্থ সম্মান প্রদানের পাশাপাশি সে গানের কথার ক্ষেত্রেও আমার সঙ্গে পরামর্শ করত। তার কণ্ঠের কথা শ্রোতা, দর্শক, পাঠকদের কাছে নতুন করে কিছু বলতে হবে বলে আমার মনে হয় না। বাংলাদেশের সঙ্গীতের ইতিহাসের পাতায় তার নাম প্রথমদিকে লেখা থাকবে। এন্ড্রু আমাদের মাঝে আর নেই, তবে গানের মাধ্যমে আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবে আজীবন। এন্ড্রু নেই এটাও আমি বলতে চাই না। সে আছে। সে থাকবে। অনন্তকাল থাকবে।

গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সঙ্গীতজ্ঞ

কী থেকে কী হয়ে গেল বুঝলাম না। সিঙ্গাপুরে এক স্টেজে আমরা অনেকেই ছিলাম। কিশোর গানও করেছে। ওর সঙ্গে কথা বলে এসেছিলাম। ওকে সান্ত্বনা দিতে গেলে ও আমাদের সাহস দিত। ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’ এ গানটা ও স্টেজে গেয়ে কান্না করেছিল। আমাদের সবার চোখেই তখন পানি ছলছল করছিল। ওর সঙ্গে এটাই আমার শেষ স্মৃতি। দু’দিন আগেও ফোন করেছিলাম ওর নম্বরে, ধরেনি। বুঝতে পেরেছি কিছু একটা ঘটেছে। ছোট ভাই চলে গেল, এখন বড় ভাই হিসেবে আমার অবস্থা কী আর বলব? এখন আমিই প্রশ্ন করছি, আসলে আমি নিতে পারছি কী? চলে যাওয়ার জন্য খুব বেশি সময় হয়েছে কি? আমি বাকরুদ্ধ। কিশোর যেখানেই থাক, ভালো থাক।

সৈয়দ আবদুল হাদী, সঙ্গীতশিল্পী

‘এন্ড্রু কিশোর আমার পরিবারেরই একজন। সারাটি জীবন তার সুখে-দুঃখে পাশে ছিলাম ছায়ার মতো। কিশোর শতভাগ পেশাদার একজন শিল্পী, কোনোদিন কাজে ফাঁকি দেয়নি, খুব সময় সচেতন শিল্পী, মানুষকে যেমন সম্মান করত, ঠিক তেমনি মানুষও তাকে সম্মান করতেন। একজন এন্ড্রু কিশোর বাংলাদেশের গানের অহঙ্কার। আমার মেয়ে রাজকন্যাকে নিজের মেয়ের মতোই আদর করত এন্ড্রু। বিধাতা তাকে ওপারে ভালো রাখুক এ প্রার্থনা করি।

আলাউদ্দিন আলী, সঙ্গীতজ্ঞ

প্রিয় এন্ড্রু কিশোর! আমার সঙ্গে প্রথম যেদিন দেখা হয় সেদিনের জওয়ান এন্ড্রু কিশোর আজ আর নেই, এটা বিশ্বাসই করতে পারছি না। আপন কাউকে হারানোর হাহাকার আমার মাঝে বিরাজ করবে আমি তা কখনও ভাবিনি। অনেকগুলো গানই তো সুর করা আছে ওর জন্য। কয়েকটা গানের কিছু কাজ বাকি ছিল। কে গাইবে? এন্ড্রু কিশোর এভাবে চলে গেল! এভাবে চলে গেল? ফিরে এলে এমন কী ক্ষতি হতো? আর কিছু বলতে পারছি না। তবুও বলতে হয়, এন্ড্রু কিশোর ভালো থাক।

আলম খান, সঙ্গীতজ্ঞ

এন্ড্রু এভাবে চলে যাবে কখনও চিন্তাও করিনি। এ সংবাদ আমার কাছে বিশ্বাস হচ্ছে না। এমনিতে এক এক করে সবাই চলে যাচ্ছে। সবারই চলে যেতে হবে জানি, কিন্তু এভাবে চলে যাবে কখনও ভাবিনি। গান করতে গিয়ে তার সঙ্গে কত গল্প, কত স্মৃতি। আজ কোথায় এন্ড্রু? শত শত গান করেছে সে। তার গানেই সে বেঁচে থাকবে। তার সঙ্গীতজীবন ও তার মূল্যায়ন নিয়ে কিছু বলার নেই। তার কণ্ঠ ও গানের ইতিহাস সবাই জানেন। আমি শোকাহত। এতটুকুই বলব, এন্ড্রু যেখানে থাক আল্লাহ তাকে ভালো রাখুক।

শেখ সাদী খান, সঙ্গীতজ্ঞ

এন্ড্রু দা-কে নিয়ে আমি কী বলব? আমরা একসঙ্গে কত সিনেমার গান করলাম, তা একবাক্যে বলা যাবে না। তাকে প্লেব্যাক সম্রাট বলা হতো। সম্রাট খুব নীরবে চলে গেল। এ চলে যাওয়া কতটা বেদনার, তা কী করে বোঝাব। একবাক্যে বা এক কলামে কিংবা এ পাতায় লিখে কি শেষ করা যাবে? রেকর্ডিংয়ের আগে রিহারসেল থেকে শুরু করে একটি সিনেমা মুক্তির আগ পর্যন্ত গান করতে গিয়ে কত যে গল্প করতাম, তা আজ স্মৃতির খাঁচায় বন্দি হয়ে গেল। আমাদের আর স্টুডিওতে দুষ্টুমি করা হবে না রেকর্ডিং শেষে! আমার ভেতর থেকে কথা আসছে না। আমি এন্ড্রু দা-র চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছি না। এন্ড্রু দা, খুব বেশি কি সময় হল? এখনই চলে যাওয়ার সময়? সত্যিই আমি নিতে পারছি না। এন্ড্রু দা, যেখানে থাক ভালো থাক।

কনকচাঁপা, সঙ্গীতশিল্পী

আমি কিছু বলতে পারছি না। দাদাকে নিয়ে কি বলব। আমি সহ্য করতে পারছি না! কিছুই ভালো লাগছে না। দাদা এত তাড়াতাড়ি চলে গেলেন। তার কথা আমার কানে এখনও বাজে। তার জন্য উপহার হিসেবে একটা কাজ করছিলাম। এ নিয়ে কথা বলার সময় আমি কান্না করছিলাম। দাদা আমাকে বললেন, দূর বোকা, কাঁদিস কেন? দেখিস, আমি ভালো হয়ে যাব। তোদের মাঝে সুস্থ হয়ে ফিরে গান করব। কাঁদিস না, বলে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েছিলেন। অবশেষে চলেই গেলেন তিনি! দাদা, যেখানে থাকুন, ভালো থাকুন।

সামিনা চৌধুরী, সঙ্গীতশিল্পী

খুব খারাপ লাগল খবরটা শুনে। আর কত গুণী মানুষ এভাবে চলে যাবেন এই বছরটাতে একমাত্র আল্লাহই জানেন। খুব মনে পড়ে, শ্রদ্ধেয় এজে মিন্টুর ‘প্রতিজ্ঞা’ সিনেমায় এন্ড্রু কিশোরের গাওয়া ‘এক চোর যায় চলে পিছনে লেগেছে দারোগা’ গানটি দৃশ্যায়নে আমি আর আলমগীর ভাই ছিলাম। এটাই ছিল এন্ড্রু কিশোরের প্রথম জনপ্রিয় গান। এরপর বহু সিনেমায় গান গেয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের সিনেমায় একদিকে যেমন ছিলেন হাদী ভাই, অন্যদিকে ছিলেন এন্ড্রু কিশোর। তার অসংখ্য জনপ্রিয় গান রয়েছে, যেগুলো এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরাও দেখেছি বেশ আগ্রহ নিয়ে শুনে। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনের গর্বিত অধ্যায়ের এক অনবদ্য শিল্পী। সত্যিই তার মতো গুণী সঙ্গীতশিল্পী আর আদৌ এই দেশে জন্ম হবে কিনা সন্দেহ আছে। আমি এবং জাফর ইকবাল একবার স্টেডিয়ামে এন্ড্রু কিশোর এবং রুনা আপার গাওয়া ‘তুমি আমার জীবন আমি তোমার জীবন’ গানটিতে পারফর্ম করেছিলাম। তার সঙ্গে বিদেশে শোতেও গিয়েছিলাম। আমার সঙ্গে যখনই দেখা হয়েছে, ম্যাডাম বলে মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে সালাম জানিয়ে কুশলাদি জিজ্ঞাসা করতেন। খুব খারাপ লাগছে। তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।

ববিতা, অভিনেত্রী

আমার ঢাকার সঙ্গীতজীবনের শুরু থেকেই তার সঙ্গে পরিচয়। গান গাইতে গিয়ে কত কথা, আড্ডা হয়েছে, যেগুলো এখন মনের কোণে ভেসে বেড়াচ্ছে। তার চলে যাওয়ার খবরটি শোনার পর থেকে নিজেকে আর স্থির রাখতে পারছি না। স্মৃতির পাতা উল্টাচ্ছি শুধু এখন। একজন কালজয়ী সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে তার নাম অক্ষত থাকবে অনেকদিন। যেখানেই থাকুন তিনি, সেখানেই যেন ভালো থাকেন, এটাই প্রার্থনা করছি।

কুমার বিশ্বজিৎ, সঙ্গীতশিল্পী

দেশ স্বাধীনের আগে ১৯৬৮ সালে রাজশাহী বেতারে গান গাইতে গিয়ে এন্ড্রু কিশোর দাদার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। আমি নজরুলের গানে, তিনি আধুনিক গান নিয়ে অনুষ্ঠান করতেন। দেশ স্বাধীনের কিছুদিন পর তিনি ঢাকায় আসেন এবং প্লেব্যাক শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই এ মাধ্যমে তার পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা তৈরি হয়ে যায়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার আমন্ত্রণে গান গেয়েছি। খুব ভালো মনের মানুষ ছিলেন তিনি। বিশেষ করে পরোপকারী স্বভাবটাই তাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। এই গুণী মানুষের চলে যাওয়া অপূরণীয় ক্ষতি। সৃষ্টিকর্তার ডাক এলে সবাইকেই চলে যেতে হবে। আমরা সবাই যেন তার জন্য দোয়া করি, এটাই আমার আহ্বান।

ফরিদা পারভীন, সঙ্গীতশিল্পী

এন্ড্রু কিশোর ভাইয়ের এখনই চলে যাওয়া আমি মেনে নিতে পারছি না। আমার যেন দম বন্ধ হয়ে আসছে! হঠাৎ ফোন পেয়ে তার চলে যাওয়ার সংবাদ শুনব, তা কখনও কল্পনাও করিনি। অনেক স্মৃতি তার সঙ্গে। কত গল্প কত কথা! এক সঙ্গে আমরা কত আড্ডা দিয়েছি! এক সঙ্গে কত সেলফিও তুলেছি! খুব ভালো মানুষ ছিলেন এন্ড্রু ভাই। গানের প্রতি ছিলেন অত্যন্ত সিরিয়াস। মনোযোগ দিয়ে গান করতেন। একই স্টুডিওতে আমি অনেক দেখেছি। বুক ফেটে কান্না আসছে। আল্লাহ এন্ড্রু ভাইকে ভালো রাখুক, এটাই কামনা করছি। এ ছাড়া আর কিছু বলতে পারছি না।

মনির খান, সঙ্গীতশিল্পী

অনেককেই চলচ্চিত্রের গানের জন্য নানা উপাধি দিয়ে ভূষিত করা হয়। কিন্তু সব উপাধির শীর্ষে ছিলেন এন্ড্রু কিশোর দাদা। একজন শিল্পীর অনেকগুলো গান যখন জনপ্রিয় হয়, তখনই বুঝতে হবে যে তিনি সাধারণ শিল্পী নন। আমি মনে করি, চলচ্চিত্রের গানে সফলতায় তার আশপাশে কেউ নেই। নিজের প্রতিভার কারণে যুগ যুগ ধরে তিনি অমর হয়ে থাকবেন বাংলা গানের শ্রোতাদের কাছে। তার চলে যাওয়া বাংলা গানের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।

রবি চৌধুরী, সঙ্গীতশিল্পী

এন্ড্রু কিশোর দাদার গাওয়া অনেক গানে আমি সিনেমায় ঠোঁট মিলিয়েছি। অনেক গানে ঠোঁট মিলিয়ে অভিনয় করতে গিয়ে প্রায় ইমোশনাল হয়ে যেতাম। তার অনেক গানের ভিডিওতেও আমি মডেল হিসেবে কাজ করেছি। ভিডিওর গল্প হৃদয়কে স্পর্শ করত আমার। অদ্ভুত এক শিল্পী আমরা পেয়েছিলাম। হারিয়েও ফেললাম। বেশি দিন তো না, খুব বেশি বয়সও হয়নি, এন্ড্রু দা চলেই গেলেন নীরবে। তার মৃত্যুতে তার শোকাবহ পরিবারকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা আমার নেই। শুধু এতটুকু বলব, ওপারে ভালো থাকুন প্রিয় এন্ড্রু দা।

শাকিল খান, চিত্রনায়ক

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে আমি এন্ড্রু দা-র গাওয়া অনেক গানে সিনেমায় ঠোঁট মিলিয়েছি। শিল্পী হিসেবে তার যোগ্যতা নিয়ে কথা বলার মতো মানুষ আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে খুব কম আছেন। তিনি ছিলেন প্লেব্যাক সম্রাট। এ পর্যন্ত যত শিল্পী আমাদের সিনেমার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তাদের মধ্যে আমি এন্ড্রু দা-কেই সেরা বলব। তার সঙ্গে খুব বেশি মেশার সুযোগ হয়নি আমার। কিন্তু তার দরাজ কণ্ঠের গান আমাকে মোহিত করত। তিনি চলে গেলেন, অথচ তার আরও অনেক দেয়ার ছিল। সৃষ্টিকর্তা তাকে ওপারে শান্তিতে রাখুন, এই প্রার্থনা করি।

শাকিব খান, চিত্রনায়ক

‘বাবু তুই কিন্তু ছয় মাস আমার সঙ্গে থাকবি। আমরা অনেক আড্ডা দেব, নির্মল বাতাস নেব আমরা’-এ কথাগুলো সিঙ্গাপুর থেকে আমায় বলেছিলেন দাদা। ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার সময়ও মন খারাপ বলেছিলেন, ‘বাবু আমি ভালো নেই রে, রাজশাহী চলে যাচ্ছি।’ দাদার সঙ্গে বড় হয়েছি। কত কত গল্প। কীভাবে ভুলে থাকব দাদাকে। সিঙ্গাপুর যাওয়ার আগে তিনি আমার একটা গানে কণ্ঠ দিয়ে গিয়েছিলেন। সুস্থ হয়ে ফিরে এসে সে গানটি ফাইনাল করার কথা ছিল। কিন্তু দাদা তো চলে গেলেন। কী বলব কিছুই বুঝতে পারছি না। বিধাতা দাদাকে ভালো রাখুন।

ইথুন বাবু, গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত