করোনা আতঙ্কের মাঝেও নাট্যাঙ্গন চাঙ্গা

শুটিং শুরু করেছেন তারকাশিল্পীরা

  সোহেল আহসান ০৮ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছবি সংগৃহীত

গত মার্চের শুরুর দিকে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয়। তারপর থেকেই শুরু হতে থাকে ভোগান্তির পথচলা। যে কারণে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানও সংক্ষেপ করা হয়েছিল। মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে প্রায় সবকিছুই বন্ধ হয়ে যায়। অন্যান্য সেক্টরের মতো নাট্যাঙ্গনও থমকে যায়। ঘরবন্দি হয়ে পড়েন অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীরা। যে কারণে বাংলা নববর্ষ এবং রোজার ঈদে উল্লেখ করার মতো কোনো নাটকই প্রচার করতে পারেনি টিভি চ্যানেলগুলো।

রোজার ঈদের পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে নাটকের শুটিং শুরু করা হয়; কিন্তু কাজ শুরুর ঘোষণা আসার পর খুব বেশি আগ্রহ দেখা যায়নি অভিনয়শিল্পী ও নির্মাতাদের। কিন্তু লকডাউন তুলে নেয়ার পর এখন সবকিছুই খুলে দেয়া হয়েছে।

টিভি চ্যানেলগুলোও আগামী কোরবানি ঈদ সামনে রেখে নতুন নাটক নির্মাণের জন্য নির্মাতাদের উৎসাহিত করছেন। কোনো কোনো টিভি চ্যানেল নাটকের বাজেট বাড়িয়ে দিয়েছে।

এতে নির্মাতারা অভিনয়শিল্পীদের পারিশ্রমিকও বৃদ্ধি করেছেন বলে জানিয়েছেন কয়েকজন সিনিয়র অভিনয়শিল্পী। এতে করে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে নাটকপাড়া।

চলতি সপ্তাহ থেকেই শুটিং স্পটগুলো মুখরিত হয়ে উঠেছে। বেশিরভাগ শুটিং হাউসেই সিডিউল পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ কেউ আবার বাসাবাড়িকেই শুটিংবাড়ি বানিয়ে নাটক নির্মাণ করছেন।

কিছুদিন আগে মোশাররফ করিম তার নিজ বাড়িতে ‘উইশ’ নামের একটি নাটকের শুটিং করেছেন। তিনি বলেন, ‘সাধারণ সময়েই অভিনয়ের প্রচণ্ড চাপ থাকে আমার ওপর। আর ঈদে সেটি কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। এখনও সেভাবে অভিনয়ে ফিরিনি। একটি নাটকের শুটিং শেষ করেছি গত সপ্তাহে। যদি পরিবেশ সাপোর্ট করে তাহলে আরও কয়েকটি নাটকে অভিনয়ের ইচ্ছা আছে।’ অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম ‘গল্প নয়’ নাটকের শুটিং করেছেন নিজ বাসায়।

এদিকে অপূর্ব এবং মেহজাবিনকে নিয়ে নির্মিত হচ্ছে ‘প্রাণপ্রিয়’ নামের একটি নাটক। এ অভিনয়শিল্পীরা তিন মাস পর অভিনয়ে ফিরছেন ঈদের নাটক দিয়ে। অভিনয়ে ফেরা প্রসঙ্গে অপূর্ব বললেন, ‘করোনাভাইরাস নির্মূল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। অনেকদিনই তো বাসায় বসে থাকলাম। যেহেতু আমার পেশা অভিনয়, তাই কাজও তো করতে হবে। এসব কিছু বিবেচনায় রেখেই কাজ শুরু করছি। প্রথম কাজটি করে যদি মনে হয় স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে, তাহলে ঈদের আগে আরও কাজ করব।’

এদিকে লকডাউন তুলে দেয়ার পর থেকে প্রায় প্রতিদিন ঈদের নাটকে অভিনয় করে যাচ্ছেন জাহিদ হাসান। কখনও গাজীপুরের পূবাইল আবার কখনও রাজধানীর বিভিন্ন শুটিং স্পটে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে জাহিদ হাসান বলেন, ‘ঈদ কিংবা কোনো উৎসবে আমার কাছে প্রচুর কাজের প্রস্তাব আসে। গত ঈদে সেভাবে কাজ করতে পারিনি। তাই কোরবানির ঈদের কাজ করছি। হয়তো ঈদের কয়েকদিন আগে পর্যন্ত শুটিং করতে হবে। সব মিলিয়ে দারুণ ব্যস্ত সময় পার করছি।’

প্রতি ঈদেই সঙ্গীতশিল্পী ও তাহসান খান অভিনীত নাটকের চাহিদাও থাকে আকাশচুম্বী। চলতি বছরের শুরু থেকেই নাটকে সেভাবে দেখা যায়নি এ গায়ক-কাম-অভিনেতাকে। গত ঈদে তার অভিনীত তেমন কোনো নাটক প্রচার হয়নি।

এ ছাড়া দীর্ঘ সময় ঘরবন্দি ছিলেন তিনি। চলতি সপ্তাহেই ঢাকার বাইরে একটি খণ্ড নাটক দিয়ে অভিনয়ে ফিরছেন তাহসান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গত ঈদেও নাটকে অভিনয় করিনি। এবার অভিনয় করছি কলাকুশলীদের কথা ভেবে। কারণ আমরা যদি অভিনয় করি তাহলে ওদের কর্মসংস্থান হবে। এতে সামষ্টিকভাবে সবাই উপকৃত হব। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে যদি কেউ আমাকে নিয়ে নাটক বানাতে চায়, তাহলে আমার কাজ করতে কোনো আপত্তি থাকবে না।’

এ ছাড়া আনিসুর রহমান মিলন, মীর সাব্বির, নাদিয়া মিম, টয়া, মিম মানতাসা, হোমায়রা হিমু, নাদিয়া, এফএস নাঈম, মনোজ প্রামাণিক, শাহেদ শরীফ খান, তারিক আনাম খান, সাফা কবির, সাবিলা নূর, তানজিন তিশা, আখম হাসানসহ অনেকে নাটকের শুটিং শুরু করে দিয়েছেন।

স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে কয়েকজন নির্মাতা কিছুসংখ্যক অভিনয়শিল্পীকে নিয়ে নির্দিষ্ট একটি শুটিং হাউসে একাধিক নাটকের শুটিং করছেন। এ ছাড়া যারা এখনও কাজে ফেরেননি তারাও অল্প সময়ের মধ্যেই শুটিংয়ে ফিরবেন বলে জানা গেছে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে। তারকা অভিনয়শিল্পীদের শুটিংয়ে ফেরার কারণে আগামী ঈদে টিভি চ্যানেলগুলোকে আর নতুন নাটকের খরায় পড়তে হচ্ছে না- এমনটাই বলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত