তবু আমারে দেব না ভুলিতে
jugantor
নুরুল ইসলাম ১৯৪৬-২০২০
তবু আমারে দেব না ভুলিতে

  বিনোদন ডেস্ক  

১৮ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যমুনা গ্রুপের বরেণ্য চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুল

যেতে দিতে মন চায় না কারও, মানুষ তবু চলে যায়! তারপরও মনের জানালায় বারবার উঁকি দেয় সেই প্রিয় মুখ। তিনি যমুনা গ্রুপের বরেণ্য চেয়ারম্যান, আমাদের প্রিয় অভিভাবক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম। সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন ১৩ জুলাই ২০২০।

তিনি ছিলেন দেশের শিল্প খাতের একজন অনন্য সফল উদ্যোক্তা। ছিলেন মিডিয়াবান্ধব। বিনোদন জগতের বিশিষ্টজন ও ছোট-বড় অনেক তারকার সঙ্গেও ছিল তার আন্তরিক সম্পর্ক। তার মৃত্যুতে শোকাহত দেশের শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও।

দেশ গড়ার সময়, দেশের উন্নয়ন করার সময় নুরুল ইসলাম বাবুল সাহেবের প্রয়াণ খুবই দুঃখজনক। ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল না। তিনি শিল্প খাতে খুবই সফল একজন মানুষ ছিলেন। তার হাতে তৈরি করা যমুনা ফিউচার পার্ক অন্যতম দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা।

তিনি বেঁচে থাকলে হয়তো দূরদর্শী পরিকল্পনা নিয়ে অনেক দূর এগিয়ে নিতেন তার কর্মপরিধি। তার কাজের আরেকটি বড় দিক হল তিনি টাকা কখনও বিদেশে নিয়ে যাননি। দেশের টাকা দেশেই রেখে বিনিয়োগ করেছেন নতুন নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান তৈরি করে। দেশকে সমৃদ্ধ করার জন্য তার যে উদ্যোগ ছিল, তা যেন চলমান রাখেন উত্তরসূরিরা, এটাই কামনা করছি। সবকিছু মিলিয়ে আমি বলব, তার অকাল প্রয়াণ দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। তিনি যেন ওপারে ভালো থাকেন, এ প্রার্থনাই করছি।

- সারাহ বেগম কবরী, অভিনয়শিল্পী ও সাবেক সংসদ সদস্য

ব্যক্তিগতভাবে নুরুল ইসলাম বাবুল সাহেবের সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল না। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। দেশকে ভালোবাসেন এমন একজন ব্যক্তিকে আমরা হারালাম যা অবশ্যই ক্ষতির কারণ। তার আত্মা শান্তিতে থাকুক এবং তার স্মৃতিকে যেন আমরা ধরে রাখতে পারি, সে চেষ্টাই করে যেতে হবে। তিনি জীবদ্দশায় যে কাজগুলো করে গেছেন, তা যেন চলমান থাকে সেই অনুরোধ রইল তার উত্তরসূরিদের কাছে।

তিনি একক প্রচেষ্টায় প্রায় অর্ধশত শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই সফল হয়েছে; যা তাকে ব্যবসায়ী হিসেবে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তার প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনেক শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। আরও কয়েকটি প্রকল্প তার পরিকল্পনায় ছিল বলে শুনেছি, সেগুলো যদি বাস্তবায়ন হয় তাহলে তা-ও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে।

- আবুল হায়াত, অভিনয়শিল্পী ও নির্মাতা, নাট্যকার

যমুনা গ্রুপ ও নুরুল ইসলাম বাবুলের কথা কম-বেশি সবাই জানেন। সফল একজন উদ্যোক্তা ছিলেন তিনি। দেশের শিল্পাঙ্গনে ব্যাপক বিপ্লব ঘটিয়েছেন তিনি। আমি যেহেতু শোবিজাঙ্গনের মানুষ, তাই তার মিডিয়ার কথাই বলতে চাই। দৈনিক যুগান্তর ও যমুনা টিভি সবসময় আমার এবং আমার সংগঠনের পাশে ছিল। আমিও তাদের পাশে ছিলাম। গণমাধ্যম দুটি সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চষ্টা করেছে। বাবুল ভাই না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। আমাদেরও একদিন যেতে হবে। তাই প্রস্তুতিও নিতে হবে। বাবুল ভাই চলে গেছেন। আমি তার আত্মার শান্তি কামনা করছি। সেই সঙ্গে তার পরিবারের সব সদস্য যেন শোক সহ্য করে তার আদর্শ নিয়ে এগিয়ে যেতে পারেন সে দোয়াও করছি।

- ইলিয়াস কাঞ্চন, অভিনয়শিল্পী ও সংগঠক

তার চলে যাওয়া খুবই দুঃখজনক একটি ঘটনা। তিনি জীবদ্দশায় একটি শিল্পসমাজ প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। তার শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক মানুষের জীবিকার উৎস। খুব কম মানুষই পাওয়া যাবে যারা দেশের কথা ভেবে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে এতগুলো কাজ করে গেছেন, এ ক্ষেত্রে বাবুল সাহেব অনন্য। তার প্রতিটি কাজই ফলপ্রসূ হয়েছে। এ ছাড়া তার ব্যতিক্রমী চিন্তার ফসল হল তার প্রতিষ্ঠিত দুটি মিডিয়া হাউস। যুগান্তর এবং যমুনা টিভি সফলভাবে পরিচালনা করার জন্য প্রতিষ্ঠান দুটি মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। আমি মনে করি, সাংস্কৃতিকভাবে তিনি অনেক এগিয়ে ছিলেন। তিনি হয়তো দেহত্যাগ করেছেন; কিন্তু তার স্মৃতি অনুরণিত হতে থাকবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। আমি তার পারলৌকিক শান্তি কামনা করছি।

- ড. ইনামুল হক, অভিনয়শিল্পী ও নাট্যকার

নুরুল ইসলাম বাবুল আমার নানার দেশের মানুষ। তাকে নানা বলেই জানতাম। তার সঙ্গে আমার অনেকবার দেখা হয়েছিল; কথা হয়েছিল অনেক। আসলে ভালো মানুষগুলো আগেই চলে যান। দেশের স্বার্থে বাবুল অনেক কাজ করেছেন। পত্রপত্রিকায় দেখেছি ৪১টি প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন তিনি। জীবদ্দশায় অর্জিত সব অর্থ দেশেই বিনিয়োগ করেছেন। দেশি পণ্য তৈরিতে কাজ করে গেছেন। তাই মৃত্যুর পর দেশের মানুষের ভালোবাসাও পাচ্ছেন। সবচেয়ে বড় অর্জন, তিনি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তার অসময়ে চলে যাওয়াতে আমারও খুব খারাপ লাগছে। আল্লাহ তার সব ভুল মাফ করে জান্নাত দান করুন, এটাই দোয়া করি।

- ফেরদৌস ওয়াহিদ, সঙ্গীতশিল্পী

নুরুল ইসলাম বাবুল ভাইয়ের সঙ্গে একবারই আমার মুখোমুখি কথা বলার সুযোগ হয়েছিল যমুনা টিভি উদ্বোধনের আগে। কোনো একটি কাজের জন্যই তিনি আমাকে ডেকেছিলেন। তখন আমাকে বলেছিলেন ‘আপনাদের জন্যই এ টিভি চ্যানেল করেছি’। আমরা যেন যমুনা টিভি এবং যুগান্তরের সঙ্গে যুক্ত থাকি। কিছু কিছু ক্ষতি আসলেই অপূরণীয়। তিনি চলে যাওয়ার পর শিল্প জগতে একটা শূন্যতা তৈরি হল। তার মতো মানুষের আরও দরকার আছে বাংলাদেশে। তাহলে আমাদের দেশ সুখ, সমৃদ্ধি ও উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল তা অব্যাহত থাকবে। এ মানুষটির তৈরি করা কর্মগুলোকে যেন তার পরবর্তী প্রজন্ম এবং তার কর্মীবাহিনী আজীবন সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান- এ প্রত্যাশাই থাকবে।

- ফেরদৌস, অভিনয়শিল্পী

বাবুল ভাইয়ের মৃত্যু সংবাদ শুনে মনটা খারাপ হয়ে গেল। করোনাকালে প্রতিদিনই আপনজন কারও না কারও মৃত্যু সংবাদ শুনছি। এগুলো যেন স্বাভাবিক হয়ে গেছে। তারপরও কষ্ট তো হৃদয়েই জমা হয়ে থাকে। বাবুল ভাই বড় ভালো মানুষ ছিলেন। তার কর্মজীবন নিয়ে পুরো দেশ জানে। দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি ছিলেন তিনি। দেশের জন্যই কাজ করে গেছেন। দেশ মাতৃকার মুক্তির জন্য ১৯৭১ সালে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন। পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন। এই প্রিয় মানুষটির জন্য এখন দোয়া করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই। দোয়া করি আল্লাহ তার সব ভুল ক্ষমা করে জান্নাত নসিব করেন। তাকে হারানো শোক সহ্য করার শক্তি দিক তার পরিবারের সব সদস্যদের।

- আজিজুল হাকিম, অভিনয়শিল্পী

বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলে যে ক’জন সফল মানুষ আছেন, তাদের মধ্যে যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুল অন্যতম। এ গুণী মানুষটি হঠাৎ করেই না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন; যা দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। সব প্রতিষ্ঠানই সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তার চিন্তার জগৎ ছিল বিশাল। সবকিছুর আগে দেশের কথা ভাবতেন তিনি। তার সব বিনিয়োগ কিংবা কর্মপরিকল্পনা দেশের মধ্যেই পরিচালিত করতেন। যুগান্তর ও যমুনা টিভির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আমি প্রতিবারই যেতাম। সেখানে তার সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতেই শুভেচ্ছা বিনিময় হতো। এ সময়ে তার চলে যাওয়া দেশ ও শিল্প খাতের জন্য বিশাল ক্ষতি। আমি তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।

- ইমন, অভিনয়শিল্পী

দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী। একদিন আমাদের সবাইকে চলে যেতে হবে। যমুনা গ্রুপের মালিক নুরুল ইসলাম বাবুল ভাই ওপারে চলে গেছেন। দেশীয় শিল্প জগতের জন্য খুবই মন খারাপ করা একটি খবর এটি। আসলে তাকে নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই। এ মানুষটি সবসময় চেষ্টা করেছেন দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে। ভালো একজন উদ্যোক্তা ছিলেন তিনি। তার এ চলে যাওয়া উদ্যোক্তা জগতে অনেক বড় ক্ষতি। তার প্রতিষ্ঠানগুলো চালিয়ে নিতে পরিবার সবসময় স্বচেষ্ট থাকবে এটি আশা করি। বাবুল ভাইকে আল্লাহ ওপারে শান্তিতে রাখুন এটাই দোয়া করি।

- হায়দার হোসেন, সঙ্গীতশিল্পী

যদিও আমাদের কখনও দেখা হয়নি, তবে তার কর্মের পরিধি সম্পর্কে আমার যথেষ্ট জানাশোনা আছে। একজন সফল শিল্পপতির পাশাপাশি তিনি ছিলেন খুবই সংস্কৃতিমনা। বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সম্মুখযোদ্ধা ছিলেন। অসংখ্য পরিবারের কর্মসংস্থানে তিনি যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা এ জাতি যুগ যুগ মনে রাখবে। অসময়ে তার চলে যাওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনার। মিডিয়াবান্ধব এ মহান মানুষটির বিদেহী আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা ও শোকগ্রস্ত পরিবার-স্বজনের জন্য সমবেদনা। তার রেখে যাওয়া কর্মের গতি আরও সচল হোক, এ প্রত্যাশা।

- ধ্রুব গুহ, সঙ্গীতশিল্পী

যুগান্তরের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অনেকবারই নুরুল ইসলাম বাবুল সাহেবের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। প্রতিবারই হাসিমুখে কথা বলেছেন, কুশল বিনিময় করেছেন। তার এভাবে চলে যাওয়া সত্যিই কষ্টের বিষয়। তিনি শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য একজন পথিকৃৎ। যারা স্বপ্ন দেখেন সাধারণ মানুষ থেকে শিল্পোদ্যোক্তা হবেন, তাদের জন্য নুরুল ইসলাম অনন্য উদাহরণ। তিনি পৃথিবীকে একটা উদাহরণ রেখে গেছেন যে কি করে সাধারণ থেকে অসাধারণ হওয়া যায়। এর জন্য তিনি যুগে যুগে মানুষের মনে বেঁচে থাকবেন। তিনি যে এত বড় একজন শিল্পপতি ছিলেন, তা তার ব্যবহারে কখনও প্রকাশ পায়নি। তার পরিবারের প্রতি এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা রইল।

- এসডি রুবেল, সঙ্গীতশিল্পী

বাংলাদেশে যে ক’জন সফল উদ্যোক্তা আছেন, তাদের মধ্যে যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলাম বাবুল ভাই অন্যতম। তিনি যেখানেই লগ্নি করেছেন, সেখানেই সফল হয়েছেন। তার মতো সুদূরপ্রসারী চিন্তার ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব কমই আছেন। তার চলে যাওয়ায় শিল্প খাতে বড় শূন্যতা তৈরি হল। তিনি ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। এ ছাড়া সাংস্কৃতিকভাবেও তার অবদান আছে। যুগান্তর ও যমুনা টিভির মতো সফল দুটি মিডিয়া হাউস প্রতিষ্ঠা করার মানসিকতাসম্পন্ন এ মানুষটি এখানেও সফল ছিলেন। সব শেষে গুণী এ মানুষটির জন্য আমরা যেন মন খুলে দোয়া করি। সৃষ্টিকর্তা তাকে যেন ভালো রাখেন এটাই কামনা করছি।

- বাপ্পী চৌধুরী, অভিনয়শিল্পী

নুরুল ইসলাম ১৯৪৬-২০২০

তবু আমারে দেব না ভুলিতে

 বিনোদন ডেস্ক 
১৮ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
যমুনা গ্রুপের বরেণ্য চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুল
যমুনা গ্রুপের বরেণ্য চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুল

যেতে দিতে মন চায় না কারও, মানুষ তবু চলে যায়! তারপরও মনের জানালায় বারবার উঁকি দেয় সেই প্রিয় মুখ। তিনি যমুনা গ্রুপের বরেণ্য চেয়ারম্যান, আমাদের প্রিয় অভিভাবক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম। সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন ১৩ জুলাই ২০২০।

তিনি ছিলেন দেশের শিল্প খাতের একজন অনন্য সফল উদ্যোক্তা। ছিলেন মিডিয়াবান্ধব। বিনোদন জগতের বিশিষ্টজন ও ছোট-বড় অনেক তারকার সঙ্গেও ছিল তার আন্তরিক সম্পর্ক। তার মৃত্যুতে শোকাহত দেশের শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও।

দেশ গড়ার সময়, দেশের উন্নয়ন করার সময় নুরুল ইসলাম বাবুল সাহেবের প্রয়াণ খুবই দুঃখজনক। ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল না। তিনি শিল্প খাতে খুবই সফল একজন মানুষ ছিলেন। তার হাতে তৈরি করা যমুনা ফিউচার পার্ক অন্যতম দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা।

তিনি বেঁচে থাকলে হয়তো দূরদর্শী পরিকল্পনা নিয়ে অনেক দূর এগিয়ে নিতেন তার কর্মপরিধি। তার কাজের আরেকটি বড় দিক হল তিনি টাকা কখনও বিদেশে নিয়ে যাননি। দেশের টাকা দেশেই রেখে বিনিয়োগ করেছেন নতুন নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান তৈরি করে। দেশকে সমৃদ্ধ করার জন্য তার যে উদ্যোগ ছিল, তা যেন চলমান রাখেন উত্তরসূরিরা, এটাই কামনা করছি। সবকিছু মিলিয়ে আমি বলব, তার অকাল প্রয়াণ দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। তিনি যেন ওপারে ভালো থাকেন, এ প্রার্থনাই করছি।

- সারাহ বেগম কবরী, অভিনয়শিল্পী ও সাবেক সংসদ সদস্য

ব্যক্তিগতভাবে নুরুল ইসলাম বাবুল সাহেবের সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল না। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। দেশকে ভালোবাসেন এমন একজন ব্যক্তিকে আমরা হারালাম যা অবশ্যই ক্ষতির কারণ। তার আত্মা শান্তিতে থাকুক এবং তার স্মৃতিকে যেন আমরা ধরে রাখতে পারি, সে চেষ্টাই করে যেতে হবে। তিনি জীবদ্দশায় যে কাজগুলো করে গেছেন, তা যেন চলমান থাকে সেই অনুরোধ রইল তার উত্তরসূরিদের কাছে।

তিনি একক প্রচেষ্টায় প্রায় অর্ধশত শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই সফল হয়েছে; যা তাকে ব্যবসায়ী হিসেবে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তার প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনেক শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। আরও কয়েকটি প্রকল্প তার পরিকল্পনায় ছিল বলে শুনেছি, সেগুলো যদি বাস্তবায়ন হয় তাহলে তা-ও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে।

- আবুল হায়াত, অভিনয়শিল্পী ও নির্মাতা, নাট্যকার

যমুনা গ্রুপ ও নুরুল ইসলাম বাবুলের কথা কম-বেশি সবাই জানেন। সফল একজন উদ্যোক্তা ছিলেন তিনি। দেশের শিল্পাঙ্গনে ব্যাপক বিপ্লব ঘটিয়েছেন তিনি। আমি যেহেতু শোবিজাঙ্গনের মানুষ, তাই তার মিডিয়ার কথাই বলতে চাই। দৈনিক যুগান্তর ও যমুনা টিভি সবসময় আমার এবং আমার সংগঠনের পাশে ছিল। আমিও তাদের পাশে ছিলাম। গণমাধ্যম দুটি সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চষ্টা করেছে। বাবুল ভাই না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। আমাদেরও একদিন যেতে হবে। তাই প্রস্তুতিও নিতে হবে। বাবুল ভাই চলে গেছেন। আমি তার আত্মার শান্তি কামনা করছি। সেই সঙ্গে তার পরিবারের সব সদস্য যেন শোক সহ্য করে তার আদর্শ নিয়ে এগিয়ে যেতে পারেন সে দোয়াও করছি।

- ইলিয়াস কাঞ্চন, অভিনয়শিল্পী ও সংগঠক