সুরসম্রাটের বিদায়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি
jugantor
সুরসম্রাটের বিদায়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি
চলে গেলেন দেশের প্রখ্যাত গীতিকবি, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক আলাউদ্দীন আলী। গতকাল বিকেলে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুতে সঙ্গীতাঙ্গনে নেমেছে শোকের ছায়া। সহকর্মীরা এই মহান সুরসম্রাটের বিদায়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন।

  বিনোদন ডেস্ক  

১০ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ছবি সংগৃহীত
ছবি সংগৃহীত

আলাউদ্দীন আলীর তুলনা অন্য কারও সঙ্গে হবে না। করাটাও উচিত নয়। বাংলা সঙ্গীতে তার অবদানের কথা এ মুহূর্তে বলার প্রয়োজন বোধ করছি না। বাংলা গানের অগণিত পাঠক তাকে মনে রাখবেন শ্রদ্ধা ভরে। আমারই একটি গানের কথা এখন খুব মনে পড়ছে- ‘শেষ বিচারের হাইকোর্টেতে তিনি আমায় করবেন পার’। এ সময়ে আলীকে নিয়ে কী বলব বুঝতে পারছি না। আমার সময়কালের সঙ্গীতের মানুষগুলোর তালিকাটা শূন্যের দিকে যাচ্ছে। কিছু ভালো লাগছে না আর। কিভাবে নিজেকে বুঝাব। এটাই শুধু বলব, ওপারে আলী ভালো থাকবে, সুন্দর থাকবে।

গাজী মাজহারুল আনোয়ার, গীতিকার ও চলচ্চিত্রকার

আর কিছু ভালো লাগছে না। কেউ ফোন করলে, বিশেষ করে সঙ্গীতের কারও ফোন তুলতে ইচ্ছে করে না। টেলিভিশনে চোখ রাখতে মন চায় না। বয়স তো কম হলো না আমারও। এ সময়ে এসে ফোনে, টেলিভিশনে প্রিয়জনদের চলে যাওয়ার খবর শুনে নিজেকে নিজের ভেতর রাখতে পারছি না। আলী চলে গেল, মেনে নেয়া কঠিন! তার চেয়ে কঠিন নিজকে ধরে রাখা। আমার বয়স তো কম নয়, কবে চলে যাই জানি না। ভালো লাগছে না কিছু। আলীকে আল্লাহ ওপারে ভালো রাখুক। তার শোক সহ্য করার শক্তি দিক সঙ্গীতপ্রেমীদের।

আলম খান, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক

তাকে সুরস ষ্টা বলা হয়। আমাদের সময়কালে কয়েকজন আমরা বয়স এবং কাজের দিক দিয়ে কাছাকাছি। আলাউদ্দীন আলী চলে গেল। তার চলে যাওয়ার এ সময়ে আমি কতটুকু কথা বলব, যেটা দিয়ে নিজকে তৃপ্ত রাখতে পারব! কত কাজ করেছি একসঙ্গে। কত স্মৃতি, কত গল্প। এগুলো বলে শেষ করা যাবে না। তাকে নিয়ে অনেক অনেক কথা বলার আছে। এ মুহূর্তে তার চলে যাওয়া, তার পরিবারের সদস্যদের শোক সহ্য করার শক্তি আল্লাহ দিক, এটাই প্রার্থনা করি। একই সঙ্গে দোয়া করি ওপারে আলাউদ্দীন আলী ভালো থাকুক।

সৈয়দ আবদুল হাদী, সঙ্গীতশিল্পী

আলাউদ্দীন আলীকেও হারালাম। চলেই গেল! সঙ্গীতের এক সাধক নিয়ে কী বলার আছে। এ মুহূর্তে শোক সহ্য করতেই কষ্ট হচ্ছে। আলাউদ্দীন আলী একজন মহান সুরস ষ্টা। আমি বলব, বিশ্বের মোস্ট টেলেন্টেড মানুষদের মধ্যে একজন তিনি। তার সঙ্গে আমার পরিচয় ‘দ্য রেইন’ ছবির মধ্য দিয়ে। এ ‘ছবিতে আয় মেঘ আয় রে’ গানটি করেছি তার সুরে। এরপর আরও অনেক কাজ করেছি। তার চলে যাওয়া সঙ্গীতের বিশাল ক্ষতি। তার এভাবে চলে যাওয়া মেনে নেয়া কষ্টকর। কত কাজ করেছি আমরা একসঙ্গে। কত গল্প আমাদের। এগুলো এক বাক্যে বা এক পৃষ্ঠায় বলে শেষ করা যাবে না। এ মুহূর্তে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। ওপারে ভালো থাকুক সুরের জাদুকর।

রুনা লায়লা, সঙ্গীতশিল্পী

করোনাকালে, সর্বোপরি বাংলাদেশের চলতি সময়ে একাধিক দুর্যোগের সময় আমরা অনেক রত্ন হারিয়েছি। আলাউদ্দীন আলীকেও যে হারাব এটা ভাবতে পারিনি। সে আমার কয়েক বছরের ছোট হলেও আমাদের সম্বোধনটা ছিল ‘আপনি’। আর তার একটা বিষয় অনেকেই জানেন না, তা হচ্ছে- সে ভালো বেহালা বাজাতে পারত। বেহালা বাজানোটা যদি সে ঠিকমতো চালিয়ে যেতে পারত তবে বিশ্বের কয়েকজন বেহালা বাদকের মধ্যে এক নম্বর না থাকলেও দু’তিনের মধ্যে থাকত এটা নিশ্চিত বলতে পারি। তবে সে যে কাজ করে গেছে এতে সে সফল। তার চলে যাওয়া আমাকে খুব কষ্ট দিচ্ছে। আল্লাহ তাকে ভালো রাখুক ওপারে, এটাই দোয়া করি।

খুরশিদ আলম, সঙ্গীতশিল্পী

সুরকার, গীতিকার ও সঙ্গীত পরিচালক আলাউদ্দীন আলী মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সঙ্গীতাঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হল তা সহজে পূরণ হবার নয়। এই অনন্য সৃজনশীল সুরকারের সুরে আমি গেয়েছি। প্রায় সমবয়সী এই মানুষটি মতিঝিল কলোনিতে বড় হয়েছে। একসময় খিলগাঁওয়ে বাড়ি করেছিলেন। এভাবে তার সঙ্গে আমার অনেক হৃদ্যতা, অনেক ভালোবাসা, অনেক স্মৃতি। সঙ্গীতের সুর আয়োজনে তার আধুনিকতা এ দেশের দর্শকশ্রোতা বহুকাল মনে রাখবে। তার মৃত্যু নেই, তিনি অমর। যেখানেই থাকুক ভালো থাকুক, আমিন।

ফকির আলমগীর, গণসঙ্গীতশিল্পী

‘এক্সিডেন্ট’ ছবিতে আমি প্রথম আলাউদ্দীন আলী ভাইয়ের সুর ও সঙ্গীতে প্লেব্যাক করি। পাকিস্তানের আলমগীর এবং আমি দু’জনই প্রথমবার এ ছবিতে একসঙ্গে কাজ করি। পরে তার সুরে অনেক গান গেয়েছি। প্রত্যেকটি গানই শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছে। একজন আলাউদ্দীন আলী আমাদের সঙ্গীতের মহান ব্যক্তি, একটা নক্ষত্র। আমার মনে পড়ে, ভারতের এক প্রখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক আমাকে বলেছিলেন, আলাউদ্দীন আলীর মতো মানুষ যদি আমাদের মুম্বাইতে থাকতেন, তাহলে আরও অনেক বেশি সম্মান, আন্তর্জাতিক পরিচিতি এবং অনেক গৌরবের জায়গায় থাকতেন। কিন্তু আমরা তাকে কতটা সম্মান দিতে পেরেছি সেটা ভাবার বিষয়। তার মতো একজন গুণী মানুষ আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। এভাবেই নক্ষত্ররা ঝরে যায়। আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। সৃষ্টিকর্তা তাকে যেন শান্তিতে রাখেন, এই প্রার্থনা করি।

কুমার বিশ্বজিৎ, সঙ্গীতশিল্পী

আলাউদ্দীন আলী আমাদের দেশের সুরস ষ্টাদের মধ্যে অন্যতম একজন। চলচ্চিত্রে আমি প্রথম তার সুর-সঙ্গীতেই গান গেয়েছি। ছবির নাম ছিল ‘ভাত দে’, পরিচালক ছিলেন আমজাদ হোসেন। আমার এবং মিতালী মুখার্জির অনেক শ্রোতাপ্রিয় গান তার সুর ও সঙ্গীতে করা। আকাশের সব তারা ঝরে যাবে- এ নামে একটি অ্যালবাম করেছিলাম আমরা। এই অ্যালবামের সবক’টি গানই শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছিল। গানগুলো করেছিলেন শ্রদ্ধেয় আলাউদ্দীন আলী। তার কাছে আমি এতটাই ঋণী যে, আমার গায়ের চামড়া দিয়ে তার জুতা বানিয়ে দিলেও সেই ঋণ শোধ হবে না। তার চলে যাওয়াটা আসলেই সঙ্গীতাঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তবু সবাইকে একদিন চলে যেতে হবে, এটাই নিয়ম। আমি এই মহান সুরস ষ্টার আত্মার শান্তি কামনা করি। সৃষ্টিকর্তা যেন তাকে তার সম্মানের জায়গায় অধিষ্ঠিত করেন।

তপন চৌধুরী, সঙ্গীতশিল্পী

এ বয়সে এত শোক সহ্য করব কীভাবে? একে একে চলে যাচ্ছেন অভিভাবকরা। এ শোক মেনে নিতে পারছি না। আর ভালো লাগছে না। আলাউদ্দীন আলী সঙ্গীতের সুরস ষ্টা, তার চলে যাওয়া সঙ্গীতের ক্ষতি। আমি আর কাকে গান শোনাব? কিছু দিন আগেই তাকে দেখতে গিয়ে ‘একবার যদি কেউ ভালোবাসত’ গানটি শুনিয়েছিলাম। তিনি কিছু বলেননি। তবে আমাদের চোখে চোখে কথা হয়েছিল, আমাকে দোয়া করে দিয়েছেন। তার চলে যাওয়া আমার কাছে খুব কষ্টের। আল্লাহ তাকে ওপারে ভালো রাখুক।

সামিনা চৌধুরী, সঙ্গীতশিল্পী

চলেই গেলেন বাংলাদেশের সুরসম্রাট আলাউদ্দীন আলী। তিনি নিজেই ছিলেন একটি ইতিহাস। রেখে গেছেন হাজারো ইতিহাস। আমার ছোট্ট জীবনে দেখা সবচেয়ে বড় মাপের সঙ্গীতজ্ঞ। বাংলাদেশকে ঋণী করেই চিরপ্রস্থানের পথে যাত্রা শুরু করলেন। রেখে গেলেন বাংলা ভাষায় অমর কিছু গান। আলী চাচার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

আসিফ আকবর, সঙ্গীতশিল্পী

সুরসম্রাটের বিদায়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি

চলে গেলেন দেশের প্রখ্যাত গীতিকবি, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক আলাউদ্দীন আলী। গতকাল বিকেলে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুতে সঙ্গীতাঙ্গনে নেমেছে শোকের ছায়া। সহকর্মীরা এই মহান সুরসম্রাটের বিদায়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন।
 বিনোদন ডেস্ক 
১০ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
ছবি সংগৃহীত

আলাউদ্দীন আলীর তুলনা অন্য কারও সঙ্গে হবে না। করাটাও উচিত নয়। বাংলা সঙ্গীতে তার অবদানের কথা এ মুহূর্তে বলার প্রয়োজন বোধ করছি না। বাংলা গানের অগণিত পাঠক তাকে মনে রাখবেন শ্রদ্ধা ভরে। আমারই একটি গানের কথা এখন খুব মনে পড়ছে- ‘শেষ বিচারের হাইকোর্টেতে তিনি আমায় করবেন পার’। এ সময়ে আলীকে নিয়ে কী বলব বুঝতে পারছি না। আমার সময়কালের সঙ্গীতের মানুষগুলোর তালিকাটা শূন্যের দিকে যাচ্ছে। কিছু ভালো লাগছে না আর। কিভাবে নিজেকে বুঝাব। এটাই শুধু বলব, ওপারে আলী ভালো থাকবে, সুন্দর থাকবে।

গাজী মাজহারুল আনোয়ার, গীতিকার ও চলচ্চিত্রকার

আর কিছু ভালো লাগছে না। কেউ ফোন করলে, বিশেষ করে সঙ্গীতের কারও ফোন তুলতে ইচ্ছে করে না। টেলিভিশনে চোখ রাখতে মন চায় না। বয়স তো কম হলো না আমারও। এ সময়ে এসে ফোনে, টেলিভিশনে প্রিয়জনদের চলে যাওয়ার খবর শুনে নিজেকে নিজের ভেতর রাখতে পারছি না। আলী চলে গেল, মেনে নেয়া কঠিন! তার চেয়ে কঠিন নিজকে ধরে রাখা। আমার বয়স তো কম নয়, কবে চলে যাই জানি না। ভালো লাগছে না কিছু। আলীকে আল্লাহ ওপারে ভালো রাখুক। তার শোক সহ্য করার শক্তি দিক সঙ্গীতপ্রেমীদের।

আলম খান, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক

তাকে সুরস ষ্টা বলা হয়। আমাদের সময়কালে কয়েকজন আমরা বয়স এবং কাজের দিক দিয়ে কাছাকাছি। আলাউদ্দীন আলী চলে গেল। তার চলে যাওয়ার এ সময়ে আমি কতটুকু কথা বলব, যেটা দিয়ে নিজকে তৃপ্ত রাখতে পারব! কত কাজ করেছি একসঙ্গে। কত স্মৃতি, কত গল্প। এগুলো বলে শেষ করা যাবে না। তাকে নিয়ে অনেক অনেক কথা বলার আছে। এ মুহূর্তে তার চলে যাওয়া, তার পরিবারের সদস্যদের শোক সহ্য করার শক্তি আল্লাহ দিক, এটাই প্রার্থনা করি। একই সঙ্গে দোয়া করি ওপারে আলাউদ্দীন আলী ভালো থাকুক।

সৈয়দ আবদুল হাদী, সঙ্গীতশিল্পী

আলাউদ্দীন আলীকেও হারালাম। চলেই গেল! সঙ্গীতের এক সাধক নিয়ে কী বলার আছে। এ মুহূর্তে শোক সহ্য করতেই কষ্ট হচ্ছে। আলাউদ্দীন আলী একজন মহান সুরস ষ্টা। আমি বলব, বিশ্বের মোস্ট টেলেন্টেড মানুষদের মধ্যে একজন তিনি। তার সঙ্গে আমার পরিচয় ‘দ্য রেইন’ ছবির মধ্য দিয়ে। এ ‘ছবিতে আয় মেঘ আয় রে’ গানটি করেছি তার সুরে। এরপর আরও অনেক কাজ করেছি। তার চলে যাওয়া সঙ্গীতের বিশাল ক্ষতি। তার এভাবে চলে যাওয়া মেনে নেয়া কষ্টকর। কত কাজ করেছি আমরা একসঙ্গে। কত গল্প আমাদের। এগুলো এক বাক্যে বা এক পৃষ্ঠায় বলে শেষ করা যাবে না। এ মুহূর্তে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। ওপারে ভালো থাকুক সুরের জাদুকর।

রুনা লায়লা, সঙ্গীতশিল্পী

করোনাকালে, সর্বোপরি বাংলাদেশের চলতি সময়ে একাধিক দুর্যোগের সময় আমরা অনেক রত্ন হারিয়েছি। আলাউদ্দীন আলীকেও যে হারাব এটা ভাবতে পারিনি। সে আমার কয়েক বছরের ছোট হলেও আমাদের সম্বোধনটা ছিল ‘আপনি’। আর তার একটা বিষয় অনেকেই জানেন না, তা হচ্ছে- সে ভালো বেহালা বাজাতে পারত। বেহালা বাজানোটা যদি সে ঠিকমতো চালিয়ে যেতে পারত তবে বিশ্বের কয়েকজন বেহালা বাদকের মধ্যে এক নম্বর না থাকলেও দু’তিনের মধ্যে থাকত এটা নিশ্চিত বলতে পারি। তবে সে যে কাজ করে গেছে এতে সে সফল। তার চলে যাওয়া আমাকে খুব কষ্ট দিচ্ছে। আল্লাহ তাকে ভালো রাখুক ওপারে, এটাই দোয়া করি।

খুরশিদ আলম, সঙ্গীতশিল্পী

সুরকার, গীতিকার ও সঙ্গীত পরিচালক আলাউদ্দীন আলী মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সঙ্গীতাঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হল তা সহজে পূরণ হবার নয়। এই অনন্য সৃজনশীল সুরকারের সুরে আমি গেয়েছি। প্রায় সমবয়সী এই মানুষটি মতিঝিল কলোনিতে বড় হয়েছে। একসময় খিলগাঁওয়ে বাড়ি করেছিলেন। এভাবে তার সঙ্গে আমার অনেক হৃদ্যতা, অনেক ভালোবাসা, অনেক স্মৃতি। সঙ্গীতের সুর আয়োজনে তার আধুনিকতা এ দেশের দর্শকশ্রোতা বহুকাল মনে রাখবে। তার মৃত্যু নেই, তিনি অমর। যেখানেই থাকুক ভালো থাকুক, আমিন।

ফকির আলমগীর, গণসঙ্গীতশিল্পী

‘এক্সিডেন্ট’ ছবিতে আমি প্রথম আলাউদ্দীন আলী ভাইয়ের সুর ও সঙ্গীতে প্লেব্যাক করি। পাকিস্তানের আলমগীর এবং আমি দু’জনই প্রথমবার এ ছবিতে একসঙ্গে কাজ করি। পরে তার সুরে অনেক গান গেয়েছি। প্রত্যেকটি গানই শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছে। একজন আলাউদ্দীন আলী আমাদের সঙ্গীতের মহান ব্যক্তি, একটা নক্ষত্র। আমার মনে পড়ে, ভারতের এক প্রখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক আমাকে বলেছিলেন, আলাউদ্দীন আলীর মতো মানুষ যদি আমাদের মুম্বাইতে থাকতেন, তাহলে আরও অনেক বেশি সম্মান, আন্তর্জাতিক পরিচিতি এবং অনেক গৌরবের জায়গায় থাকতেন। কিন্তু আমরা তাকে কতটা সম্মান দিতে পেরেছি সেটা ভাবার বিষয়। তার মতো একজন গুণী মানুষ আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। এভাবেই নক্ষত্ররা ঝরে যায়। আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। সৃষ্টিকর্তা তাকে যেন শান্তিতে রাখেন, এই প্রার্থনা করি।

কুমার বিশ্বজিৎ, সঙ্গীতশিল্পী

আলাউদ্দীন আলী আমাদের দেশের সুরস ষ্টাদের মধ্যে অন্যতম একজন। চলচ্চিত্রে আমি প্রথম তার সুর-সঙ্গীতেই গান গেয়েছি। ছবির নাম ছিল ‘ভাত দে’, পরিচালক ছিলেন আমজাদ হোসেন। আমার এবং মিতালী মুখার্জির অনেক শ্রোতাপ্রিয় গান তার সুর ও সঙ্গীতে করা। আকাশের সব তারা ঝরে যাবে- এ নামে একটি অ্যালবাম করেছিলাম আমরা। এই অ্যালবামের সবক’টি গানই শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছিল। গানগুলো করেছিলেন শ্রদ্ধেয় আলাউদ্দীন আলী। তার কাছে আমি এতটাই ঋণী যে, আমার গায়ের চামড়া দিয়ে তার জুতা বানিয়ে দিলেও সেই ঋণ শোধ হবে না। তার চলে যাওয়াটা আসলেই সঙ্গীতাঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তবু সবাইকে একদিন চলে যেতে হবে, এটাই নিয়ম। আমি এই মহান সুরস ষ্টার আত্মার শান্তি কামনা করি। সৃষ্টিকর্তা যেন তাকে তার সম্মানের জায়গায় অধিষ্ঠিত করেন।

তপন চৌধুরী, সঙ্গীতশিল্পী

এ বয়সে এত শোক সহ্য করব কীভাবে? একে একে চলে যাচ্ছেন অভিভাবকরা। এ শোক মেনে নিতে পারছি না। আর ভালো লাগছে না। আলাউদ্দীন আলী সঙ্গীতের সুরস ষ্টা, তার চলে যাওয়া সঙ্গীতের ক্ষতি। আমি আর কাকে গান শোনাব? কিছু দিন আগেই তাকে দেখতে গিয়ে ‘একবার যদি কেউ ভালোবাসত’ গানটি শুনিয়েছিলাম। তিনি কিছু বলেননি। তবে আমাদের চোখে চোখে কথা হয়েছিল, আমাকে দোয়া করে দিয়েছেন। তার চলে যাওয়া আমার কাছে খুব কষ্টের। আল্লাহ তাকে ওপারে ভালো রাখুক।

সামিনা চৌধুরী, সঙ্গীতশিল্পী

চলেই গেলেন বাংলাদেশের সুরসম্রাট আলাউদ্দীন আলী। তিনি নিজেই ছিলেন একটি ইতিহাস। রেখে গেছেন হাজারো ইতিহাস। আমার ছোট্ট জীবনে দেখা সবচেয়ে বড় মাপের সঙ্গীতজ্ঞ। বাংলাদেশকে ঋণী করেই চিরপ্রস্থানের পথে যাত্রা শুরু করলেন। রেখে গেলেন বাংলা ভাষায় অমর কিছু গান। আলী চাচার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

আসিফ আকবর, সঙ্গীতশিল্পী