‘যুবতী রাধে’ গানটি সরলপুর ব্যান্ডের মৌলিক সৃষ্টি নয়
jugantor
হ্যালো...
‘যুবতী রাধে’ গানটি সরলপুর ব্যান্ডের মৌলিক সৃষ্টি নয়
চঞ্চল চৌধুরী, নাটকের নন্দিত নাম। তবে সিনেমায়ও আছে তার সমান খ্যাতি। পেশাদার গায়ক না হয়েও ‘যুবতী রাধে’ শিরোনামে একটি লোকগীতি রপ্ত করে শুনিয়েছেন এ শখের গায়ক। গানটি ইউটিউবে প্রচার হওয়ার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসার জোয়ারে ভাসতে দেখা গেছে তাকে। দিন গড়াতেই আবার পড়তে হয়েছে সমালোচনার মুখে। সমসাময়িক এসব প্রসঙ্গ নিয়ে আজকের ‘হ্যালো...’ বিভাগে কথা বলেছেন তিনি

  এসএম শাফায়েত  

২৮ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ছবি সংগৃহীত

* পূজার সময় কীভাবে কাটালেন?

** পূজার সেই আনন্দ এখন আর নেই। ছোটবেলায় যত আনন্দ উল্লাস, হইহুল্লোড় করে কাটিয়েছি তেমন সময়ও এখন নেই। এবারের পূজা গ্রামের বাড়িতে বাবা-মায়ের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি। বাড়িতে ভাইবোন, বাবা-মা,

আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে কয়েকদিন কাটাতে পারলাম, সাক্ষাৎ হল।

* আপনার কণ্ঠে ধারণ করা ‘যুবতী রাধে’ শিরোনামে একটি গান নিয়ে বেশ বিতর্কও চলছে। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?

** বহুল জনপ্রিয় ‘বকুল ফুল বকুল ফুল’ গানটি কিন্তু সর্বপ্রথম আমার কণ্ঠেই রেকর্ড হয়েছিল। এরপর ‘জলের গান’ গেয়েছে নতুনভাবে, দিনাত জাহান মুন্নীও গেয়েছেন। এখন আমি কি বলব যে, এ গান তারা আমার অনুমতি ছাড়া কেন গাইল? আমি এ গানের মালিক? বা আমি এ গানের কপিরাইট আমার নামে করে নেব? একদমই না। কারণ গানটি অনেক আগে থেকেই মানুষের মুখে মুখে বেজে চলেছে। আমি সেটাকে রেকর্ড করে সবার কাছে তুলে ধরেছি। তাই বলে এ গান আমার হয়ে গেল না।

* তাহলে এ বিষয়টির ব্যাখ্যা কী?

** আমাদের লোকগানের পদ রচয়িতা কে বা কারা, তা আমার জানা নেই। লোকমুখে শুনতে শুনতে একটা পর্যায়ে এসেছে। ঐতিহ্যবাহী পদগুলো আমাদের সংস্কৃতির বিশাল শক্তি। এটাকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। চুরি ডাকাতি করে নিজের দখলে নেয়া, আমি করেছি কিংবা লিখেছি, এমন ভাব দেখানো মোটেও উচিত নয়। চাইলেই কোনো মানুষ এ ধরনের পদ লিখতে পারে না! এ ধরনের পদ, একটু কারেকশন করে নিজের দাবি করা খুবই অন্যায়। এ রকম অসংখ্য গান, কবিতা ছোটবেলায় প্রচুর শুনেছি। সবার মুখে মুখে ছড়িয়েও আছে। কেউ যদি ব্যক্তিগত ফায়দার জন্য নিজের বলে চালিয়ে দেয়, তাহলে সেটি খুবই দুঃখজনক।

* কপিরাইট ইস্যু নিয়ে সৃষ্ট আলোচনা-সমালোচনা প্রসঙ্গে কী বলবেন?

** আমি গণমাধ্যমের বরাতে সরল ব্যান্ডের কাছে প্রশ্ন করেছিলাম, কপিরাইট আইনের ব্যাখ্যা কী? মূলত, যে আইনে আমাদের দোষ দেয়া হচ্ছে ওই একই আইনে সরলপুর ব্যান্ড দলও দোষী। কারণ গানটি সরলপুর ব্যান্ডের মৌলিক সৃষ্টি নয়। এটি বহু বছর আগের প্রচলিত একটি গান। সরলপুরের গানটির বেশিরভাগই লাইন মধ্যযুগের কবি দ্বিজ কানাইয়ের লেখা গীতিকার মহুয়ার গানের পদের মতো। বহু বছর আগে সাধকেরা রাধাকৃষ্ণের প্রেম নিয়ে পালা-পুঁথি লিখতেন, নানা পদ রচনা করতেন। এ গান সেখান থেকেই সৃষ্ট। আর এমন প্রচলিত গানের জন্য অনুমতি লাগবে সেটি কেউ ভাবেনি। তাছাড়া আমরাই প্রথম নয়। ইউটিউবেও এ গানের অনেক ভার্সন দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোনো ব্যান্ডের নাম ক্রেডিট হিসেবে দেয়া নেই। যদি জানা যেত গানটির মালিক সরলপুর ব্যান্ড তাহলে আইপিডিসি বা পার্থ বড়ুয়া অবশ্যই তাদের অনুমতি নিতেন।

* আপনার অভিনীত ‘পাপ পুণ্য’ ও ‘হাওয়া’ নামে দুটি ছবি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। কবে নাগাদ মুক্তি পাবে জানেন কিছু?

** ছবি দুটির ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বছর মুক্তি পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাছাড়া ছবি মুক্তির ব্যাপারটা প্রযোজকের হাতে। তিনি এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। অভিনেতা হিসেবে আমার যতটুকু কাজ তা করে দিয়েছি। তারপরও সহসাই ছবি দুটি মুক্তি পাবে না। কারণ এ পরিস্থিতিতে সিনেমা হল জমতেও একটু সময় লাগবে। এখন ছবি মুক্তি দিলে লোকসান অবধারিত।

হ্যালো...

‘যুবতী রাধে’ গানটি সরলপুর ব্যান্ডের মৌলিক সৃষ্টি নয়

চঞ্চল চৌধুরী, নাটকের নন্দিত নাম। তবে সিনেমায়ও আছে তার সমান খ্যাতি। পেশাদার গায়ক না হয়েও ‘যুবতী রাধে’ শিরোনামে একটি লোকগীতি রপ্ত করে শুনিয়েছেন এ শখের গায়ক। গানটি ইউটিউবে প্রচার হওয়ার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসার জোয়ারে ভাসতে দেখা গেছে তাকে। দিন গড়াতেই আবার পড়তে হয়েছে সমালোচনার মুখে। সমসাময়িক এসব প্রসঙ্গ নিয়ে আজকের ‘হ্যালো...’ বিভাগে কথা বলেছেন তিনি
 এসএম শাফায়েত 
২৮ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
ছবি সংগৃহীত

* পূজার সময় কীভাবে কাটালেন?

** পূজার সেই আনন্দ এখন আর নেই। ছোটবেলায় যত আনন্দ উল্লাস, হইহুল্লোড় করে কাটিয়েছি তেমন সময়ও এখন নেই। এবারের পূজা গ্রামের বাড়িতে বাবা-মায়ের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি। বাড়িতে ভাইবোন, বাবা-মা,

আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে কয়েকদিন কাটাতে পারলাম, সাক্ষাৎ হল।

* আপনার কণ্ঠে ধারণ করা ‘যুবতী রাধে’ শিরোনামে একটি গান নিয়ে বেশ বিতর্কও চলছে। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?

** বহুল জনপ্রিয় ‘বকুল ফুল বকুল ফুল’ গানটি কিন্তু সর্বপ্রথম আমার কণ্ঠেই রেকর্ড হয়েছিল। এরপর ‘জলের গান’ গেয়েছে নতুনভাবে, দিনাত জাহান মুন্নীও গেয়েছেন। এখন আমি কি বলব যে, এ গান তারা আমার অনুমতি ছাড়া কেন গাইল? আমি এ গানের মালিক? বা আমি এ গানের কপিরাইট আমার নামে করে নেব? একদমই না। কারণ গানটি অনেক আগে থেকেই মানুষের মুখে মুখে বেজে চলেছে। আমি সেটাকে রেকর্ড করে সবার কাছে তুলে ধরেছি। তাই বলে এ গান আমার হয়ে গেল না।

* তাহলে এ বিষয়টির ব্যাখ্যা কী?

** আমাদের লোকগানের পদ রচয়িতা কে বা কারা, তা আমার জানা নেই। লোকমুখে শুনতে শুনতে একটা পর্যায়ে এসেছে। ঐতিহ্যবাহী পদগুলো আমাদের সংস্কৃতির বিশাল শক্তি। এটাকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। চুরি ডাকাতি করে নিজের দখলে নেয়া, আমি করেছি কিংবা লিখেছি, এমন ভাব দেখানো মোটেও উচিত নয়। চাইলেই কোনো মানুষ এ ধরনের পদ লিখতে পারে না! এ ধরনের পদ, একটু কারেকশন করে নিজের দাবি করা খুবই অন্যায়। এ রকম অসংখ্য গান, কবিতা ছোটবেলায় প্রচুর শুনেছি। সবার মুখে মুখে ছড়িয়েও আছে। কেউ যদি ব্যক্তিগত ফায়দার জন্য নিজের বলে চালিয়ে দেয়, তাহলে সেটি খুবই দুঃখজনক।

* কপিরাইট ইস্যু নিয়ে সৃষ্ট আলোচনা-সমালোচনা প্রসঙ্গে কী বলবেন?

** আমি গণমাধ্যমের বরাতে সরল ব্যান্ডের কাছে প্রশ্ন করেছিলাম, কপিরাইট আইনের ব্যাখ্যা কী? মূলত, যে আইনে আমাদের দোষ দেয়া হচ্ছে ওই একই আইনে সরলপুর ব্যান্ড দলও দোষী। কারণ গানটি সরলপুর ব্যান্ডের মৌলিক সৃষ্টি নয়। এটি বহু বছর আগের প্রচলিত একটি গান। সরলপুরের গানটির বেশিরভাগই লাইন মধ্যযুগের কবি দ্বিজ কানাইয়ের লেখা গীতিকার মহুয়ার গানের পদের মতো। বহু বছর আগে সাধকেরা রাধাকৃষ্ণের প্রেম নিয়ে পালা-পুঁথি লিখতেন, নানা পদ রচনা করতেন। এ গান সেখান থেকেই সৃষ্ট। আর এমন প্রচলিত গানের জন্য অনুমতি লাগবে সেটি কেউ ভাবেনি। তাছাড়া আমরাই প্রথম নয়। ইউটিউবেও এ গানের অনেক ভার্সন দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোনো ব্যান্ডের নাম ক্রেডিট হিসেবে দেয়া নেই। যদি জানা যেত গানটির মালিক সরলপুর ব্যান্ড তাহলে আইপিডিসি বা পার্থ বড়ুয়া অবশ্যই তাদের অনুমতি নিতেন।

* আপনার অভিনীত ‘পাপ পুণ্য’ ও ‘হাওয়া’ নামে দুটি ছবি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। কবে নাগাদ মুক্তি পাবে জানেন কিছু?

** ছবি দুটির ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বছর মুক্তি পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাছাড়া ছবি মুক্তির ব্যাপারটা প্রযোজকের হাতে। তিনি এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। অভিনেতা হিসেবে আমার যতটুকু কাজ তা করে দিয়েছি। তারপরও সহসাই ছবি দুটি মুক্তি পাবে না। কারণ এ পরিস্থিতিতে সিনেমা হল জমতেও একটু সময় লাগবে। এখন ছবি মুক্তি দিলে লোকসান অবধারিত।