সহকর্মীদের স্মৃতিতে আলী যাকের
jugantor
সহকর্মীদের স্মৃতিতে আলী যাকের
বিষণ্নতার একটি দিন ছিল গতকাল। কুয়াশার চাপে ভোরের সূর্য তখনও হয়তো দিনের সন্ধান দিতে পারেনি। কিন্তু দুঃসংবাদ ঠিকই সেই কুয়াশা ভেদ করে চলে এলো। ঝরে পড়ল আরও একটি নক্ষত্র। মারা গেলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব আলী যাকের। গতকাল শুক্রবার ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুতে শোকাহত সংস্কৃতি অঙ্গন। সহকর্মীদের অনেকেই জানিয়েছেন তার সঙ্গে কাটানো সময়ের কথা। তার কিছু অংশ তুলে ধরা হল এ প্রতিবেদনে।

  আনন্দনগর প্রতিবেদক  

২৮ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ছবি সংগৃহীত

আলী যাকেরের সঙ্গে আমার গল্পের শেষ নেই। আমরা ঝগড়া করতাম; একজন-আরেকজনকে বকতাম; অভিমান করতাম আবার কিছুক্ষণ পর এক হয়ে যেতাম। শুধু বাংলাদেশেই নয়, কলকাতার মঞ্চাঙ্গনেও তার জনপ্রিয়তা ছিল। আমাদের নাটকেও তার অবদান অবিস্মরণীয়। তার এভাবে চলে যাওয়া প্রকৃতিরই নিয়ম; তবে মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। খুব কষ্ট হচ্ছে এই ভেবে, আমরা আর ঝগড়া করতে পারব না! তুই তোকারি করতে পারব না! বকাঝকা শেষে আমাদের আর মিলন হবে না! সে তো চলেই গেল! যাকের যেখানে থাকুক, ভালো থাকুক- এটি প্রত্যাশা করি।

- মামুনুর রশীদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব

প্রিয় আলী যাকের, আমরা তোমার সহকর্মীরা, বন্ধুরা, স্বজনরা, আপনজনরা তোমাকে কখনও ভুলব না। তুমি ছিলে বাংলাদেশের গৌরব, কিংবদন্তিসম পুরুষ। অভিনেতা, নাট্যনির্দেশক, সংগঠক, দেশপ্রেমিক এবং আমাদের মুক্তিযুদ্ধের শব্দসৈনিক হিসেবে তুমি আমাদের দেশে ও দেশের বাইরে চির ভাস্বর হয়ে থাকবে। তোমাকে আমরা এবং নতুন প্রজন্ম কোনোদিন ভুলব না। তোমার মতো মানুষের কেবল দৈহিক লয় আছে। তোমার আত্মা থাকবে চিরজাগ্রত। জয় তোমারই হয়েছে।

- আতাউর রহমান,

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব

প্রিয় ছোটলু ভাই আলী যাকের আমার বন্ধু। তার সঙ্গে দীর্ঘপথ হেঁটেছি; গল্প করেছি। সে এভাবে চলে যাবে- কখনও ভাবিনি। তার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেছি এ করোনার মধ্যে। লকডাউনের সময় অনলাইনে তার একটি বক্তব্য দেখে আমি খুব অবেগাপ্লুত হয়েছিলাম। পরে তাকে আমি ফোন দিয়ে অনেক কথা বলি। ওটাই ছিল তার সঙ্গে আমার শেষ কথা। বন্ধু আমার এভাবে চলে গেল, মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। তার চলে যাওয়া আমার ব্যক্তিগত ক্ষতি তো বটেই, মঞ্চনাটকেরও অপূরণীয় ক্ষতি। ওপারে ভালো থাকুক যাকের- এটিই দোয়া করি।

- ড. ইনামুল হক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব

প্রতিনিয়ত ভয়ে থাকি, কখন কোথা থেকে দুঃসংবাদ আসে। আলী যাকের চলে গেল আমাদের ছেড়ে। ৫০ বছর আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। কত স্মৃতি তার সঙ্গে; সব শেষ হয়ে গেল! গত মার্চে তার বাসায় গিয়ে আড্ডা দিয়েছি। বলেছিলাম, তুই আবার সুস্থ হবি; আমরা একসঙ্গে মঞ্চে কাজ করব। কিন্তু তা আর হল না। বন্ধুকে বিদায় দিতে সত্যি খুব কষ্ট হচ্ছে। পরপারে ভালো থাকুক যাকের।

- আবুল হায়াত, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব

যাকের ভাইয়ের সঙ্গে সর্বশেষ একটি নাটকে কাজ করেছি, যেটি প্রচার হবে বিটিভিতে। তার সঙ্গে আমার কাজ হয়েছে কম, কিন্তু স্মৃতি আছে অনেক। দেখা হলে অনেক কথা হতো। অনেক ভালো মানুষ ছিলেন তিনি। তার এ সময়ে এভাবে চলে যাওয়া খুবই কষ্টকর। মেনে নেয়া কঠিন। মানুষ মাত্র-ই মরণশীল, একদিন তো যেতেই হবে। যাকের ভাইয়ের এ চলে যাওয়া নাট্যাঙ্গনের বড় ক্ষতি। ওপারে ভালো থাকুক যাকের ভাই, এটিই দোয়া করি। তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের শোক সহ্য করার শক্তি দিক মহান রাব্বুল আলামিন, এটি প্রার্থনা।

- শর্মিলী আহমেদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব

যাকেরের চলে যাওয়া মঞ্চ ও টেলিভিশন নাটকের অপূরণীয় ক্ষতি, এটি স্বভাবজাত কথা। কিন্তু এটি বড় কথা, ইতিহাস আলী যাকেরকে মনে রাখবে বহুকাল। কিছু মানুষকে নিয়ে বলতে গেলে শব্দ আসে না, আর যদি তা হয় মৃত্যুর পরের কথা তবে কষ্টে বুক ফেটে যাওয়ার মতো অবস্থা। তার সঙ্গে আমার অনেক গল্প ও অনেক কাজ হয়েছে। সে চলে গেছে, এটি আমার ব্যক্তিগতভাবে বিশাল ক্ষতি। এ ক্ষতি আর পূরণ হবে না। যাকের ওপারে শান্তিতে থাক, এটিই এখন বলতে চাই।

- তারিক আনাম খান

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব

‘আকাশ জোড়া মেঘ’ নামের একটি নাটকে আলী যাকের ভাই শিক্ষকের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এতে আমি ছিলাম তার প্রিয় ছাত্র। সেই নাটকের চরিত্রটির মতো বাস্তব জীবনে তিনি আমাদের শিক্ষকই ছিলেন। তার সঙ্গে যারা মিশেছেন কিংবা পরিচিত ছিলেন তারা জানতেন আলী যাকের কেমন মানুষ ছিলেন। তিনি শুদ্ধ অভিনয়, শুদ্ধ মানুষ এবং শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চা করে গেছেন। দেখতে অনেকটা গম্ভীর প্রকৃতির মনে হলেও আসলে তিনি ছিলেন বন্ধুবৎসল। খুব সুন্দর করে গুছিয়ে কোনো কিছু উপস্থাপন করতে পারতেন। তথ্য সমৃদ্ধ একজন মানুষই ছিলেন তিনি। আলী যাকের ভাই যে পথ দেখিয়ে গেছেন তা যদি আমরা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে না পারি, তাহলে এটি হবে আমাদের বড় ব্যর্থতা। পরপারে তিনি ভালো থাকুন, এই প্রার্থনা করি।

- মাহফুজ আহমেদ, জনপ্রিয় অভিনেতা

সহকর্মীদের স্মৃতিতে আলী যাকের

বিষণ্নতার একটি দিন ছিল গতকাল। কুয়াশার চাপে ভোরের সূর্য তখনও হয়তো দিনের সন্ধান দিতে পারেনি। কিন্তু দুঃসংবাদ ঠিকই সেই কুয়াশা ভেদ করে চলে এলো। ঝরে পড়ল আরও একটি নক্ষত্র। মারা গেলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব আলী যাকের। গতকাল শুক্রবার ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুতে শোকাহত সংস্কৃতি অঙ্গন। সহকর্মীদের অনেকেই জানিয়েছেন তার সঙ্গে কাটানো সময়ের কথা। তার কিছু অংশ তুলে ধরা হল এ প্রতিবেদনে।
 আনন্দনগর প্রতিবেদক 
২৮ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
ছবি সংগৃহীত

আলী যাকেরের সঙ্গে আমার গল্পের শেষ নেই। আমরা ঝগড়া করতাম; একজন-আরেকজনকে বকতাম; অভিমান করতাম আবার কিছুক্ষণ পর এক হয়ে যেতাম। শুধু বাংলাদেশেই নয়, কলকাতার মঞ্চাঙ্গনেও তার জনপ্রিয়তা ছিল। আমাদের নাটকেও তার অবদান অবিস্মরণীয়। তার এভাবে চলে যাওয়া প্রকৃতিরই নিয়ম; তবে মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। খুব কষ্ট হচ্ছে এই ভেবে, আমরা আর ঝগড়া করতে পারব না! তুই তোকারি করতে পারব না! বকাঝকা শেষে আমাদের আর মিলন হবে না! সে তো চলেই গেল! যাকের যেখানে থাকুক, ভালো থাকুক- এটি প্রত্যাশা করি।

- মামুনুর রশীদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব

প্রিয় আলী যাকের, আমরা তোমার সহকর্মীরা, বন্ধুরা, স্বজনরা, আপনজনরা তোমাকে কখনও ভুলব না। তুমি ছিলে বাংলাদেশের গৌরব, কিংবদন্তিসম পুরুষ। অভিনেতা, নাট্যনির্দেশক, সংগঠক, দেশপ্রেমিক এবং আমাদের মুক্তিযুদ্ধের শব্দসৈনিক হিসেবে তুমি আমাদের দেশে ও দেশের বাইরে চির ভাস্বর হয়ে থাকবে। তোমাকে আমরা এবং নতুন প্রজন্ম কোনোদিন ভুলব না। তোমার মতো মানুষের কেবল দৈহিক লয় আছে। তোমার আত্মা থাকবে চিরজাগ্রত। জয় তোমারই হয়েছে।

- আতাউর রহমান,

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব

প্রিয় ছোটলু ভাই আলী যাকের আমার বন্ধু। তার সঙ্গে দীর্ঘপথ হেঁটেছি; গল্প করেছি। সে এভাবে চলে যাবে- কখনও ভাবিনি। তার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেছি এ করোনার মধ্যে। লকডাউনের সময় অনলাইনে তার একটি বক্তব্য দেখে আমি খুব অবেগাপ্লুত হয়েছিলাম। পরে তাকে আমি ফোন দিয়ে অনেক কথা বলি। ওটাই ছিল তার সঙ্গে আমার শেষ কথা। বন্ধু আমার এভাবে চলে গেল, মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। তার চলে যাওয়া আমার ব্যক্তিগত ক্ষতি তো বটেই, মঞ্চনাটকেরও অপূরণীয় ক্ষতি। ওপারে ভালো থাকুক যাকের- এটিই দোয়া করি।

- ড. ইনামুল হক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব

প্রতিনিয়ত ভয়ে থাকি, কখন কোথা থেকে দুঃসংবাদ আসে। আলী যাকের চলে গেল আমাদের ছেড়ে। ৫০ বছর আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। কত স্মৃতি তার সঙ্গে; সব শেষ হয়ে গেল! গত মার্চে তার বাসায় গিয়ে আড্ডা দিয়েছি। বলেছিলাম, তুই আবার সুস্থ হবি; আমরা একসঙ্গে মঞ্চে কাজ করব। কিন্তু তা আর হল না। বন্ধুকে বিদায় দিতে সত্যি খুব কষ্ট হচ্ছে। পরপারে ভালো থাকুক যাকের।

- আবুল হায়াত, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব

যাকের ভাইয়ের সঙ্গে সর্বশেষ একটি নাটকে কাজ করেছি, যেটি প্রচার হবে বিটিভিতে। তার সঙ্গে আমার কাজ হয়েছে কম, কিন্তু স্মৃতি আছে অনেক। দেখা হলে অনেক কথা হতো। অনেক ভালো মানুষ ছিলেন তিনি। তার এ সময়ে এভাবে চলে যাওয়া খুবই কষ্টকর। মেনে নেয়া কঠিন। মানুষ মাত্র-ই মরণশীল, একদিন তো যেতেই হবে। যাকের ভাইয়ের এ চলে যাওয়া নাট্যাঙ্গনের বড় ক্ষতি। ওপারে ভালো থাকুক যাকের ভাই, এটিই দোয়া করি। তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের শোক সহ্য করার শক্তি দিক মহান রাব্বুল আলামিন, এটি প্রার্থনা।

- শর্মিলী আহমেদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব

যাকেরের চলে যাওয়া মঞ্চ ও টেলিভিশন নাটকের অপূরণীয় ক্ষতি, এটি স্বভাবজাত কথা। কিন্তু এটি বড় কথা, ইতিহাস আলী যাকেরকে মনে রাখবে বহুকাল। কিছু মানুষকে নিয়ে বলতে গেলে শব্দ আসে না, আর যদি তা হয় মৃত্যুর পরের কথা তবে কষ্টে বুক ফেটে যাওয়ার মতো অবস্থা। তার সঙ্গে আমার অনেক গল্প ও অনেক কাজ হয়েছে। সে চলে গেছে, এটি আমার ব্যক্তিগতভাবে বিশাল ক্ষতি। এ ক্ষতি আর পূরণ হবে না। যাকের ওপারে শান্তিতে থাক, এটিই এখন বলতে চাই।

- তারিক আনাম খান

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব

‘আকাশ জোড়া মেঘ’ নামের একটি নাটকে আলী যাকের ভাই শিক্ষকের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এতে আমি ছিলাম তার প্রিয় ছাত্র। সেই নাটকের চরিত্রটির মতো বাস্তব জীবনে তিনি আমাদের শিক্ষকই ছিলেন। তার সঙ্গে যারা মিশেছেন কিংবা পরিচিত ছিলেন তারা জানতেন আলী যাকের কেমন মানুষ ছিলেন। তিনি শুদ্ধ অভিনয়, শুদ্ধ মানুষ এবং শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চা করে গেছেন। দেখতে অনেকটা গম্ভীর প্রকৃতির মনে হলেও আসলে তিনি ছিলেন বন্ধুবৎসল। খুব সুন্দর করে গুছিয়ে কোনো কিছু উপস্থাপন করতে পারতেন। তথ্য সমৃদ্ধ একজন মানুষই ছিলেন তিনি। আলী যাকের ভাই যে পথ দেখিয়ে গেছেন তা যদি আমরা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে না পারি, তাহলে এটি হবে আমাদের বড় ব্যর্থতা। পরপারে তিনি ভালো থাকুন, এই প্রার্থনা করি।

- মাহফুজ আহমেদ, জনপ্রিয় অভিনেতা