পতাকা উত্তোলনের ঘটনাটি আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছিল
jugantor
হ্যালো...
পতাকা উত্তোলনের ঘটনাটি আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছিল

  সোহেল আহসান  

০২ মার্চ ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আজ জাতীয় পতাকা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে প্রথম বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সেই দিনটিতে ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন ছাত্রনেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চিত্রনায়ক সোহেল রানা। দিনটি স্মরণ, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং অভিনয় নিয়ে আজকের ‘হ্যালো...’ বিভাগে কথা বলেছেন তিনি।

* আজ জাতীয় পতাকা দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনটি কেমন ছিল?

** মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ঘটনার মধ্যে জাতীয় পতাকা প্রকাশ্যে উত্তোলন করার কাজটি ছিল খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এটি উত্তোলনের আগেই প্রস্তুতি ছিল। কয়েকবার ডিজাইন করার পর পতাকা চূড়ান্ত হয়। তখনকার ছাত্রনেতাদের মধ্য থেকে শীর্ষস্থানীয়রাই সেদিন উপস্থিত ছিলেন। পুরো বিষয়টি বঙ্গবন্ধুর দর্শন অনুযায়ীই করা হয়েছে। বলা যায় স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর আগে এ পতাকা উত্তোলনের ঘটনাটি আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছিল।

* পতাকা উত্তোলনের সময় মানুষের উপস্থিতি কেমন ছিল?

** ছাত্র, শ্রমিক, কৃষকসহ মোটামুটি সব পেশার অগণিত মানুষ উপস্থিত ছিলেন সেদিন। পতাকা উত্তোলনের স্থানটি লোকে লোকারণ্য হয়েছিল। তার পরের দিন ঢাকায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষ নিজেরাই পতাকা বানিয়ে সেটি প্রদর্শন করতে শুরু করেন। এ কাজটি মানুষকে দেশ স্বাধীনের প্রতি আশাবাদী করে তোলে।

* এর কিছুদিন পরই তো মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। আপনি কীভাবে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন?

** আমি যুদ্ধের আগের দিন পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ইকবাল হলে ছিলাম। ২৫ মার্চের রাতে হলে না থেকে বাসায় চলে যাই। সেই রাত থেকেই পাকবাহিনী অন্য জায়গার মতো হলেও আক্রমণ করে। ২৭ মার্চ কয়েক বন্ধুর সঙ্গে হেঁটে ৩ দিন পর বরিশাল গিয়ে পৌঁছি। পরবর্তী তিন মাস সেখানে অবস্থান করে মুক্তিযুদ্ধের গতি-প্রকৃতির দিকে খেয়াল রাখি। দেশ স্বাধীনের আগে শেষ চার মাস রণাঙ্গনে যুদ্ধ করি। যুদ্ধের জন্য আমাকে আলাদা করে ট্রেনিং নিতে হয়নি। আমি আগে থেকেই ট্রেনিংপ্রাপ্ত ছিলাম।

* দেশ স্বাধীনের পর রাজনীতিতে যুক্ত না হয়ে চলচ্চিত্রে এলেন কেন?

** স্বাধীনতার পর আমি রাজনীতি থেকে দূরে যাইনি। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের নেতৃত্বে ছিলাম বিশ বছর। অনেক আগে থেকেই চলচ্চিত্র নির্মাণের ইচ্ছা ছিল আমার। তবে দেশ স্বাধীনের পর তাই ভাবতে থাকি যে কীভাবে এটি নির্মাণ করা যায়। যুদ্ধে অনেক বন্ধুকে হারিয়েছিলাম। তাদের কথা মাথায় রেখেই চাষী নজরুল ইসলামকে দিয়ে ‘ওরা ১১ জন’ ছবি বানাই। এরপর ‘মাসুদ রানা’ নামের একটি ছবিতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করি। এটিও দারুণ সফলতা পায়। চিত্রনায়ক হিসাবে তখন থেকেই আমার পথচলা শুরু। যেহেতু উপার্জন করতে হবে নিজের জন্য। তাই চলচ্চিত্রে পেশাদারভাবে কাজ করা শুরু করি।

* এখন তো সেভাবে আর অভিনয় করেন না। কবরীর ছবিতে অভিনয়ের কথা শোনা গিয়েছিল। সেটির অগ্রগতি কী?

** এ ছবিতে অভিনয়ের জন্য কবরী আমাকে প্রস্তাব দিয়েছেন অনেক আগেই। কিন্তু করোনার জন্য আমি এখনো তার ইউনিটে যোগ দেইনি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কোনো শুটিং করতে চাই না। যদি সে সময় পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করেন, তাহলে নিশ্চয়ই অভিনয় করব। আর অপেক্ষা না করলে অভিনয় করা হবে না।

* গত ১৬ ডিসেম্বর নতুন একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছেন। এটির কার্যক্রম কী?

** ‘শিকড়’ নামের সংগঠনটি একটি নতুন কালচারাল ফ্রন্ট। মূলত সংগীতশিল্পীদের প্রতিভা বিকাশের একটি প্লাটফরম এটি। দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সংগীত প্রতিভা খুঁজে বের করে তাদের জাতীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্দেশ্য নিয়েই এটি গঠিত হয়েছে। পাশাপাশি সংগঠনটি থেকে সেবামূলক কর্মকাণ্ডও পরিচালিত হবে। বন্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ যে কোনো মানবিক সংকটে মানুষের পাশে সহায়তার হাত প্রসারিত করবে সংগঠনটি।

হ্যালো...

পতাকা উত্তোলনের ঘটনাটি আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছিল

 সোহেল আহসান 
০২ মার্চ ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আজ জাতীয় পতাকা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে প্রথম বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সেই দিনটিতে ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন ছাত্রনেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চিত্রনায়ক সোহেল রানা। দিনটি স্মরণ, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং অভিনয় নিয়ে আজকের ‘হ্যালো...’ বিভাগে কথা বলেছেন তিনি।

* আজ জাতীয় পতাকা দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনটি কেমন ছিল?

** মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ঘটনার মধ্যে জাতীয় পতাকা প্রকাশ্যে উত্তোলন করার কাজটি ছিল খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এটি উত্তোলনের আগেই প্রস্তুতি ছিল। কয়েকবার ডিজাইন করার পর পতাকা চূড়ান্ত হয়। তখনকার ছাত্রনেতাদের মধ্য থেকে শীর্ষস্থানীয়রাই সেদিন উপস্থিত ছিলেন। পুরো বিষয়টি বঙ্গবন্ধুর দর্শন অনুযায়ীই করা হয়েছে। বলা যায় স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর আগে এ পতাকা উত্তোলনের ঘটনাটি আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছিল।

* পতাকা উত্তোলনের সময় মানুষের উপস্থিতি কেমন ছিল?

** ছাত্র, শ্রমিক, কৃষকসহ মোটামুটি সব পেশার অগণিত মানুষ উপস্থিত ছিলেন সেদিন। পতাকা উত্তোলনের স্থানটি লোকে লোকারণ্য হয়েছিল। তার পরের দিন ঢাকায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষ নিজেরাই পতাকা বানিয়ে সেটি প্রদর্শন করতে শুরু করেন। এ কাজটি মানুষকে দেশ স্বাধীনের প্রতি আশাবাদী করে তোলে।

* এর কিছুদিন পরই তো মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। আপনি কীভাবে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন?

** আমি যুদ্ধের আগের দিন পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ইকবাল হলে ছিলাম। ২৫ মার্চের রাতে হলে না থেকে বাসায় চলে যাই। সেই রাত থেকেই পাকবাহিনী অন্য জায়গার মতো হলেও আক্রমণ করে। ২৭ মার্চ কয়েক বন্ধুর সঙ্গে হেঁটে ৩ দিন পর বরিশাল গিয়ে পৌঁছি। পরবর্তী তিন মাস সেখানে অবস্থান করে মুক্তিযুদ্ধের গতি-প্রকৃতির দিকে খেয়াল রাখি। দেশ স্বাধীনের আগে শেষ চার মাস রণাঙ্গনে যুদ্ধ করি। যুদ্ধের জন্য আমাকে আলাদা করে ট্রেনিং নিতে হয়নি। আমি আগে থেকেই ট্রেনিংপ্রাপ্ত ছিলাম।

* দেশ স্বাধীনের পর রাজনীতিতে যুক্ত না হয়ে চলচ্চিত্রে এলেন কেন?

** স্বাধীনতার পর আমি রাজনীতি থেকে দূরে যাইনি। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের নেতৃত্বে ছিলাম বিশ বছর। অনেক আগে থেকেই চলচ্চিত্র নির্মাণের ইচ্ছা ছিল আমার। তবে দেশ স্বাধীনের পর তাই ভাবতে থাকি যে কীভাবে এটি নির্মাণ করা যায়। যুদ্ধে অনেক বন্ধুকে হারিয়েছিলাম। তাদের কথা মাথায় রেখেই চাষী নজরুল ইসলামকে দিয়ে ‘ওরা ১১ জন’ ছবি বানাই। এরপর ‘মাসুদ রানা’ নামের একটি ছবিতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করি। এটিও দারুণ সফলতা পায়। চিত্রনায়ক হিসাবে তখন থেকেই আমার পথচলা শুরু। যেহেতু উপার্জন করতে হবে নিজের জন্য। তাই চলচ্চিত্রে পেশাদারভাবে কাজ করা শুরু করি।

* এখন তো সেভাবে আর অভিনয় করেন না। কবরীর ছবিতে অভিনয়ের কথা শোনা গিয়েছিল। সেটির অগ্রগতি কী?

** এ ছবিতে অভিনয়ের জন্য কবরী আমাকে প্রস্তাব দিয়েছেন অনেক আগেই। কিন্তু করোনার জন্য আমি এখনো তার ইউনিটে যোগ দেইনি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কোনো শুটিং করতে চাই না। যদি সে সময় পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করেন, তাহলে নিশ্চয়ই অভিনয় করব। আর অপেক্ষা না করলে অভিনয় করা হবে না।

* গত ১৬ ডিসেম্বর নতুন একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছেন। এটির কার্যক্রম কী?

** ‘শিকড়’ নামের সংগঠনটি একটি নতুন কালচারাল ফ্রন্ট। মূলত সংগীতশিল্পীদের প্রতিভা বিকাশের একটি প্লাটফরম এটি। দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সংগীত প্রতিভা খুঁজে বের করে তাদের জাতীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্দেশ্য নিয়েই এটি গঠিত হয়েছে। পাশাপাশি সংগঠনটি থেকে সেবামূলক কর্মকাণ্ডও পরিচালিত হবে। বন্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ যে কোনো মানবিক সংকটে মানুষের পাশে সহায়তার হাত প্রসারিত করবে সংগঠনটি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন