ফকির আলমগীরের চিরবিদায়ে সহকর্মীদের শ্রদ্ধাঞ্জলি
jugantor
ফকির আলমগীরের চিরবিদায়ে সহকর্মীদের শ্রদ্ধাঞ্জলি

   

২৫ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গণসংগীতশিল্পী হিসাবেই পরিচিত ছিলেন ফকির আলমগীর। কিন্তু তিনি ছিলেন বাংলা পপ গানের অন্যতম কাণ্ডারি। মুক্তিযুদ্ধের সময় গানে গানে মানুষকে উজ্জীবিত করেছেন। ছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠসৈনিক। দেশ স্বাধীনের পর যাদের হাত ধরে বাংলা পপ গানের উত্থান হয়েছিল তার মধ্যে অন্যতম একজন তিনি। সময়ের পরিক্রমায় তিনি মেহনতি মানুষের শোষণ ও বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন নিজ কণ্ঠে। হয়ে ওঠেন গণসংগীতশিল্পী। মে দিবসে যার ব্যস্ততা ছিল অন্য যে কারও চেয়ে বেশি। সেই ব্যস্ততাও অবশেষে ছুটি নিয়ে চলে গেল, আজীবনের জন্য! মহামারি কেড়ে নিল তাকেও। দীর্ঘ ১০ দিন করোনাভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধ করে হেরে গেলেন এ সংগীতশিল্পী। ২৩ জুলাই রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ফকির আলমগীর। তার মৃত্যুতে শোকাহত দেশ, শোকাহত সংশ্লিষ্টরা। এ কিংবদন্তির প্রয়াণে তারই কয়েকজন সহকর্মী তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন।

আমি তাকে বাংলা গানের বাঘ বলি। সে আমার বন্ধু। তার সঙ্গে আমার কত স্মৃতি, কত কথা! একসঙ্গেই তো সংগীত জীবন কাটালাম। সে চলে গেল। আমার বন্ধুর চলে যাওয়ার সংবাদ শুনব আর তার হারানোর বার্তা বলব এটার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। তবে আজ একটা কথা বলি, আমরা যেখানেই থাকতাম, প্রতি মাসের যে কোনো একটা দিন আমরা প্রাণ ভরে কথা বলতাম। এমনি তো যে কোনো সময় কথা হতো। কিন্তু মাসের যে কোনো একদিন বিশেষভাবে কথা হতো। জুন মাসেও কথা হয়েছিল। কিন্তু এখন থেকে সামনের মাসগুলোতে কার সঙ্গে কথা বলব, এটি ভাবতে পারছি না। আল্লাহ আমার বন্ধুকে ভালো রাখুন, তাকে জান্নাত দান করুন-এ দোয়াই করি।

-ফেরদৌস ওয়াহিদ, সংগীতশিল্পী

একের পর এক আমরা আমাদের সংস্কৃতি অঙ্গনের সত্যিকারের যোদ্ধাদের হারাচ্ছি। এটা আমাদের জন্য অবশ্যই অপূরণীয় ক্ষতি। ইতিহাসের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত ছিলেন বা আছেন, তারা যে আমাদের জন্য কতটা প্রয়োজনীয় সেটা একমাত্র মারা গেলেই বোঝা সম্ভব। সেই ইতিহাসবোদ্ধারা একে একে চলে যাচ্ছেন এই মহামারিতে! ভাবলেই কষ্ট হয়। ১৯৭১ সালের কণ্ঠযোদ্ধা ফকির আলমগীর ভাইকেও সেই ধারাবাহিকতায় হারালাম আমরা, তাও আবার করোনায়। তার এই চলে যাওয়াটা মেনে নিতে সত্যি কষ্ট হচ্ছে। তারপরও মেনে নিতে হবে। এটা প্রকৃতির নিয়ম। সৃষ্টিকর্তা নিজের ইচ্ছায় মানুষকে তার কাছে নিয়ে যান। একজন ফকির আলমগীর একটি যুগের চিহ্ন, একটি কালের চিহ্ন। জাতিকে জাগ্রত করার মতো গণজাগরণের গান গেয়েছেন তিনি। তিনি আমাদের সংগীতাঙ্গনের গর্ব। তার চলে যাওয়ায় আমাদের দেশ সত্যিই এক সোনার সন্তান হারাল। আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুন, আমিন।

-ফরিদা আক্তার ববিতা, অভিনেত্রী

বাংলাদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই ফকির আলমগীরের সঙ্গে আমার পরিচয়। মুক্তিযুদ্ধের তহবিল সংগ্রহ করার কাজও করেছি একসঙ্গে। তখন তার হাতে একটি বাঁশি থাকত। তার আসল নাম ছিল লালি মিয়া। পরে ফকির আলমগীর নামে পরিচিতি পান। কত কথা, কত স্মৃতি আজ চোখের সামনে ভাসছে! মানুষের সঙ্গে খুব সহজভাবে মিশতেন এ খ্যাতিমান সংগঠক ও শিল্পী। একজন সাধারণ মানুষ থেকে গণমানুষের শিল্পী হয়ে ওঠা সহজ বিষয় নয়; তিনি তাই দেখিয়েছেন। একজন সুলেখক হিসাবেও তার পরিচিতি ছিল। আমি তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।

-তিমির নন্দী, সংগীতশিল্পী

ফকির আলমগীরের সঙ্গে আমার পারিবারিক সম্পর্কও ছিল। দীর্ঘ ২০ বছর আমরা রাজধানীর খিলগাঁওয়ের একটি এলাকায় বসবাস করেছি। ব্যক্তিগত যে কোনো অনুষ্ঠান আয়োজনে আমাকে যে কোনোভাবেই হাজির করাত সে। আমিও যেতাম। সাধ্যমতো আপ্যায়নও করত। খুবই আন্তরিকতাপূর্ণ একজন মানুষ ছিল। সংগীত জগতেও সে ছিল একজন সফল মানুষ। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর যে ক’জন তরুণ শিল্পী সংগীতাঙ্গনকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম একজন ফকির আলমগীর। বিশেষ করে গণসংগীতের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কথা অকপটে তুলে ধরতেন সবার সামনে। স্বাধীনতার পর যে ক’জন পপ সংগীতকে বাংলা ধারার সঙ্গে যুক্ত করেছেন তাদের মধ্যেও অন্যতম ফকির আলমগীর। পরে গণসংগীতের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে সে। এ গুণী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বও চলে যাওয়ায় মনটা ভীষণ ভারাক্রান্ত। আল্লাহ যেন তাকে পরকালে শান্তিতে রাখেন এ কামনাই করছি।

-সৈয়দ আবদুল হাদী, সংগীতশিল্পী

৪ জুন তার সঙ্গে আমার কথা হয়। আজম খানের জন্মদিনে অনুষ্ঠান করেছিল। সে জন্য কথা বলেছিল এবং পরামর্শও নিয়েছিল। ফকির আলমগীর খুব ভালো শিল্পী যেমন ছিল, তেমনই ছিল একজন ভালো মানুষ। বাংলাদেশে মে দিবস উদযাপন প্রসঙ্গে তার অবদান অনেক। তার সঙ্গে যারা মিশতেন তারা জানবেন, তার মনটা খুব নরম ছিল। তার এভাবে চলে যাওয়া মেনে নেওয়া কষ্টকর। আল্লাহ তাকে ভালো রাখুক দোয়া করি।

- আলম খান, সংগীত পরিচালক

ফকির আলমগীর খুব সচেতন মানুষ ছিল। কীভাবে কী হয়ে গেল ভাবতেই পারছি না! সে করোনায় আক্রান্ত হলো, চলেও গেল! বুঝতে পারছি না কী থেকে কী হয়ে যাচ্ছে! কেমন যেন সব ওলটপালট মনে হচ্ছে গত দুই বছর ধরে। ফকির আলমগীর চলে গেল, খবরটা শুনে নিজকে ঠিক রাখতে পারছি না। তার সংগীত জীবনে মেহনতি মানুষকে নিয়ে গান গেয়েছেন বেশি। তার ধ্যান-জ্ঞান ছিল মানুষকে নিয়ে। বিভিন্ন সংগঠনও করত সে। তার এভাবে চলে যাওয়া সংগীতের জন্য বড় ক্ষতি। আমি তার জন্য, তার পরিবারের জন্য দোয়া করি। আল্লাহ তাকে পরপারে ভালো রাখুক।

-শেখ সাদী খান, সংগীত পরিচালক

এক এক করে সংগীতের অনেকেই চলে গেল করোনার থাবায়। আমিও হয়তো চলে যেতাম, করোনায় আক্রান্তও হয়েছিলাম। ফকির আলমগীরের কথা বলতে গেলে অনেক কথাই আসে। কিন্তু কোনটা বাদ দিয়ে কোনটা বলব। এভাবে চলে যাওয়া মানতে কষ্ট হচ্ছে। সবাইকে একদিন চলে যেতে হবে। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। আল্লাহ তাকে ভালো রাখুক এটাই প্রার্থনা করি।

- গাজী মাজহারুল আনোয়ার

চলচ্চিত্রকার ও গীতিকার

ফকির আলমগীর ভাই ছিলেন সাধারণ এবং গণমানুষের শিল্পী। তিনি একটা ধারা তৈরি করতে পেরেছেন সংগীতে। কণ্ঠ দিয়ে সব সময় তিনি মানুষের কথা বলে গেছেন। বিশেষ দিনে, মে দিবসে তার কার্যক্রম ছিল প্রশংসনীয়। শোষণ নির্যাতনের বিপক্ষে ছিল তার গান। তার এভাবে চলে যাওয়া সংগীতের ক্ষতি তো বটেই, আমারও খুব কষ্ট হচ্ছে। সচেতন মানুষ ছিলেন তিনি। কীভাবে কী হয়ে গেল বুঝতে পারলাম না। তার সঙ্গে আমার কথা হতো প্রায়ই। এভাবে তিনি চলে যাবেন কখনো ভাবতে পারিনি। আল্লাহ তাকে ওপারে শান্তিতে রাখুন-এ দোয়াই করি। একই সঙ্গে তার পরিবারের সবাইকে আল্লাহ তার শোক সহ্য করার শক্তি দান করুন।

- খুরশিদ আলম, সংগীতশিল্পী

যুবকদের মতো টগবগে প্রাণশক্তিসম্পন্ন মানুষটিও করোনার ভয়াল থাবায় পর্যুদস্ত হলেন! আমি শোকে নিমজ্জিত! এ দুঃখ প্রকাশের ভাষা আমার নেই। ফকির ভাই সারা জীবন গণসংগীত নিয়ে এক রকম যুদ্ধ করে গেছেন। যুদ্ধ করতে করতে নিজের একটা অটল পাহাড় সমান দুর্গম দুর্গ তৈরি করেছিলেন, করতে পেরেছিলেন। তিনি হয়ে উঠেছিলেন গণমানুষের মুখপাত্র। তিনি ছিলেন আমাদের গণসংগীতের প্রাণপুরুষ। আমি তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য সমবেদনা প্রকাশ করছি, তারা যেন এ ভয়াবহ শোক সহ্য করার শক্তি অর্জন করেন। হে আল্লাহ, তুমি অনেক দয়ালু। এ কিংবদন্তিকে ওপারে ভালো রেখ তুমি।

-কনকচাঁপা, সংগীতশিল্পী

ফকির আলমগীরের চিরবিদায়ে সহকর্মীদের শ্রদ্ধাঞ্জলি

  
২৫ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গণসংগীতশিল্পী হিসাবেই পরিচিত ছিলেন ফকির আলমগীর। কিন্তু তিনি ছিলেন বাংলা পপ গানের অন্যতম কাণ্ডারি। মুক্তিযুদ্ধের সময় গানে গানে মানুষকে উজ্জীবিত করেছেন। ছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠসৈনিক। দেশ স্বাধীনের পর যাদের হাত ধরে বাংলা পপ গানের উত্থান হয়েছিল তার মধ্যে অন্যতম একজন তিনি। সময়ের পরিক্রমায় তিনি মেহনতি মানুষের শোষণ ও বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন নিজ কণ্ঠে। হয়ে ওঠেন গণসংগীতশিল্পী। মে দিবসে যার ব্যস্ততা ছিল অন্য যে কারও চেয়ে বেশি। সেই ব্যস্ততাও অবশেষে ছুটি নিয়ে চলে গেল, আজীবনের জন্য! মহামারি কেড়ে নিল তাকেও। দীর্ঘ ১০ দিন করোনাভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধ করে হেরে গেলেন এ সংগীতশিল্পী। ২৩ জুলাই রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ফকির আলমগীর। তার মৃত্যুতে শোকাহত দেশ, শোকাহত সংশ্লিষ্টরা। এ কিংবদন্তির প্রয়াণে তারই কয়েকজন সহকর্মী তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন।

আমি তাকে বাংলা গানের বাঘ বলি। সে আমার বন্ধু। তার সঙ্গে আমার কত স্মৃতি, কত কথা! একসঙ্গেই তো সংগীত জীবন কাটালাম। সে চলে গেল। আমার বন্ধুর চলে যাওয়ার সংবাদ শুনব আর তার হারানোর বার্তা বলব এটার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। তবে আজ একটা কথা বলি, আমরা যেখানেই থাকতাম, প্রতি মাসের যে কোনো একটা দিন আমরা প্রাণ ভরে কথা বলতাম। এমনি তো যে কোনো সময় কথা হতো। কিন্তু মাসের যে কোনো একদিন বিশেষভাবে কথা হতো। জুন মাসেও কথা হয়েছিল। কিন্তু এখন থেকে সামনের মাসগুলোতে কার সঙ্গে কথা বলব, এটি ভাবতে পারছি না। আল্লাহ আমার বন্ধুকে ভালো রাখুন, তাকে জান্নাত দান করুন-এ দোয়াই করি।

-ফেরদৌস ওয়াহিদ, সংগীতশিল্পী

একের পর এক আমরা আমাদের সংস্কৃতি অঙ্গনের সত্যিকারের যোদ্ধাদের হারাচ্ছি। এটা আমাদের জন্য অবশ্যই অপূরণীয় ক্ষতি। ইতিহাসের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত ছিলেন বা আছেন, তারা যে আমাদের জন্য কতটা প্রয়োজনীয় সেটা একমাত্র মারা গেলেই বোঝা সম্ভব। সেই ইতিহাসবোদ্ধারা একে একে চলে যাচ্ছেন এই মহামারিতে! ভাবলেই কষ্ট হয়। ১৯৭১ সালের কণ্ঠযোদ্ধা ফকির আলমগীর ভাইকেও সেই ধারাবাহিকতায় হারালাম আমরা, তাও আবার করোনায়। তার এই চলে যাওয়াটা মেনে নিতে সত্যি কষ্ট হচ্ছে। তারপরও মেনে নিতে হবে। এটা প্রকৃতির নিয়ম। সৃষ্টিকর্তা নিজের ইচ্ছায় মানুষকে তার কাছে নিয়ে যান। একজন ফকির আলমগীর একটি যুগের চিহ্ন, একটি কালের চিহ্ন। জাতিকে জাগ্রত করার মতো গণজাগরণের গান গেয়েছেন তিনি। তিনি আমাদের সংগীতাঙ্গনের গর্ব। তার চলে যাওয়ায় আমাদের দেশ সত্যিই এক সোনার সন্তান হারাল। আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুন, আমিন।

-ফরিদা আক্তার ববিতা, অভিনেত্রী

বাংলাদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই ফকির আলমগীরের সঙ্গে আমার পরিচয়। মুক্তিযুদ্ধের তহবিল সংগ্রহ করার কাজও করেছি একসঙ্গে। তখন তার হাতে একটি বাঁশি থাকত। তার আসল নাম ছিল লালি মিয়া। পরে ফকির আলমগীর নামে পরিচিতি পান। কত কথা, কত স্মৃতি আজ চোখের সামনে ভাসছে! মানুষের সঙ্গে খুব সহজভাবে মিশতেন এ খ্যাতিমান সংগঠক ও শিল্পী। একজন সাধারণ মানুষ থেকে গণমানুষের শিল্পী হয়ে ওঠা সহজ বিষয় নয়; তিনি তাই দেখিয়েছেন। একজন সুলেখক হিসাবেও তার পরিচিতি ছিল। আমি তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।

-তিমির নন্দী, সংগীতশিল্পী

ফকির আলমগীরের সঙ্গে আমার পারিবারিক সম্পর্কও ছিল। দীর্ঘ ২০ বছর আমরা রাজধানীর খিলগাঁওয়ের একটি এলাকায় বসবাস করেছি। ব্যক্তিগত যে কোনো অনুষ্ঠান আয়োজনে আমাকে যে কোনোভাবেই হাজির করাত সে। আমিও যেতাম। সাধ্যমতো আপ্যায়নও করত। খুবই আন্তরিকতাপূর্ণ একজন মানুষ ছিল। সংগীত জগতেও সে ছিল একজন সফল মানুষ। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর যে ক’জন তরুণ শিল্পী সংগীতাঙ্গনকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম একজন ফকির আলমগীর। বিশেষ করে গণসংগীতের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কথা অকপটে তুলে ধরতেন সবার সামনে। স্বাধীনতার পর যে ক’জন পপ সংগীতকে বাংলা ধারার সঙ্গে যুক্ত করেছেন তাদের মধ্যেও অন্যতম ফকির আলমগীর। পরে গণসংগীতের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে সে। এ গুণী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বও চলে যাওয়ায় মনটা ভীষণ ভারাক্রান্ত। আল্লাহ যেন তাকে পরকালে শান্তিতে রাখেন এ কামনাই করছি।

-সৈয়দ আবদুল হাদী, সংগীতশিল্পী

৪ জুন তার সঙ্গে আমার কথা হয়। আজম খানের জন্মদিনে অনুষ্ঠান করেছিল। সে জন্য কথা বলেছিল এবং পরামর্শও নিয়েছিল। ফকির আলমগীর খুব ভালো শিল্পী যেমন ছিল, তেমনই ছিল একজন ভালো মানুষ। বাংলাদেশে মে দিবস উদযাপন প্রসঙ্গে তার অবদান অনেক। তার সঙ্গে যারা মিশতেন তারা জানবেন, তার মনটা খুব নরম ছিল। তার এভাবে চলে যাওয়া মেনে নেওয়া কষ্টকর। আল্লাহ তাকে ভালো রাখুক দোয়া করি।

- আলম খান, সংগীত পরিচালক

ফকির আলমগীর খুব সচেতন মানুষ ছিল। কীভাবে কী হয়ে গেল ভাবতেই পারছি না! সে করোনায় আক্রান্ত হলো, চলেও গেল! বুঝতে পারছি না কী থেকে কী হয়ে যাচ্ছে! কেমন যেন সব ওলটপালট মনে হচ্ছে গত দুই বছর ধরে। ফকির আলমগীর চলে গেল, খবরটা শুনে নিজকে ঠিক রাখতে পারছি না। তার সংগীত জীবনে মেহনতি মানুষকে নিয়ে গান গেয়েছেন বেশি। তার ধ্যান-জ্ঞান ছিল মানুষকে নিয়ে। বিভিন্ন সংগঠনও করত সে। তার এভাবে চলে যাওয়া সংগীতের জন্য বড় ক্ষতি। আমি তার জন্য, তার পরিবারের জন্য দোয়া করি। আল্লাহ তাকে পরপারে ভালো রাখুক।

-শেখ সাদী খান, সংগীত পরিচালক

এক এক করে সংগীতের অনেকেই চলে গেল করোনার থাবায়। আমিও হয়তো চলে যেতাম, করোনায় আক্রান্তও হয়েছিলাম। ফকির আলমগীরের কথা বলতে গেলে অনেক কথাই আসে। কিন্তু কোনটা বাদ দিয়ে কোনটা বলব। এভাবে চলে যাওয়া মানতে কষ্ট হচ্ছে। সবাইকে একদিন চলে যেতে হবে। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। আল্লাহ তাকে ভালো রাখুক এটাই প্রার্থনা করি।

- গাজী মাজহারুল আনোয়ার

চলচ্চিত্রকার ও গীতিকার

ফকির আলমগীর ভাই ছিলেন সাধারণ এবং গণমানুষের শিল্পী। তিনি একটা ধারা তৈরি করতে পেরেছেন সংগীতে। কণ্ঠ দিয়ে সব সময় তিনি মানুষের কথা বলে গেছেন। বিশেষ দিনে, মে দিবসে তার কার্যক্রম ছিল প্রশংসনীয়। শোষণ নির্যাতনের বিপক্ষে ছিল তার গান। তার এভাবে চলে যাওয়া সংগীতের ক্ষতি তো বটেই, আমারও খুব কষ্ট হচ্ছে। সচেতন মানুষ ছিলেন তিনি। কীভাবে কী হয়ে গেল বুঝতে পারলাম না। তার সঙ্গে আমার কথা হতো প্রায়ই। এভাবে তিনি চলে যাবেন কখনো ভাবতে পারিনি। আল্লাহ তাকে ওপারে শান্তিতে রাখুন-এ দোয়াই করি। একই সঙ্গে তার পরিবারের সবাইকে আল্লাহ তার শোক সহ্য করার শক্তি দান করুন।

- খুরশিদ আলম, সংগীতশিল্পী

যুবকদের মতো টগবগে প্রাণশক্তিসম্পন্ন মানুষটিও করোনার ভয়াল থাবায় পর্যুদস্ত হলেন! আমি শোকে নিমজ্জিত! এ দুঃখ প্রকাশের ভাষা আমার নেই। ফকির ভাই সারা জীবন গণসংগীত নিয়ে এক রকম যুদ্ধ করে গেছেন। যুদ্ধ করতে করতে নিজের একটা অটল পাহাড় সমান দুর্গম দুর্গ তৈরি করেছিলেন, করতে পেরেছিলেন। তিনি হয়ে উঠেছিলেন গণমানুষের মুখপাত্র। তিনি ছিলেন আমাদের গণসংগীতের প্রাণপুরুষ। আমি তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য সমবেদনা প্রকাশ করছি, তারা যেন এ ভয়াবহ শোক সহ্য করার শক্তি অর্জন করেন। হে আল্লাহ, তুমি অনেক দয়ালু। এ কিংবদন্তিকে ওপারে ভালো রেখ তুমি।

-কনকচাঁপা, সংগীতশিল্পী

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন