অভিনয়শিল্পীদের কৃত্রিম শিডিউল সংকট
jugantor
ভোগান্তিতে নাট্যপরিচালকরা
অভিনয়শিল্পীদের কৃত্রিম শিডিউল সংকট

  আনন্দনগর প্রতিবেদক  

২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাকাল শুরুর পর চলচ্চিত্রাঙ্গন থমকে গেলেও নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে নির্মিত হচ্ছে নাটক। তবে যেসব অভিনয়শিল্পী অভিনয়গুণে স্বীকৃতি পেয়েছেন, তারা বিরামহীনভাবে শুটিং করে যাচ্ছেন। এসব জনপ্রিয় শিল্পী অর্থাৎ যাদের অভিনয় দর্শক পছন্দ করেন তাদের নিয়েই নাট্য পরিচালকরা নাটক নির্মাণে আগ্রহী হন বেশি। এ কারণে জনপ্রিয় শীর্ষ অভিনয়শিল্পীদের শিডিউল সংকট সারা বছরই থাকে।

তাদের মধ্যে অন্যতম কয়েকজন হলেন জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, মোশাররফ করিম, আফরান নিশো, ফারহান আহমেদ জোভান, মেহজাবিন চৌধুরী, সাবিলা নূর, সাফা কবির প্রমুখ। এসব অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা মাসের প্রায় প্রতিদিনই নাটকের শুটিং করেন। তেমন কোনো অবসর নেই। এ বিষয়ে অপূর্ব বলেন, ‘আমি যতগুলো নাটকে অভিনয় করি তার চেয়ে অনেক বেশি নাটকের প্রস্তাব পাই। সব নাটকে যেহেতু অভিনয়ের সুযোগ নেই। তাই যারা শিডিউল পান না তারা হয়তো মন খারাপ করেন।

এতে করে এক ধরনের ভুল বোঝাবুঝির তৈরি হয়। অভিনয় যেহেতু আমার একমাত্র পেশা তাই এ অঙ্গনটিতে আমি পুরোপুরি সবাইকে সম্মান দিয়েই কাজ করি। আর কিছু কিছু নাটকের গল্প পছন্দ না হওয়ার কারণে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেই। তবে মানসম্মত গল্প ও চরিত্র পেলে আমি সবার আগে সেগুলোকে গুরুত্ব দিই।’

অপূর্ব স্বাভাবিক নিয়মে কাজ করলেও কয়েকজন শীর্ষ ও তরুণ অভিনয়শিল্পীর বিরুদ্ধে কৃত্রিম শিডিউল সংকট তৈরির অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে একাধিক নির্মাতা এ প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করেন। খোঁজ নিয়ে এ অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, স্ক্রিপ্ট পছন্দ হলেও কিছু শিল্পীর কোনো কাজ না থাকলেও ইচ্ছাকৃতভাবে বলেন, পরিচালকের কাঙ্ক্ষিত সময়ে শিডিউল নেই। কিন্তু পারিশ্রমিক বাড়িয়ে দিলে এবং নিজের পছন্দের অন্য অভিনয়শিল্পীদের কাস্ট করা হলে তবেই শুটিং ডেট দেন এসব তারকা।

এ ছাড়া নাটকের শীর্ষ এক অভিনেতার বিরুদ্ধে ফোন রিসিভ না করার অভিযোগ রয়েছে। তিনিও পরিচালকদের হয়রানি করেন সারা বছর। তাকে নাটকে নেওয়ার জন্য প্রস্তাব দিলে শুরুতেই তিনি শিডিউল না থাকার বিষয়টি জানান। সম্প্রতি এমন এক বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন নাট্য নির্মাতা জুয়েল রানা। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি দ্বিতীয় সারির কয়েকজন অভিনয়শিল্পীকে কাজের প্রস্তাব দিলে তারাও শিডিউল না থাকার কথা বলেন। তবে বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারি, তারা হয়তো পারিশ্রমিক কিংবা পছন্দের সহশিল্পী না পাওয়ায় এমন সংকট তৈরি করেছেন। এ অবস্থায় অনেক অভিজ্ঞ পরিচালককেও নাজেহাল হতে হচ্ছে। এ সংকট নিরসনে সবার এগিয়ে আসা উচিত।’

ভোগান্তিতে নাট্যপরিচালকরা

অভিনয়শিল্পীদের কৃত্রিম শিডিউল সংকট

 আনন্দনগর প্রতিবেদক 
২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাকাল শুরুর পর চলচ্চিত্রাঙ্গন থমকে গেলেও নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে নির্মিত হচ্ছে নাটক। তবে যেসব অভিনয়শিল্পী অভিনয়গুণে স্বীকৃতি পেয়েছেন, তারা বিরামহীনভাবে শুটিং করে যাচ্ছেন। এসব জনপ্রিয় শিল্পী অর্থাৎ যাদের অভিনয় দর্শক পছন্দ করেন তাদের নিয়েই নাট্য পরিচালকরা নাটক নির্মাণে আগ্রহী হন বেশি। এ কারণে জনপ্রিয় শীর্ষ অভিনয়শিল্পীদের শিডিউল সংকট সারা বছরই থাকে।

তাদের মধ্যে অন্যতম কয়েকজন হলেন জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, মোশাররফ করিম, আফরান নিশো, ফারহান আহমেদ জোভান, মেহজাবিন চৌধুরী, সাবিলা নূর, সাফা কবির প্রমুখ। এসব অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা মাসের প্রায় প্রতিদিনই নাটকের শুটিং করেন। তেমন কোনো অবসর নেই। এ বিষয়ে অপূর্ব বলেন, ‘আমি যতগুলো নাটকে অভিনয় করি তার চেয়ে অনেক বেশি নাটকের প্রস্তাব পাই। সব নাটকে যেহেতু অভিনয়ের সুযোগ নেই। তাই যারা শিডিউল পান না তারা হয়তো মন খারাপ করেন।

এতে করে এক ধরনের ভুল বোঝাবুঝির তৈরি হয়। অভিনয় যেহেতু আমার একমাত্র পেশা তাই এ অঙ্গনটিতে আমি পুরোপুরি সবাইকে সম্মান দিয়েই কাজ করি। আর কিছু কিছু নাটকের গল্প পছন্দ না হওয়ার কারণে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেই। তবে মানসম্মত গল্প ও চরিত্র পেলে আমি সবার আগে সেগুলোকে গুরুত্ব দিই।’

অপূর্ব স্বাভাবিক নিয়মে কাজ করলেও কয়েকজন শীর্ষ ও তরুণ অভিনয়শিল্পীর বিরুদ্ধে কৃত্রিম শিডিউল সংকট তৈরির অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে একাধিক নির্মাতা এ প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করেন। খোঁজ নিয়ে এ অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, স্ক্রিপ্ট পছন্দ হলেও কিছু শিল্পীর কোনো কাজ না থাকলেও ইচ্ছাকৃতভাবে বলেন, পরিচালকের কাঙ্ক্ষিত সময়ে শিডিউল নেই। কিন্তু পারিশ্রমিক বাড়িয়ে দিলে এবং নিজের পছন্দের অন্য অভিনয়শিল্পীদের কাস্ট করা হলে তবেই শুটিং ডেট দেন এসব তারকা।

এ ছাড়া নাটকের শীর্ষ এক অভিনেতার বিরুদ্ধে ফোন রিসিভ না করার অভিযোগ রয়েছে। তিনিও পরিচালকদের হয়রানি করেন সারা বছর। তাকে নাটকে নেওয়ার জন্য প্রস্তাব দিলে শুরুতেই তিনি শিডিউল না থাকার বিষয়টি জানান। সম্প্রতি এমন এক বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন নাট্য নির্মাতা জুয়েল রানা। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি দ্বিতীয় সারির কয়েকজন অভিনয়শিল্পীকে কাজের প্রস্তাব দিলে তারাও শিডিউল না থাকার কথা বলেন। তবে বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারি, তারা হয়তো পারিশ্রমিক কিংবা পছন্দের সহশিল্পী না পাওয়ায় এমন সংকট তৈরি করেছেন। এ অবস্থায় অনেক অভিজ্ঞ পরিচালককেও নাজেহাল হতে হচ্ছে। এ সংকট নিরসনে সবার এগিয়ে আসা উচিত।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন