নতুনদের গান অনেক শুনি
jugantor
হ্যালো...
নতুনদের গান অনেক শুনি

  অভি মঈনুদ্দীন  

১৭ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নতুনদের গান অনেক শুনি

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। করোনার কারণে বলা যায় গত দেড় বছরেরও বেশি সময় রাজধানীর নিজ বাসায় অবস্থান করছেন। মাঝে রাষ্ট্রীয় একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন। এ ছাড়া আর জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। সমসাময়িক বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে আজকের ‘হ্যালো...’ বিভাগে কথা বলেছেন তিনি

* ঘরে কীভাবে সময় কাটাচ্ছেন?

** বলা যায় অনেকটা নিভৃতে কাটছে। ঘরে বসেই আপাতত সময় কাটাচ্ছি। আমি খুব একটি বের হচ্ছি না। যদিও আলমগীর সাহেবকে অফিসে যেতে হয়। সেটা নিয়ে প্রায়ই ভয়ে থাকি। কারণ কিছুদিন আগেই তিনি করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠলেন। তাই আমি সাবধানে থাকি, তাকেও সাবধানেই থাকতে বলি। এমনিতে টিভি দেখছি, বই পড়ছি আর গান শুনছি। এভাবেই সময় কেটে যাচ্ছে।

* মাঝে তো রাষ্ট্রীয় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। কতটা নিশ্চিন্ত ছিলেন তখন?

** নিশ্চিন্ত ছিলাম না। ভয় কাজ করেছিল। কারণ সেটি ছিল মার্চ মাসে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর একটি অনুষ্ঠান। সে সময় করোনায় বাংলাদেশের অবস্থা বেশ বাজে ছিল না। তারপরও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছি। খেয়াল করে দেখেছি কেউ কেউ মাস্ক ব্যবহার করছিল না। তাদের আমি সতর্ক করে দিয়েছিলাম। আমরা এখনো মাস্ক ব্যবহারে সতর্ক নই। এখন মৃত্যু হার এবং আক্রান্তের হার কমে যাওয়ায় আমাদের মধ্যে সচেতনতাও কমে গেছে।

* আপনার কণ্ঠের নতুন গানের খবর কী?

** সর্বশেষ গত বছর ভারতের আদনান সামীর সঙ্গে একটি ডুয়েট গান করেছিলাম। গানটির সুরও আমি করেছি। আদনান সামী আমার সুরে আরও চারটি গান করেছেন। এরপর আর কোনো গান প্রকাশ হয়নি। আসলে প্রকাশ করার মতো সময়ই তো পাইনি। করোনার প্রকোপ, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিভিন্ন বিধিনিষেধ মেনে প্রপার কাজ করাটা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তবে নতুন কিছু গান নিয়ে কাজ করছি। পরিকল্পনা আছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কাজগুলো শুরু করব। সময় হলেই বিস্তারিত জানাতে পারব।

* সুরকার হিসাবেও কাজ করছেন। এ অবসরে নিশ্চয়ই নতুন সুর সৃষ্টি করছেন?

** হ্যাঁ, সেটাও করছি। কারণ এখন আসলে অনেক সুরই মাথায় আসে। বেশকিছু নতুন সুর সৃষ্টি হয়েছে। সেগুলো নিয়েই আসলে পরবর্তী ভাবনা।

* নতুনদের গান শোনা হয়?

** আমি কিন্তু নতুনদের গান অনেক শুনি। যাদের গান ভালোলাগে তাদের অনুপ্রেরণাও দেই। প্রয়োজনে ফোন করেও অনুপ্রেরণা দেই। আমি চাই নতুনদের বেশি বেশি মৌলিক গান প্রকাশ হোক। কারণ একজন শিল্পীকে মৌলিক গানই দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখে। নতুনদেরও বিষয়টি মাথায় রেখে কাজ করতে হবে।

* সেক্ষেত্রে নতুনদের করণীয় কী হতে পারে?

** করণীয় অনেক কিছুই আছে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে অবশ্যই সাধনা করতে হবে, প্রতিনিয়ত চর্চায় থাকতে হবে। সর্বোপরি গানের জন্য সব সময়ই নিজেকে প্রস্তুত রাখতে হবে। গানে চর্চার বিকল্প কিছু নেই।

* দেশের বাইরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে?

** পরিকল্পনা তো আছে। কিন্তু কখন যাব সেটা নির্ধারিত নয়। আমার মেয়ে তানি এবং তার দুই সন্তান লন্ডনে থাকে। তাদের দেখার জন্যই মনটা ব্যাকুল হয়ে আছে। যদিও ভিডিও কলে কথা হয় প্রায় প্রতিদিনই। তারপরও কাছে গিয়ে সময় কাটানোর ভালোলাগাটা অন্যরকম। তানিরও মন খারাপ, করোনার কারণে যেতে পারছি না বলে। জানি না কবে আবার যেতে পারব। সবই আসলে আল্লাহর ইচ্ছা।

হ্যালো...

নতুনদের গান অনেক শুনি

 অভি মঈনুদ্দীন 
১৭ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
নতুনদের গান অনেক শুনি
ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। করোনার কারণে বলা যায় গত দেড় বছরেরও বেশি সময় রাজধানীর নিজ বাসায় অবস্থান করছেন। মাঝে রাষ্ট্রীয় একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন। এ ছাড়া আর জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। সমসাময়িক বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে আজকের ‘হ্যালো...’ বিভাগে কথা বলেছেন তিনি

* ঘরে কীভাবে সময় কাটাচ্ছেন?

** বলা যায় অনেকটা নিভৃতে কাটছে। ঘরে বসেই আপাতত সময় কাটাচ্ছি। আমি খুব একটি বের হচ্ছি না। যদিও আলমগীর সাহেবকে অফিসে যেতে হয়। সেটা নিয়ে প্রায়ই ভয়ে থাকি। কারণ কিছুদিন আগেই তিনি করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠলেন। তাই আমি সাবধানে থাকি, তাকেও সাবধানেই থাকতে বলি। এমনিতে টিভি দেখছি, বই পড়ছি আর গান শুনছি। এভাবেই সময় কেটে যাচ্ছে।

* মাঝে তো রাষ্ট্রীয় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। কতটা নিশ্চিন্ত ছিলেন তখন?

** নিশ্চিন্ত ছিলাম না। ভয় কাজ করেছিল। কারণ সেটি ছিল মার্চ মাসে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর একটি অনুষ্ঠান। সে সময় করোনায় বাংলাদেশের অবস্থা বেশ বাজে ছিল না। তারপরও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছি। খেয়াল করে দেখেছি কেউ কেউ মাস্ক ব্যবহার করছিল না। তাদের আমি সতর্ক করে দিয়েছিলাম। আমরা এখনো মাস্ক ব্যবহারে সতর্ক নই। এখন মৃত্যু হার এবং আক্রান্তের হার কমে যাওয়ায় আমাদের মধ্যে সচেতনতাও কমে গেছে।

* আপনার কণ্ঠের নতুন গানের খবর কী?

** সর্বশেষ গত বছর ভারতের আদনান সামীর সঙ্গে একটি ডুয়েট গান করেছিলাম। গানটির সুরও আমি করেছি। আদনান সামী আমার সুরে আরও চারটি গান করেছেন। এরপর আর কোনো গান প্রকাশ হয়নি। আসলে প্রকাশ করার মতো সময়ই তো পাইনি। করোনার প্রকোপ, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিভিন্ন বিধিনিষেধ মেনে প্রপার কাজ করাটা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তবে নতুন কিছু গান নিয়ে কাজ করছি। পরিকল্পনা আছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কাজগুলো শুরু করব। সময় হলেই বিস্তারিত জানাতে পারব।

* সুরকার হিসাবেও কাজ করছেন। এ অবসরে নিশ্চয়ই নতুন সুর সৃষ্টি করছেন?

** হ্যাঁ, সেটাও করছি। কারণ এখন আসলে অনেক সুরই মাথায় আসে। বেশকিছু নতুন সুর সৃষ্টি হয়েছে। সেগুলো নিয়েই আসলে পরবর্তী ভাবনা।

* নতুনদের গান শোনা হয়?

** আমি কিন্তু নতুনদের গান অনেক শুনি। যাদের গান ভালোলাগে তাদের অনুপ্রেরণাও দেই। প্রয়োজনে ফোন করেও অনুপ্রেরণা দেই। আমি চাই নতুনদের বেশি বেশি মৌলিক গান প্রকাশ হোক। কারণ একজন শিল্পীকে মৌলিক গানই দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখে। নতুনদেরও বিষয়টি মাথায় রেখে কাজ করতে হবে।

* সেক্ষেত্রে নতুনদের করণীয় কী হতে পারে?

** করণীয় অনেক কিছুই আছে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে অবশ্যই সাধনা করতে হবে, প্রতিনিয়ত চর্চায় থাকতে হবে। সর্বোপরি গানের জন্য সব সময়ই নিজেকে প্রস্তুত রাখতে হবে। গানে চর্চার বিকল্প কিছু নেই।

* দেশের বাইরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে?

** পরিকল্পনা তো আছে। কিন্তু কখন যাব সেটা নির্ধারিত নয়। আমার মেয়ে তানি এবং তার দুই সন্তান লন্ডনে থাকে। তাদের দেখার জন্যই মনটা ব্যাকুল হয়ে আছে। যদিও ভিডিও কলে কথা হয় প্রায় প্রতিদিনই। তারপরও কাছে গিয়ে সময় কাটানোর ভালোলাগাটা অন্যরকম। তানিরও মন খারাপ, করোনার কারণে যেতে পারছি না বলে। জানি না কবে আবার যেতে পারব। সবই আসলে আল্লাহর ইচ্ছা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন