কয়েকটি নতুন গানের সুর করেছি
jugantor
হ্যালো...
কয়েকটি নতুন গানের সুর করেছি

  অভি মঈনুদ্দীন  

১৭ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কয়েকটি নতুন গানের সুর করেছি

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। হওয়ার কথা ছিল নৃত্যশিল্পী। কিন্তু হয়ে গেলেন সংগীতশিল্পী। ১৭টি ভাষায় ১৯ হাজারেরও বেশি গান কণ্ঠে তুলেছেন। পেয়েছেন স্বাধীনতা পদক। আজ তার ৬৯তম জন্মদিন। দিনটি উদযাপনসহ জীবনের নানা বাঁকের কথা শুনিয়েছেন যুগান্তরকে। তার চুম্বক অংশ আজকের ‘হ্যালো...’ বিভাগে পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

* জন্মদিন কীভাবে কাটাবেন?

** গত দুই বছরের মতো এবারের জন্মদিনও ঘরে আমার পরিবারের সঙ্গেই কাটবে। করোনায় আমরা অনেককে হারিয়েছি। আর কেউ এ মহামারিতে চলে যাক এটা চাই না। সবাইকে আল্লাহ সুস্থ ও ভালো রাখুক, এটাই প্রত্যাশা। করোনা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবু আমাদের অনেক সচেতন থাকতে হবে।

* আপনি তো নাচের শিল্পী হতে চেয়েছিলেন...

** একদম ঠিক। সংগীতশিল্পী নয়, আমার আসলে হওয়ার কথা ছিল নৃত্যশিল্পী। টানা চার বছর করাচির বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে ভরতনাট্যম, কত্থক, কত্থকলি শিখেছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গানের মাঝেই থেকে গেলাম।

* প্রথম কবে সিনেমার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন?

** ১৯৬৪ সালে বাবার অনুমতি নিয়ে পাকিস্তানের ‘জুগনু’ সিনেমায় গান করেছি। তখন আমার বয়স ছিল মাত্র সাড়ে ১১ বছর। ‘গুড়িয়াসি মুন্নী মেরি ভাইয়া কি পেয়ারি’ গানটি কণ্ঠে তোলার জন্য একটানা দুই মাস প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম।

* গিনেস বুকেও নাম উঠেছিল আপনার...

** সেটি নব্বই দশকের কথা। তখন মুম্বাইয়ে পাকিস্তানি সুরকার নিসার বাজমির সুরে একদিনে ১০টি করে ৩ দিনে ৩০টি গানে কণ্ঠ দিয়েছিলাম। ওটাই গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে এসেছে।

* এখন অনেক মৌলিক গান প্রকাশ হলেও আপনাদের গানের মতো স্থায়িত্ব পাচ্ছে না কেন?

** এখন গান এমনভাবে হয় যে, যারা বাদ্যযন্ত্র বাজাচ্ছেন (যদি অ্যাকুস্টিক বাজানো হয় আর কী) তাদের সঙ্গে শিল্পীদের তেমন কোনো যোগাযোগ থাকে না। যদি ডুয়েট গান হয় তাহলে দেখা যায় কেউ একজন আগে এসে গেয়ে চলে গেছেন। এভাবে আসলে একটি ভালো গানের সৃষ্টি হতে পারে না। সবই যদি শর্টকাট হয়ে যায়, তাহলে গানেরও স্থায়িত্ব কম হবে। আর এখন তো গান ভালো না গাইলেও কম্পিউটারে ঠিক করে নেওয়া যায়। আমাদের সময় এমন কোনো সুযোগ ছিল না। ফলে গান গাওয়ার মতো করেই গাইতে হয়েছে।

* স্টেজ শো’তে শিল্পীরা এখনো আপনাদের গান গেয়েই স্টেজ মাতানোর চেষ্টা করেন। এর কারণ কী?

** কিছুদিন আগেই শ্রদ্ধেয় লতা জি’র (লতা মুঙ্গেশকর) সঙ্গে কথা হচ্ছিল ঠিক এ বিষয়টি নিয়েই। তার ভাষ্য এমন ছিল, আসলে আমরা যেসব গান গেয়ে এসেছি সেসব গান এখনো দর্শক শ্রোতাদের মনে গেঁথে আছে। যে কারণে স্টেজ শো’তে শিল্পীদের কাছে সেসব গানই শুনতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

* আপনার সুরে কয়েকটি গান প্রকাশ হয়েছে। সুরকার হিসাবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন। নতুন সুর করছেন না কেন?

** করোনার দ্বিতীয় ঢেউ যখন শুরু হলো তখন একটি কাজ করার জন্য পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু পরে সেটি আর হয়নি। এখন করোনা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে আমাদের দেশে। বেশকিছু নতুন গানের সুর করেছি। ভাবছি নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে আবার কাজ করব। দেখা যাক, এটা আসলে সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।

* যদি কেউ রুনা লায়লা সম্পর্কে জানতে চান, সেটা কীভাবে সম্ভব?

** আমাকে জানতে হলে আসলে গান দিয়েই জানতে হবে, আমার গানের মাধ্যমেই আমাকে জানতে হবে। ‘গানই রুনা লায়লা, রুনা লায়লাই গান’।

* করোনার কারণে দু’বছর ঘরবন্দি। বাইরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে?

** ঘরবন্দি ছিলাম আসলে বিশেষ সতর্কতা হিসাবে। করোনার প্রকোপ এখন অনেকটা কমেছে। তাই ঠিক করেছি ১৯ নভেম্বর লন্ডনে মেয়ে ও নাতিদের দেখতে যাব।

হ্যালো...

কয়েকটি নতুন গানের সুর করেছি

 অভি মঈনুদ্দীন 
১৭ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
কয়েকটি নতুন গানের সুর করেছি
ফাইল ছবি

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। হওয়ার কথা ছিল নৃত্যশিল্পী। কিন্তু হয়ে গেলেন সংগীতশিল্পী। ১৭টি ভাষায় ১৯ হাজারেরও বেশি গান কণ্ঠে তুলেছেন। পেয়েছেন স্বাধীনতা পদক। আজ তার ৬৯তম জন্মদিন। দিনটি উদযাপনসহ জীবনের নানা বাঁকের কথা শুনিয়েছেন যুগান্তরকে। তার চুম্বক অংশ আজকের ‘হ্যালো...’ বিভাগে পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

* জন্মদিন কীভাবে কাটাবেন?

** গত দুই বছরের মতো এবারের জন্মদিনও ঘরে আমার পরিবারের সঙ্গেই কাটবে। করোনায় আমরা অনেককে হারিয়েছি। আর কেউ এ মহামারিতে চলে যাক এটা চাই না। সবাইকে আল্লাহ সুস্থ ও ভালো রাখুক, এটাই প্রত্যাশা। করোনা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবু আমাদের অনেক সচেতন থাকতে হবে।

* আপনি তো নাচের শিল্পী হতে চেয়েছিলেন...

** একদম ঠিক। সংগীতশিল্পী নয়, আমার আসলে হওয়ার কথা ছিল নৃত্যশিল্পী। টানা চার বছর করাচির বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে ভরতনাট্যম, কত্থক, কত্থকলি শিখেছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গানের মাঝেই থেকে গেলাম।

* প্রথম কবে সিনেমার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন?

** ১৯৬৪ সালে বাবার অনুমতি নিয়ে পাকিস্তানের ‘জুগনু’ সিনেমায় গান করেছি। তখন আমার বয়স ছিল মাত্র সাড়ে ১১ বছর। ‘গুড়িয়াসি মুন্নী মেরি ভাইয়া কি পেয়ারি’ গানটি কণ্ঠে তোলার জন্য একটানা দুই মাস প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম।

* গিনেস বুকেও নাম উঠেছিল আপনার...

** সেটি নব্বই দশকের কথা। তখন মুম্বাইয়ে পাকিস্তানি সুরকার নিসার বাজমির সুরে একদিনে ১০টি করে ৩ দিনে ৩০টি গানে কণ্ঠ দিয়েছিলাম। ওটাই গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে এসেছে।

* এখন অনেক মৌলিক গান প্রকাশ হলেও আপনাদের গানের মতো স্থায়িত্ব পাচ্ছে না কেন?

** এখন গান এমনভাবে হয় যে, যারা বাদ্যযন্ত্র বাজাচ্ছেন (যদি অ্যাকুস্টিক বাজানো হয় আর কী) তাদের সঙ্গে শিল্পীদের তেমন কোনো যোগাযোগ থাকে না। যদি ডুয়েট গান হয় তাহলে দেখা যায় কেউ একজন আগে এসে গেয়ে চলে গেছেন। এভাবে আসলে একটি ভালো গানের সৃষ্টি হতে পারে না। সবই যদি শর্টকাট হয়ে যায়, তাহলে গানেরও স্থায়িত্ব কম হবে। আর এখন তো গান ভালো না গাইলেও কম্পিউটারে ঠিক করে নেওয়া যায়। আমাদের সময় এমন কোনো সুযোগ ছিল না। ফলে গান গাওয়ার মতো করেই গাইতে হয়েছে।

* স্টেজ শো’তে শিল্পীরা এখনো আপনাদের গান গেয়েই স্টেজ মাতানোর চেষ্টা করেন। এর কারণ কী?

** কিছুদিন আগেই শ্রদ্ধেয় লতা জি’র (লতা মুঙ্গেশকর) সঙ্গে কথা হচ্ছিল ঠিক এ বিষয়টি নিয়েই। তার ভাষ্য এমন ছিল, আসলে আমরা যেসব গান গেয়ে এসেছি সেসব গান এখনো দর্শক শ্রোতাদের মনে গেঁথে আছে। যে কারণে স্টেজ শো’তে শিল্পীদের কাছে সেসব গানই শুনতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

* আপনার সুরে কয়েকটি গান প্রকাশ হয়েছে। সুরকার হিসাবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন। নতুন সুর করছেন না কেন?

** করোনার দ্বিতীয় ঢেউ যখন শুরু হলো তখন একটি কাজ করার জন্য পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু পরে সেটি আর হয়নি। এখন করোনা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে আমাদের দেশে। বেশকিছু নতুন গানের সুর করেছি। ভাবছি নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে আবার কাজ করব। দেখা যাক, এটা আসলে সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।

* যদি কেউ রুনা লায়লা সম্পর্কে জানতে চান, সেটা কীভাবে সম্ভব?

** আমাকে জানতে হলে আসলে গান দিয়েই জানতে হবে, আমার গানের মাধ্যমেই আমাকে জানতে হবে। ‘গানই রুনা লায়লা, রুনা লায়লাই গান’।

* করোনার কারণে দু’বছর ঘরবন্দি। বাইরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে?

** ঘরবন্দি ছিলাম আসলে বিশেষ সতর্কতা হিসাবে। করোনার প্রকোপ এখন অনেকটা কমেছে। তাই ঠিক করেছি ১৯ নভেম্বর লন্ডনে মেয়ে ও নাতিদের দেখতে যাব।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন