তারকার দৃষ্টিতে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী
jugantor
তারকার দৃষ্টিতে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী

  অনলাইন ডেস্ক  

০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত ৫০ বছরে আমাদের ভিজ্যুয়াল অগ্রগতি হয়েছে। শহর পরিবর্তন হয়েছে। মানুষের পোশাক-আশাকে পরিবর্তন হয়েছে। ব্যবসা বড় হয়েছে। শিল্পায়ন হয়েছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ গেছে। সুন্দর সুন্দর রাস্তাঘাট হয়েছে। বঙ্গবন্ধু টানেল হচ্ছে, মেট্রোরেল, যমুনা সেতু, পদ্মা সেতুসহ দৃশ্যমান উন্নয়নের কথা বলে শেষ করা যাবে না। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা সেটি করছি। কিন্তু মানুষ হিসাবে মানবিক দিক দিয়ে আমাদের নৈতিক অধঃপতন হয়েছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, একজন মানুষ বড় হয়, উন্নত হয়, সে যতটা মানবিক। একজন মানুষ আরেকজন মানুষের জন্য সমব্যথী হবে। একে অন্যের সাহায্যে এগিয়ে যাবে। এটি যেমন মানুষে মানুষে থাকবে, তেমনই একটি দলের সঙ্গে আরেকটি দলেরও থাকবে। এ বিষয়টির অধঃপতন হয়েছে। স্পষ্টভাবে আমি বলতে পারি, মানবিকতার দিক থেকে আমাদের দেশটা ততটাই পিছিয়ে গেছে, যতটা এগিয়েছে উন্নয়নের ক্ষেত্রে। যদি একটি দেশ মানবিক না হয়, সেই দেশের অগ্রগতি স্থায়ী হয় না। মানবিক বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হচ্ছে আমাদের সাংস্কৃতিক বিপর্যয়। জাতি হিসাবে আমাদের নিজস্ব একটা সংস্কৃতি আছে। আমরা সে ক্ষেত্রে যথার্থ ভূমিকা পালন করতে পারিনি। কবে যে বাংলাদেশে একটি ভালো ছবি নির্মিত হয়েছে, যে ছবিটি দেশে-বিদেশে সব জায়গায় আলোড়িত করেছে, আমরা বলতে পারব না। কবে যে একটি পেইন্টিং পৃথিবীকে মাতিয়ে দিয়েছে আমরা মনে করতে পারব না। কবে যে একটি গান বাংলা ভাষাভাষীদের হৃদয়কে আলোড়িত করেছে তা আমাদের খুঁজতে হবে। টিভি নাটক, মঞ্চ নাটক সবাইকে আলোড়িত করেছে তা আমরা প্রায় ভুলে গেছি। সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে নাটক, সিনেমা, মঞ্চ, পেইন্টিং সব ক্ষেত্রেই খুব বড় ধরনের ভালো কোনো কিছু না হওয়াতে মানবিক বিপর্যয়টা আমাদের হয়েছে। যে দেশ সাংস্কৃতিকভাবে খুব বেশি উন্নত নয়, সে দেশের বাহ্যিক উন্নয়ন চোখে পড়বে। কিন্তু মানবিক উন্নয়নে পিছিয়ে থাকবে। এ সমস্যা আমাদের আছে। আমি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি। তিনি একজন সংস্কৃতিমনা মানুষ। উনি এখনো গান শোনেন, কবিতা পড়েন, গল্প-উপন্যাস পড়েন, নাটক দেখেন, ছবির খোঁজখবর রাখেন। উনার মতো এমন সংস্কৃতিপ্রেমী প্রধানমন্ত্রী পাওয়ার পরও আমরা যে কেন এগোতে পারলাম না, দোষটা বোধহয় আমাদেরই। কিংবা আমাদের চারপাশে যারা আছে তাদেরই।

লেখক : মাহফুজ আহমেদ, অভিনেতা ও নির্মাতা

তারকার দৃষ্টিতে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী

 অনলাইন ডেস্ক 
০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত ৫০ বছরে আমাদের ভিজ্যুয়াল অগ্রগতি হয়েছে। শহর পরিবর্তন হয়েছে। মানুষের পোশাক-আশাকে পরিবর্তন হয়েছে। ব্যবসা বড় হয়েছে। শিল্পায়ন হয়েছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ গেছে। সুন্দর সুন্দর রাস্তাঘাট হয়েছে। বঙ্গবন্ধু টানেল হচ্ছে, মেট্রোরেল, যমুনা সেতু, পদ্মা সেতুসহ দৃশ্যমান উন্নয়নের কথা বলে শেষ করা যাবে না। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা সেটি করছি। কিন্তু মানুষ হিসাবে মানবিক দিক দিয়ে আমাদের নৈতিক অধঃপতন হয়েছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, একজন মানুষ বড় হয়, উন্নত হয়, সে যতটা মানবিক। একজন মানুষ আরেকজন মানুষের জন্য সমব্যথী হবে। একে অন্যের সাহায্যে এগিয়ে যাবে। এটি যেমন মানুষে মানুষে থাকবে, তেমনই একটি দলের সঙ্গে আরেকটি দলেরও থাকবে। এ বিষয়টির অধঃপতন হয়েছে। স্পষ্টভাবে আমি বলতে পারি, মানবিকতার দিক থেকে আমাদের দেশটা ততটাই পিছিয়ে গেছে, যতটা এগিয়েছে উন্নয়নের ক্ষেত্রে। যদি একটি দেশ মানবিক না হয়, সেই দেশের অগ্রগতি স্থায়ী হয় না। মানবিক বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হচ্ছে আমাদের সাংস্কৃতিক বিপর্যয়। জাতি হিসাবে আমাদের নিজস্ব একটা সংস্কৃতি আছে। আমরা সে ক্ষেত্রে যথার্থ ভূমিকা পালন করতে পারিনি। কবে যে বাংলাদেশে একটি ভালো ছবি নির্মিত হয়েছে, যে ছবিটি দেশে-বিদেশে সব জায়গায় আলোড়িত করেছে, আমরা বলতে পারব না। কবে যে একটি পেইন্টিং পৃথিবীকে মাতিয়ে দিয়েছে আমরা মনে করতে পারব না। কবে যে একটি গান বাংলা ভাষাভাষীদের হৃদয়কে আলোড়িত করেছে তা আমাদের খুঁজতে হবে। টিভি নাটক, মঞ্চ নাটক সবাইকে আলোড়িত করেছে তা আমরা প্রায় ভুলে গেছি। সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে নাটক, সিনেমা, মঞ্চ, পেইন্টিং সব ক্ষেত্রেই খুব বড় ধরনের ভালো কোনো কিছু না হওয়াতে মানবিক বিপর্যয়টা আমাদের হয়েছে। যে দেশ সাংস্কৃতিকভাবে খুব বেশি উন্নত নয়, সে দেশের বাহ্যিক উন্নয়ন চোখে পড়বে। কিন্তু মানবিক উন্নয়নে পিছিয়ে থাকবে। এ সমস্যা আমাদের আছে। আমি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি। তিনি একজন সংস্কৃতিমনা মানুষ। উনি এখনো গান শোনেন, কবিতা পড়েন, গল্প-উপন্যাস পড়েন, নাটক দেখেন, ছবির খোঁজখবর রাখেন। উনার মতো এমন সংস্কৃতিপ্রেমী প্রধানমন্ত্রী পাওয়ার পরও আমরা যে কেন এগোতে পারলাম না, দোষটা বোধহয় আমাদেরই। কিংবা আমাদের চারপাশে যারা আছে তাদেরই।

লেখক : মাহফুজ আহমেদ, অভিনেতা ও নির্মাতা

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন