গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের কমিটি ভেঙে দিতে রামেন্দু মজুমদারের আহ্বান
jugantor
গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের কমিটি ভেঙে দিতে রামেন্দু মজুমদারের আহ্বান

  আনন্দনগর প্রতিবেদক  

২৫ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের চলমান বিতর্ক নিয়ে এবার মুখ খুললেন প্রখ্যাত নাট্য ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার। ২২ জানুয়ারি ফেডারেশনের সভাপতি লিয়াকত আলী লাকীর উপস্থিতিতে এক বিশেষ সভায় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক কামাল বায়েজীদ ও অর্থ সম্পাদক রফিক উল্লাহ সেলিমকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এ নিয়ে বিতর্ক যখন ডালপালা মেলছে ঠিক তখন ফেডারেশনের বর্তমান কমিটি ভেঙে দিতে আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রামেন্দু মজুমদার। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় নাট্যকর্মীদের প্রতি এক খোলা চিঠির মাধ্যমে এমন মতামত ব্যক্ত করেন। তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনকে কেন্দ্র করে বর্তমানে যা ঘটছে, তা জানতে পেরে আমি অত্যন্ত মর্মাহত। দীর্ঘদিন ধরেই আমি ফেডারেশনের ব্যাপারে নির্লিপ্ত। থিয়েটার পত্রিকার সম্পাদক হিসাবে ১৯৮০ সালে আমার আহ্বানে নাট্যকর্মীরা সভায় মিলিত হয়ে ফেডারেশন গঠনে একমত হন এবং আমি প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। তাই সংকটকালে একটা দায়িত্ববোধ অনুভব করছি। আমরা প্রতিষ্ঠাকালে যে ফেডারেশনের স্বপ্ন দেখেছিলাম, আজকের পরিস্থিতি আমাদের কল্পনারও অতীত ছিল। অনেক কষ্ট করে সব মত ও পথের মানুষকে ফেডারেশনের পতাকাতলে এক করে সংগঠনকে নাট্যকর্মীদের একটি বিশাল শক্তি হিসাবে গড়ে তুলতে পেরেছিলাম। কোনো সরকারি আর্থিক অনুদান ছাড়া নিজেরা পরিশ্রম করে বিভিন্ন জায়গা থেকে অর্থ সংগ্রহ করে দীর্ঘদিন ফেডারেশনের কাজকর্ম চালিয়েছি। আমরা সমবয়সি হলেও একে অন্যের সিদ্ধান্ত মেনে চলেছি, অন্যের মতামতকে শ্রদ্ধা করেছি। এখন দেখছি, নাটক নয়, তথাকথিত ক্ষমতার রাজনীতিই প্রধান হয়ে উঠেছে। জাতীয় নির্বাচনের মতো ফেডারেশনের নির্বাচনে প্রার্থীরা দেশব্যাপী ঘুরে প্রচার চালান, প্রতিনিধিরা ঢাকায় এলে তাদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করেন, কেবল ভোটের আশায়। কী এমন মধু আছে ফেডারেশনে আমি বুঝতে পারি না।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘বর্তমানে ফেডারেশনের কর্তাব্যক্তিদের এই বিরোধ জনসম্মুক্ষে নাট্যকর্মীদের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে কালিমালিপ্ত করেছে। এর দায় নাট্যকর্মীরা কেন নেবেন? তারা সুন্দর পরিবেশে নাটক করতে চান, নোংরা রাজনীতি চান না। এমন অবস্থায় আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে, অনির্দিষ্টকালের জন্য বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সব কর্মকাণ্ড স্থগিত করা হোক এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে রাখা হোক। গঠনতান্ত্রিক উপায়ে কাজটি করার জন্য ফেডারেশনের একটি জরুরি সাধারণ সভা আহ্বান করে এসব সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বর্তমান নির্বাহী ও কেন্দ্রীয় পরিষদ বাতিল করে ৭/৮ জনের একটি অ্যাডহক কমিটি করে দেওয়া যেতে পারে, যারা বেশ কিছু দিন পর পরিস্থিতি শীতল হলে ফেডারেশনকে ঢেলে সাজিয়ে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করবেন।’ প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের তিন শতাধিক নাট্যদলের সম্মিলিত প্ল্যাটফরম ‘গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন’ গঠিত হয় ১৯৮০ সালে।

গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের কমিটি ভেঙে দিতে রামেন্দু মজুমদারের আহ্বান

 আনন্দনগর প্রতিবেদক 
২৫ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের চলমান বিতর্ক নিয়ে এবার মুখ খুললেন প্রখ্যাত নাট্য ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার। ২২ জানুয়ারি ফেডারেশনের সভাপতি লিয়াকত আলী লাকীর উপস্থিতিতে এক বিশেষ সভায় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক কামাল বায়েজীদ ও অর্থ সম্পাদক রফিক উল্লাহ সেলিমকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এ নিয়ে বিতর্ক যখন ডালপালা মেলছে ঠিক তখন ফেডারেশনের বর্তমান কমিটি ভেঙে দিতে আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রামেন্দু মজুমদার। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় নাট্যকর্মীদের প্রতি এক খোলা চিঠির মাধ্যমে এমন মতামত ব্যক্ত করেন। তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনকে কেন্দ্র করে বর্তমানে যা ঘটছে, তা জানতে পেরে আমি অত্যন্ত মর্মাহত। দীর্ঘদিন ধরেই আমি ফেডারেশনের ব্যাপারে নির্লিপ্ত। থিয়েটার পত্রিকার সম্পাদক হিসাবে ১৯৮০ সালে আমার আহ্বানে নাট্যকর্মীরা সভায় মিলিত হয়ে ফেডারেশন গঠনে একমত হন এবং আমি প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। তাই সংকটকালে একটা দায়িত্ববোধ অনুভব করছি। আমরা প্রতিষ্ঠাকালে যে ফেডারেশনের স্বপ্ন দেখেছিলাম, আজকের পরিস্থিতি আমাদের কল্পনারও অতীত ছিল। অনেক কষ্ট করে সব মত ও পথের মানুষকে ফেডারেশনের পতাকাতলে এক করে সংগঠনকে নাট্যকর্মীদের একটি বিশাল শক্তি হিসাবে গড়ে তুলতে পেরেছিলাম। কোনো সরকারি আর্থিক অনুদান ছাড়া নিজেরা পরিশ্রম করে বিভিন্ন জায়গা থেকে অর্থ সংগ্রহ করে দীর্ঘদিন ফেডারেশনের কাজকর্ম চালিয়েছি। আমরা সমবয়সি হলেও একে অন্যের সিদ্ধান্ত মেনে চলেছি, অন্যের মতামতকে শ্রদ্ধা করেছি। এখন দেখছি, নাটক নয়, তথাকথিত ক্ষমতার রাজনীতিই প্রধান হয়ে উঠেছে। জাতীয় নির্বাচনের মতো ফেডারেশনের নির্বাচনে প্রার্থীরা দেশব্যাপী ঘুরে প্রচার চালান, প্রতিনিধিরা ঢাকায় এলে তাদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করেন, কেবল ভোটের আশায়। কী এমন মধু আছে ফেডারেশনে আমি বুঝতে পারি না।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘বর্তমানে ফেডারেশনের কর্তাব্যক্তিদের এই বিরোধ জনসম্মুক্ষে নাট্যকর্মীদের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে কালিমালিপ্ত করেছে। এর দায় নাট্যকর্মীরা কেন নেবেন? তারা সুন্দর পরিবেশে নাটক করতে চান, নোংরা রাজনীতি চান না। এমন অবস্থায় আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে, অনির্দিষ্টকালের জন্য বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সব কর্মকাণ্ড স্থগিত করা হোক এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে রাখা হোক। গঠনতান্ত্রিক উপায়ে কাজটি করার জন্য ফেডারেশনের একটি জরুরি সাধারণ সভা আহ্বান করে এসব সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বর্তমান নির্বাহী ও কেন্দ্রীয় পরিষদ বাতিল করে ৭/৮ জনের একটি অ্যাডহক কমিটি করে দেওয়া যেতে পারে, যারা বেশ কিছু দিন পর পরিস্থিতি শীতল হলে ফেডারেশনকে ঢেলে সাজিয়ে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করবেন।’ প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের তিন শতাধিক নাট্যদলের সম্মিলিত প্ল্যাটফরম ‘গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন’ গঠিত হয় ১৯৮০ সালে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন