অনুদানের দিকে ঝুঁকছেন তারকারা
jugantor
অনুদানের দিকে ঝুঁকছেন তারকারা

  আনন্দনগর প্রতিবেদক  

০২ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা পরবর্তী বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে দেশি সিনেমা অঙ্গন। বিশেষ করে গত কয়েক মাস ধরে প্রেক্ষাগৃহগুলো ফিরছে পুরোনোরূপে। বেসরকারি উদ্যোগে প্রচুর সিনেমা নির্মিত হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি অনুদানে নির্মিত সিনেমাগুলোও এখন দর্শকের আগ্রহে জায়গা করে নিচ্ছে। গত কয়েক বছরে অভিনয়শিল্পীরা যেমন এসব সিনেমায় অভিনয়ে আগ্রহী হয়েছেন, তেমনই সরকারও অনুদানের সিনেমায় অর্থের জোগান বৃদ্ধি করেছে। যার কারণে শীর্ষস্থানীয় অভিনয় তারকারা অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করছেন। এ তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন চিত্রনায়ক শাকিব খান ও চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। চলতি অর্থবছরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুদান পেয়েছেন এ দুই তারকা। অপু বিশ্বাসের অপু জয় ফিল্মসের ব্যানারে নির্মিত হচ্ছে ‘লাল শাড়ি’ নামে একটি সিনেমা। যেটির শুটিং শুরু হচ্ছে চলতি মাসেই। বেশ আয়োজন করেই সিনেমাটির মহরত অনুষ্ঠিত হলো কিছুদিন আগে। এ প্রসঙ্গে অপু বিশ্বাস বলেন, ‘শুধু অনুদানে নয়, নিজস্ব অর্থায়নে আগামীতে নিয়মিত সিনেমা প্রযোজনা করার ইচ্ছা আছে। তবে প্রথম সিনেমার কাজের ওপর সবকিছু নির্ভর করছে। কারণ, একটি সিনেমা প্রযোজনা করতে কী পরিমাণ সময়, শ্রম এবং অর্থ ব্যয় করতে হয়, তা বুঝতে চাই। বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত আসার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তবে আমি আশাবাদী আমার সিনেমার সফলতা নিয়ে।’

এদিকে ‘মায়া’ নামে একটি সিনেমার জন্য প্রথমবার সরকারি অনুদান পেয়েছেন শাকিব খান। দীর্ঘ নয় মাস আমেরিকা অবস্থানের পর দেশে ফিরেই তিনি মন্ত্রণালয়ে গিয়ে অনুদানের চেক গ্রহণ করেছেন। এ প্রসঙ্গে শাকিব খান বলেন, ‘আমি প্রযোজনা আগে থেকেই করেছি। তবে সরকারি অনুদান এই প্রথম পেলাম। ইচ্ছা আছে একটি মানসম্মত সিনেমা নির্মাণের। এতে আমার নিজস্ব বিনিয়োগও থাকবে। আশা করছি প্রযোজনায় আমাকে নিয়মিতই দেখা যাবে।’

অভিনেত্রী ও নির্মাতা অরুণা বিশ্বাস গত অর্থবছরে ‘অসম্ভব’ নামের একটি সিনেমার জন্য সরকারি অনুদান পেয়েছেন। তার প্রযোজনা সংস্থা থেকে সিনেমাটির নির্মাণ কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি মুক্তির প্রক্রিয়ায় চলে আসবে। এ প্রসঙ্গে অরুণা বিশ্বাস বলেন, ‘সরকারি অনুদান পাওয়ায় আমার জন্য প্রযোজনা করা সহজ হয়েছে। আমি দীর্ঘ সময় ধরেই পরিকল্পনা করছিলাম একটি সুন্দর গল্প নিয়ে সিনেমা প্রযোজনা ও পরিচালনা করার। সরকার আমাকে অর্থের জোগান দিয়ে উৎসাহিত করেছে। আশা করছি সিনেমাটি দর্শকের ভালো লাগবে।’

চিত্রনায়িকা রোজিনাও সরকারি অনুদানে সিনেমা নির্মাণ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের গল্পে নির্মিত এ সিনেমার নাম ‘ফিরে দেখা’। তার নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা থেকেই এটি নির্মিত হয়েছে। গত ঈদের আগে সিনেমাটির সেন্সরও সম্পন্ন হয়েছে। এ প্রসঙ্গে রোজিনা বলেন, ‘সরকারি যে টাকা পাওয়া যায় তা দিয়ে তো পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা যায় না। তারপরও নিজের টাকাও বিনিয়োগ করেছি এতে। যেহেতু এটি প্রযোজক ও পরিচালক হিসাবে আমার প্রথম সিনেমা তাই যথেষ্ট শ্রম দিয়েই এটি নির্মাণ করেছি।’ চিত্রনায়ক ফেরদৌসও প্রযোজক হিসাবে সরকারি অনুদানে সিনেমা নির্মাণ করেছিলেন। নাম ছিল ‘এক কাপ চা’। তবে প্রযোজনার কাজটি এখনো অব্যাহত রেখেছেন তিনি। অন্যদিকে দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান বছর দুয়েক আগে সরকারি অনুদানে নির্মিত ‘দেবী’ নামে একটি সিনেমা মুক্তিও দিয়েছেন। এটি নির্মিত হয়েছে প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে।

অনুদানের দিকে ঝুঁকছেন তারকারা

 আনন্দনগর প্রতিবেদক 
০২ অক্টোবর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা পরবর্তী বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে দেশি সিনেমা অঙ্গন। বিশেষ করে গত কয়েক মাস ধরে প্রেক্ষাগৃহগুলো ফিরছে পুরোনোরূপে। বেসরকারি উদ্যোগে প্রচুর সিনেমা নির্মিত হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি অনুদানে নির্মিত সিনেমাগুলোও এখন দর্শকের আগ্রহে জায়গা করে নিচ্ছে। গত কয়েক বছরে অভিনয়শিল্পীরা যেমন এসব সিনেমায় অভিনয়ে আগ্রহী হয়েছেন, তেমনই সরকারও অনুদানের সিনেমায় অর্থের জোগান বৃদ্ধি করেছে। যার কারণে শীর্ষস্থানীয় অভিনয় তারকারা অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করছেন। এ তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন চিত্রনায়ক শাকিব খান ও চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। চলতি অর্থবছরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুদান পেয়েছেন এ দুই তারকা। অপু বিশ্বাসের অপু জয় ফিল্মসের ব্যানারে নির্মিত হচ্ছে ‘লাল শাড়ি’ নামে একটি সিনেমা। যেটির শুটিং শুরু হচ্ছে চলতি মাসেই। বেশ আয়োজন করেই সিনেমাটির মহরত অনুষ্ঠিত হলো কিছুদিন আগে। এ প্রসঙ্গে অপু বিশ্বাস বলেন, ‘শুধু অনুদানে নয়, নিজস্ব অর্থায়নে আগামীতে নিয়মিত সিনেমা প্রযোজনা করার ইচ্ছা আছে। তবে প্রথম সিনেমার কাজের ওপর সবকিছু নির্ভর করছে। কারণ, একটি সিনেমা প্রযোজনা করতে কী পরিমাণ সময়, শ্রম এবং অর্থ ব্যয় করতে হয়, তা বুঝতে চাই। বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত আসার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তবে আমি আশাবাদী আমার সিনেমার সফলতা নিয়ে।’

এদিকে ‘মায়া’ নামে একটি সিনেমার জন্য প্রথমবার সরকারি অনুদান পেয়েছেন শাকিব খান। দীর্ঘ নয় মাস আমেরিকা অবস্থানের পর দেশে ফিরেই তিনি মন্ত্রণালয়ে গিয়ে অনুদানের চেক গ্রহণ করেছেন। এ প্রসঙ্গে শাকিব খান বলেন, ‘আমি প্রযোজনা আগে থেকেই করেছি। তবে সরকারি অনুদান এই প্রথম পেলাম। ইচ্ছা আছে একটি মানসম্মত সিনেমা নির্মাণের। এতে আমার নিজস্ব বিনিয়োগও থাকবে। আশা করছি প্রযোজনায় আমাকে নিয়মিতই দেখা যাবে।’

অভিনেত্রী ও নির্মাতা অরুণা বিশ্বাস গত অর্থবছরে ‘অসম্ভব’ নামের একটি সিনেমার জন্য সরকারি অনুদান পেয়েছেন। তার প্রযোজনা সংস্থা থেকে সিনেমাটির নির্মাণ কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি মুক্তির প্রক্রিয়ায় চলে আসবে। এ প্রসঙ্গে অরুণা বিশ্বাস বলেন, ‘সরকারি অনুদান পাওয়ায় আমার জন্য প্রযোজনা করা সহজ হয়েছে। আমি দীর্ঘ সময় ধরেই পরিকল্পনা করছিলাম একটি সুন্দর গল্প নিয়ে সিনেমা প্রযোজনা ও পরিচালনা করার। সরকার আমাকে অর্থের জোগান দিয়ে উৎসাহিত করেছে। আশা করছি সিনেমাটি দর্শকের ভালো লাগবে।’

চিত্রনায়িকা রোজিনাও সরকারি অনুদানে সিনেমা নির্মাণ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের গল্পে নির্মিত এ সিনেমার নাম ‘ফিরে দেখা’। তার নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা থেকেই এটি নির্মিত হয়েছে। গত ঈদের আগে সিনেমাটির সেন্সরও সম্পন্ন হয়েছে। এ প্রসঙ্গে রোজিনা বলেন, ‘সরকারি যে টাকা পাওয়া যায় তা দিয়ে তো পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা যায় না। তারপরও নিজের টাকাও বিনিয়োগ করেছি এতে। যেহেতু এটি প্রযোজক ও পরিচালক হিসাবে আমার প্রথম সিনেমা তাই যথেষ্ট শ্রম দিয়েই এটি নির্মাণ করেছি।’ চিত্রনায়ক ফেরদৌসও প্রযোজক হিসাবে সরকারি অনুদানে সিনেমা নির্মাণ করেছিলেন। নাম ছিল ‘এক কাপ চা’। তবে প্রযোজনার কাজটি এখনো অব্যাহত রেখেছেন তিনি। অন্যদিকে দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান বছর দুয়েক আগে সরকারি অনুদানে নির্মিত ‘দেবী’ নামে একটি সিনেমা মুক্তিও দিয়েছেন। এটি নির্মিত হয়েছে প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন