বাজারমূল্য হিসেবেই পারিশ্রমিক দিচ্ছেন সবাই

বাংলা নাটকের দর্শকপ্রিয়তার তুঙ্গে অবস্থান করছেন অভিনেতা মোশাররফ করিম। তার অভিনীত নাটক মানেই যেন দর্শকদের কাছে বিনোদনে ভরপুর প্যাকেজ। চলচ্চিত্রে অভিনয় করেও প্রশংসিত তিনি। এখন ব্যস্ত রয়েছেন ঈদুল আজহার নাটকের শুটিং নিয়ে। বর্তমান ব্যস্ততা ও সমসাময়িক প্রসঙ্গ নিয়ে আজকের ‘হ্যালো...’ বিভাগে কথা বলছেন তিনি

প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক   

* ঈদের নাটকের ব্যস্ততা কেমন যাচ্ছে?

** নাটকের শুটিং নিয়েই তো সারা বছর ব্যস্ত থাকি। তবে ঈদের আগের এই সময়টাতে ব্যস্ততার পরিমাণ একটু বেড়ে যায়। সম্প্রতি শুটিং শেষ করলাম সাজিদ আহমেদ বাবুর ‘কিড সুলাইমান-২’ নামের একটি ঈদ ধারাবাহিকের।

এছাড়াও চারটির মতো ঈদ ধারাবাহিকের শুটিং শেষ করেছি। পাশাপাশি খণ্ড নাটক তো রয়েছেই। বুঝতেই পারছেন ব্যস্ততার দিনগুলো কেমন যাচ্ছে।

* আপনার অভিনীত প্রায় নাটকেই নাম ভূমিকায় আপনাকে দেখা যাচ্ছে। এটাকে কীভাবে দেখছেন?

** সময়ে সময়ে এক ধরনের জোয়ার আসে। বলতে পারেন এটা এখনকার জোয়ার। সত্যি বলতে এটাকে এক ধরনের বন্ধ্যাত্ব বলা যায়। তবে নাটকের নামটাই যে বড় ফ্যাক্টর তা কিন্তু নয়। ওমুক ভাই, তমুক ভাই, ওমুক মজিদ এগুলো একটানা না চলাই ভালো।

* এ ধরনের নাটকে আপনি নিয়মিতই অভিনয় করছেন। চাইলে কি এড়িয়ে যেতে পারেন না?

** গল্প অনুযায়ী এখন নাম নির্বাচন করা হয়। তবে মাঝে অনেককে শর্ত দিয়েছিলাম কোনো মানুষের নামে নাটক হলে করব না। কিছুদিন এভাবেই চলেছি। এখন আবার হুজুগে চলছে। চ্যানেলগুলোর চাহিদাও নাকি এমন। ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ীই তো পণ্য তৈরি করতে হবে। তবে শিল্প বিষয়টি যেন থাকে এটাও দেখতে হয়।

* নাটকের মান নিুমুখী হওয়ায় চ্যানেলগুলোর দায় কতটা?

** চ্যানেল থেকে সবসময় নির্মাতাকে নতুন কিছু করতে বলা হয়। নতুন গল্প নিয়ে কাজ করতে বলা হয়। পাশাপাশি এটাও বলা হয়, ওপরে যেসব নাটকের কথা বলেছি সে ধরনের নাটকের সিক্যুয়েল করতে। মানুষের নাম নিয়ে সে ধরনের নাটকের প্রতিই তাদের আগ্রহ বেশি। চ্যানেলগুলো সহজে টাকা ঘরে তোলার পেছনে সময় দেয়। ফলে ভালো কিছু সৃষ্টি হচ্ছে কম। একটা জিনিস ভালো হলে সেটি ধারাবাহিক চলতে পারে। তবে সেখানে ব্যবসার পাশাপাশি শিল্পকেও প্রাধান্য দিতে হবে।

* এ পর্যন্ত যে ক’টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তার সবগুলোতেই চরিত্রে বেশ বৈচিত্র্য ছিল। নাটকে একই চরিত্রে বারবার উপস্থাপিত হচ্ছেন এটা কেন?

** এটা মনে হয় আমাকে জিজ্ঞেস না করে পরিচালক ও চ্যানেলগুলোকে জিজ্ঞেস করতে পারেন। তারাই এটা আমার চেয়ে ভালো বলতে পারবেন। এখানে কাজের বন্ধ্যাত্ব তৈরির পেছনে একটা কারণ আমি বলতে পারি।

সেটি হচ্ছে, বাংলাদেশে এখন অনেক চ্যানেল। এ চ্যানেলগুলোর কাজের জন্য অনেক নাটক অনুষ্ঠানের প্রয়োজন হয়। এসব অনুষ্ঠান কিংবা নাটক তৈরির জন্য সম্মিলিতভাবে অভিনয়শিল্পী, গল্পকার, ক্যামেরাম্যান, এডিটর, সহকারী পরিচালকসহ বিভিন্ন কাজের জন্য যে জনবল লাগে সেই জনবল চ্যানেলগুলো তৈরি করেনি। এমন দক্ষ লোক তৈরি না করেই চ্যানেল দিয়ে ফেলেছেন। তাই কাজের মানও খারাপ হচ্ছে।

* নাটকে আপনি পারিশ্রমিক বেশি নিচ্ছেন এমন অভিযোগ অনেকেই করে থাকেন। এ বিষয়ে কী বলবেন?

** আমি জানি না এ অভিযোগ কারা তুলছেন বা কেন তুলছেন? আমি তো কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে কারও কাছে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা চাই না। বলিও না আমাকে এত টাকা দিতে হবে। তারাই বাজারমূল্য মোতাবেক পারিশ্রমিক দিয়ে যাচ্ছেন। নাটকের সবাই আমার কাছের মানুষ।

নির্মাতারা শিডিউল নিয়ে টাকা দিয়ে যাচ্ছেন। তবে এখানে একটা বিষয় বলতে হয়। চ্যানেলগুলোকে আমি যে পরিমাণ ব্যবসা দেব তার পারিশ্রমিক তো তাদের দিতেই হবে। এখন তো চ্যানেলগুলো টিভির পাশাপাশি ইউটিউবে নাটক প্রচার করেও ভালো আয় করছে। এটাও কিন্তু এখন বিবেচনায় রাখতে হবে।

অনিন্দ্য মামুন