জন্মদিনটা ছেলের সঙ্গেই কাটাব : ববিতা

  যুগান্তর ডেস্ক    ৩০ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকাই ছবির সোনালি দিনের নায়িকা ববিতা
ঢাকাই ছবির সোনালি দিনের নায়িকা ববিতা

ঢাকাই ছবির সোনালি দিনের নায়িকা ববিতা। পারিবারিক নাম ফরিদা আক্তার পপি। আড়াইশ’রও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। ১৯৭৬ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রবর্তনের পর টানা তিনবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার জেতেন।

এছাড়া ১৯৮৬ সালে আরেকবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী, ১৯৯৭ সালে শ্রেষ্ঠ প্রযোজক এবং ২০০৩ ও ২০১৩ সালে দু’বার শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রীর পুরস্কার লাভ করেন। সম্প্রতি ২০১৬ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আসরে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছে কিংবদন্তি এ অভিনেত্রী। আজ তার জন্মদিন।

এ মুহূর্তে তিনি অবস্থান করছেন কানাডায়। সেখানে একমাত্র ছেলের সঙ্গেই জন্মদিন পালন করছেন। দিনটি উদযাপন ও সমসাময়িক প্রসঙ্গ নিয়ে মুঠোফোনে কানাডা থেকে যুগান্তরের সঙ্গে তার কথোপকথনের কিয়দংশ আজকের ‘হ্যালো...’ বিভাগে তুলে ধরা হল

* যুগান্তর: আজকের দিনের পরিকল্পনা কী?

** ববিতা: তেমন কোনো পরিকল্পনাই নেই। কারণ আমার ইচ্ছা ছিল দেশেই সবার সঙ্গে জন্মদিনের সময়টা কাটানোর। কিন্তু গত দু’বছর ধরে জন্মদিনে আমার একমাত্র সন্তান অনিকের সঙ্গে থাকা হয় না। তাই এবার আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রেখেছিলাম জন্মদিনের সময়টা অন্তত ছেলের কাছে থাকব। আমি আছি টরেন্টোতে। আমার চাচাতো বোনেরা আছেন ওয়াটারলুতে। সেখান থেকে তাদের আসাটা অনেক কষ্টের। তাই আমার জন্মদিনকে ঘিরে অনিক যা করবে, তাতেই খুশি আমি।

* যুগান্তর: যখন চলচ্চিত্রে নিয়মিত কাজ করতেন তখন জন্মদিন নিশ্চয়ই বিরাট আয়োজনের মধ্যদিয়ে উদ্যাপন করতেন?

** ববিতা: জন্মদিনে নিজে উদ্যোগী হয়ে বিরাট আয়োজনের মধ্যদিয়ে কখনোই কিছু করিনি। তবে এটা সত্যি, যদি আমার জন্মদিন কোনো সিনেমার শুটিংয়ের সময় পড়ে যেত তখন সবাই মিলেই তা উদ্যাপন করত। সেটি আমি ভীষণ উপভোগ করতাম, নিঃসন্দেহে। কিন্তু এখন তো আর সেই সময় নেই। এখন জীবন থেকে একটি বছর চলে গেলেই যেন কেমন খারাপ লাগে।

* যুগান্তর: কানাডা থেকে আর কোথাও যাওয়ার ইচ্ছা আছে?

** ববিতা: এখান থেকে আমেরিকা যাব। সেখানে দুই ভাইয়ের সঙ্গে ১০-১২ দিন সময় কাটাব। আমি তো ‘ডিসট্রেস চিলড্রেন ইনফ্যান্ট ইন্টারন্যাশনাল’র শুভেচ্ছা দূত হিসেবেও কাজ করছি। তাই এ সময় অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও আমেরিকার বিভিন্নস্থানে দুঃস্থ অসহায় শিশুদের জন্য কাজ করারও পরিকল্পনা রয়েছে।

* যুগান্তর: কবে নাগাদ দেশে ফিরবেন?

** ববিতা: সব কাজ শেষ করে অক্টোবর মাসের শেষ নাগাদ দেশে ফেরার ইচ্ছা রয়েছে। বাকিটা আল্লাহ যখন রহম করেন।

* যুগান্তর: সম্প্রতি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৬-এ আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। এ প্রাপ্তিতে জীবনের পূর্ণতা কতটুকু বলে মনে করেন?

** ববিতা: এটা বিরাট এক অর্জন। আমার সোনার বাংলার কোটি কোটি দর্শকের ভালোবাসায় আমি আজকের ববিতাতে পরিণত হয়েছি। দর্শকের ভালোবাসায় আমি প্রতি মুহূর্তে সিক্ত হই। চলচ্চিত্রের প্রতি আমার অগাধ ভালোবাসা ছিল ছোটবেলা থেকেই। সারাজীবনে এ দেশের চলচ্চিত্রকে ভালোবেসে যতটুকু দিয়েছি, তার স্বীকৃতি পেয়েছি। মনে হচ্ছে জীবনে পূর্ণতার সুখ পেয়েছি। তাই আমার এই সম্মাননা বাংলাদেশের সব সিনেমাপ্রেমী দর্শককে উৎসর্গ করেছি।

* যুগান্তর: গেল জুন মাসে ভারত থেকেও ‘আজীবন সম্মাননা’ পেলেন। কেমন ছিল সেই অভিজ্ঞতা?

** ববিতা: সত্যি বলতে কী ভারত থেকে এর আগেও আমি সম্মাননা পেয়েছি। তবে সেটি বহু বছর আগের কথা। ভেবেছিলাম হয়তো সেখানকার দর্শক আমাকে ভুলেই গেছেন। কিন্তু না, তা হয়নি। বরং তারা আমাকে মনে রেখেছেন। তা নিজে উপস্থিত থেকে উপলব্ধি করেছি। সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তথা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গত জুন মাসে ‘টেলি-সিনে লাইফ টাইম অ্যাচিভম্যান্ট অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করি। এ জন্য সত্যিই আনন্দিত।

* যুগান্তর: আর কী চলচ্চিত্রে অভিনয় করবেন না?

** ববিতা: আমি শিল্পী, সিনেমাই আমাকে আজকের ববিতাতে পরিণত করেছে। তাই কেন অভিনয় করব না! অবশ্যই অভিনয় করব। কিন্তু তার আগে ছবির গল্প এবং চরিত্র আমার মনকে ছুঁয়ে যেতে হবে। কোনো গল্প কিংবা চরিত্র ভালো না লাগলে জোর করে তো আর অভিনয় করতে পারব না। য় এফ আই দীপু

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter