ভালো নাটকের জন্য গল্প ও বাজেটের বিকল্প নেই

  হাসান সাইদুল ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভালো নাটকের জন্য গল্প ও বাজেটের বিকল্প নেই
জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। নাটক, চলচ্চিত্রে বিচিত্র রকম চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকমনে জায়গা করে নিয়েছেন। গেল কোরবানি ঈদে তার অভিনীত বেশ কয়েকটি নাটক প্রশংসিত হয়েছে। বর্তমান ব্যস্ততা ও সমসাময়িক প্রসঙ্গ নিয়ে আজকের ‘হ্যালো...’ বিভাগে কথা বলেছেন তিনি

* যুগান্তর: ঈদের সময়গুলো কেমন কেটেছে?

** চঞ্চল চৌধুরী: ঈদের আগে টানা কাজ করার পর কয়েকদিন ছুটি পেলাম। বলা যায় অনেকটা বিশ্রামেই ছিলাম। ভালো কেটেছে দিনগুলো।

* যুগান্তর: এবারের ঈদের নাটক নিয়ে আপনার ধারণা কী?

** চঞ্চল চৌধুরী: বেশ কিছু ভালো নাটক হয়েছে। তবে ক্ষেত্রবিশেষে ভাঁড়ামিও ছিল। বিশেষ দিনগুলো এলে নির্মাতা-অভিনেতা-অভিনেত্রীরা একটু কম সময় পান। অস্থিরতা থাকে। সে জন্য হয়তো অনেক ক্ষেত্রে ইচ্ছা থাকলেও ভালো কাজ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। এর মধ্যেও ভালো নাটক হচ্ছে।

* যুগান্তর: ভালো নাটক না হওয়ার পেছনের কারণটা কী?

** চঞ্চল চৌধুরী: আসলে অনেক কারণই তো দেখানো যাবে। তা দেখিয়ে বা লাভ কী? আমরা কাকে দোষ দেব। একটা সময়, যখন আমরা শুরু করেছি তখন যারা নাটক নির্মাণ করতেন তা ছিল গল্পনির্ভর। ভালো গল্পকার ছিল, ভালো বাজেট ছিল, অনেক সময়ও ছিল। এখন বাজেট বড় একটা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কম বাজেটে ভালো নাটক আশা করা বোকামি। ভালো গল্পের তো বড়ই অভাব!

* যুগান্তর: গল্পের অভাব কেন হবে? আমাদের দেশেই তো ভালো নাটক হতো?

** চঞ্চল চৌধুরী: গল্পের অভাব অবশ্যই আছে এবং তার অনেকগুলো কারণও আছে। যিনি গল্প লিখেন তারও নির্দিষ্ট এবং ন্যূনতম একটা সম্মানী দেয়া উচিত। যা আমাদের দেশের গল্পকাররা পান না। যে কারণে তারা গল্পের ওপর মনোযোগ কম দেন।

বর্তমানে আরেকটা বিষয় লক্ষ্যণীয় যে, যিনি নাটক পরিচালনা করছেন তিনিও গল্পকার, চিত্রনাট্যকার হয়ে যাচ্ছেন। একজনই সব করছেন। যেখানে একজন সব করছেন সেখানে ভালো কেমন হবে দর্শক তা দেখছেন।

* যুগান্তর: তাহলে এ থেকে উত্তরণের উপায় কী?

** চঞ্চল চৌধুরী: উপায় একটাই, যার কাজ তাকে করতে হবে। যিনি যে কাজ করবেন তাকে যোগ্য সম্মানী দিতে হবে। একজন গল্পকার যখন তার উপযুক্ত সম্মানী পাবেন, তিনি খুশিতে আরও ভালো লিখতে উৎসাহী হবেন। এভাবে একটা নাটক বানাতে সব শ্রেণীর মানুষ যত্নবান হলে নাটক অবশ্যই ভালো হবে।

* যুগান্তর: একটি নাটকে অভিনয়ের শুরুতে কোন বিষয়টির ওপর বেশি নজর দেন?

** চঞ্চল চৌধুরী: প্রথমে দেখি গল্প এবং চরিত্র। তারপর সহশিল্পী নির্মাতা। এখন অনেকে আছেন যারা নামমাত্র নির্মাতা। তারা অনেক সময় ক্যামেরাম্যান কিংবা সহকারী নির্মাতানির্ভর। সিনেমায় অভিনয়ের ক্ষেত্রে পুরো টিমটা দেখি। তবে সেক্ষেত্রে অনেক তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। যাদের সঙ্গে আগে কাজের অভিজ্ঞতা আছে তাদেরটা আগে করা হয়।

* যুগান্তর: মঞ্চ, টিভি ও চলচ্চিত্র তিনটি জায়গায় কাজ করছেন। কোনটায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?

** চঞ্চল চৌধুরী: মঞ্চের জন্য আলাদা এক ধরনের দুর্বলতা আছে, ভালোলাগা আছে। কিন্তু আমি সবখানেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। এটা সত্য যে মঞ্চে সামনাসামনি দর্শকের সামনে অভিনয় করে তাদের রিঅ্যাকশন পাওয়া অন্যরকম ব্যাপার।

* যুগান্তর: অধিকাংশ দর্শক নাটক-চলচ্চিত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?

** চঞ্চল চৌধুরী: আমি এটা মনে করি না। তবে একটা সময় মৌলিক গল্প, বাংলাদেশের গল্প, এই মাটির গল্প, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমাদের দেশে ছবি তৈরি হতো। আমাদের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট, গ্রামবাংলাকে উপজীব্য করে সিনেমা হতো।

তখন অনেক মেধাবী পরিচালক ছিলেন, ভালো স্টোরি রাইটার ছিলেন। একটা সময় আমাদের সিনেমায় অনেক খরা গেছে। কারণ ছিল বিদেশি গল্পকে নকল করে নির্দিষ্ট এক ধরনের ফরমেটে কাজ। এখনও কিছু ক্ষেত্রে সেই ধারাবাহিকতা আছে।

* যুগান্তর: নতুনদের কি পরামর্শ দেবেন?

** চঞ্চল চৌধুরী: বেশিরভাগ কাজের ক্ষেত্রে আগ্রহ দেখাতে হবে। পাশাপাশি নিজেকে তৈরি করতে হবে। অভিনয়, গান, নাচ যেটাই করো না কেন শিখে, জেনে করো। কাজকে ভালোবাসো, তোমার কাজকে দর্শক ভালোবাসবেন।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.