মুখের স্বাস্থ্য রক্ষায় কিছু নিয়ম মানা জরুরি
jugantor
মুখের স্বাস্থ্য রক্ষায় কিছু নিয়ম মানা জরুরি

  অধ্যাপক ডা. মোস্তাক হাসান সাত্তার পিনু  

১৮ মার্চ ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত বছরের মার্চে আমরা লকডাউনে গিয়েছিলাম। করোনা মহামারির বছরজুড়ে অনেক চিকিৎসকই ঘরে বন্দি ছিলেন, আমি থাকিনি। ভেবেছি, রোগীরা হাহাকার করছে আর আমরা হাত গুটিয়ে বাসায় চলে গেলাম! যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সৈনিক চলে গেলে দেশের কী হবে? আমি গ্রামের ছেলে। বাবা ছিলেন স্কুলশিক্ষক, দাদা কৃষক। এ রকম একজনের কাছ থেকে দেশ কী আশা করতে পারে! তাই রোগী দেখা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

গত এক বছরে যা শিখেছি এর মধ্যে রয়েছে : যুক্তরাষ্ট্র তার শ্রেষ্ঠত্ব কিছুটা হলেও হারিয়েছে। চীন কোনো মিসাইল খরচ না করেও যেন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ জিতে গেল! ইউরোপীয়রা আসলে অতটা মেধাবী নয়, যতটা মনে হয়! ধনীর চেয়ে গরিবের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। এই গ্রহে মানুষই প্রকৃত ভাইরাস। একজন দামি খেলোয়াড়ের চেয়ে একজন স্বাস্থ্যকর্মী বেশি দরকারি। ব্যবহার না হলে, তেলের তেমন কোনো মূল্য নেই! চিড়িয়াখানার পশুপাখির অনুভূতি কেমন হয়। প্রকৃতি চাইলে খুব দ্রুত নিজেকে সাজিয়ে গুছিয়ে নিতে পারে, মানুষের সাহায্য ছাড়াই। অধিকাংশ চাকরি ঘরে বসে করা সম্ভব!

আরও শিখেছি : ছোট ছোট দোষীদের হয়তো জেলে রাখার দরকার নেই। স্বাস্থ্যসচেতন বা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নভাবে বাঁচা কঠিন কাজ নয়। পৃথিবীতে এখনো বহু ভালো মানুষ আছেন। গণমাধ্যম সব সত্য বলতে পারে না। শুধু পিরিতি দিয়ে পৃথিবী চলে না। ধর্মান্ধতা ধর্মেরই পরিপন্থী! বেঁচে থাকার জন্য আসলে তেমন বেশি কিছু দরকার নেই। নিজের পরিবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের বেশির ভাগ পরিশ্রম বিনা কারণে। মানুষের সামর্থ্য খুবই সীমিত। মরণঘাতী রোগ হলে সম্পদ আর ক্ষমতা কোনো কাজে আসে না! গোঁয়ার্তুমি করে উটপাখির মতো মুখ গুঁজে থাকলে বিজ্ঞান ভুল প্রমাণিত হয় না।

আর হ্যাঁ, দন্ত চিকিৎসার জন্য রোগীরা বিদেশে যান না বরং বিদেশ থেকে দেশে আসেন। এমনকি কিছু বিদেশিও নিয়মিত আমাদের কাছে আসেন চিকিৎসার জন্য।

মুখের স্বাস্থ্য রক্ষায় দিনে দুবার ব্রাশ, দুবার ফ্লস, দুবার মাউথওয়াশ দিয়ে কুলি করা জরুরি। বয়স্করা ইন্টারডেন্টাল ব্রাশ ব্যবহার করতে পারেন। বছরে কমপক্ষে দুবার চিকিৎসকের কাছে পরীক্ষা করানো জরুরি। চকলেট বা মিষ্টি খাবার পরিহার করা এবং ফলমূল ও শাকশবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। আঁকাবাঁকা দাঁতের জন্য হীনম্মন্যতায় না ভুগে আত্মবিশ্বাস বাড়ানো প্রয়োজন। প্রয়োজনে সুন্দর হাসির জন্য কসমেটিক ডেন্টাল চিকিৎসা অপরিহার্য।

হাতুড়ে চিকিৎসকরা কখনো উন্নতমানের চিকিৎসা দিতে পারেন না, সঠিক ওষুধ প্রয়োগ ও ব্যবহার জানেন না। এজন্য সচেতনতা প্রথম প্রয়োজন।

বাংলাদেশে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে মৃত ও আক্রান্তের হার দুটোই বেশি। তাই সবাইকে অনুরোধ টিকা দিন। টিকা দেওয়ার পরও নিয়মিত হাত ধোন, মাস্ক পরুন। সাবান পানি ও গেঞ্জির কাপড়ের মাস্ক দুটোই সমভাবে কার্যকরী।

লেখক : সাবেক অধ্যক্ষ, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা

মুখের স্বাস্থ্য রক্ষায় কিছু নিয়ম মানা জরুরি

 অধ্যাপক ডা. মোস্তাক হাসান সাত্তার পিনু 
১৮ মার্চ ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত বছরের মার্চে আমরা লকডাউনে গিয়েছিলাম। করোনা মহামারির বছরজুড়ে অনেক চিকিৎসকই ঘরে বন্দি ছিলেন, আমি থাকিনি। ভেবেছি, রোগীরা হাহাকার করছে আর আমরা হাত গুটিয়ে বাসায় চলে গেলাম! যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সৈনিক চলে গেলে দেশের কী হবে? আমি গ্রামের ছেলে। বাবা ছিলেন স্কুলশিক্ষক, দাদা কৃষক। এ রকম একজনের কাছ থেকে দেশ কী আশা করতে পারে! তাই রোগী দেখা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

গত এক বছরে যা শিখেছি এর মধ্যে রয়েছে : যুক্তরাষ্ট্র তার শ্রেষ্ঠত্ব কিছুটা হলেও হারিয়েছে। চীন কোনো মিসাইল খরচ না করেও যেন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ জিতে গেল! ইউরোপীয়রা আসলে অতটা মেধাবী নয়, যতটা মনে হয়! ধনীর চেয়ে গরিবের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। এই গ্রহে মানুষই প্রকৃত ভাইরাস। একজন দামি খেলোয়াড়ের চেয়ে একজন স্বাস্থ্যকর্মী বেশি দরকারি। ব্যবহার না হলে, তেলের তেমন কোনো মূল্য নেই! চিড়িয়াখানার পশুপাখির অনুভূতি কেমন হয়। প্রকৃতি চাইলে খুব দ্রুত নিজেকে সাজিয়ে গুছিয়ে নিতে পারে, মানুষের সাহায্য ছাড়াই। অধিকাংশ চাকরি ঘরে বসে করা সম্ভব!

আরও শিখেছি : ছোট ছোট দোষীদের হয়তো জেলে রাখার দরকার নেই। স্বাস্থ্যসচেতন বা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নভাবে বাঁচা কঠিন কাজ নয়। পৃথিবীতে এখনো বহু ভালো মানুষ আছেন। গণমাধ্যম সব সত্য বলতে পারে না। শুধু পিরিতি দিয়ে পৃথিবী চলে না। ধর্মান্ধতা ধর্মেরই পরিপন্থী! বেঁচে থাকার জন্য আসলে তেমন বেশি কিছু দরকার নেই। নিজের পরিবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের বেশির ভাগ পরিশ্রম বিনা কারণে। মানুষের সামর্থ্য খুবই সীমিত। মরণঘাতী রোগ হলে সম্পদ আর ক্ষমতা কোনো কাজে আসে না! গোঁয়ার্তুমি করে উটপাখির মতো মুখ গুঁজে থাকলে বিজ্ঞান ভুল প্রমাণিত হয় না।

আর হ্যাঁ, দন্ত চিকিৎসার জন্য রোগীরা বিদেশে যান না বরং বিদেশ থেকে দেশে আসেন। এমনকি কিছু বিদেশিও নিয়মিত আমাদের কাছে আসেন চিকিৎসার জন্য।

মুখের স্বাস্থ্য রক্ষায় দিনে দুবার ব্রাশ, দুবার ফ্লস, দুবার মাউথওয়াশ দিয়ে কুলি করা জরুরি। বয়স্করা ইন্টারডেন্টাল ব্রাশ ব্যবহার করতে পারেন। বছরে কমপক্ষে দুবার চিকিৎসকের কাছে পরীক্ষা করানো জরুরি। চকলেট বা মিষ্টি খাবার পরিহার করা এবং ফলমূল ও শাকশবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। আঁকাবাঁকা দাঁতের জন্য হীনম্মন্যতায় না ভুগে আত্মবিশ্বাস বাড়ানো প্রয়োজন। প্রয়োজনে সুন্দর হাসির জন্য কসমেটিক ডেন্টাল চিকিৎসা অপরিহার্য।

হাতুড়ে চিকিৎসকরা কখনো উন্নতমানের চিকিৎসা দিতে পারেন না, সঠিক ওষুধ প্রয়োগ ও ব্যবহার জানেন না। এজন্য সচেতনতা প্রথম প্রয়োজন।

বাংলাদেশে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে মৃত ও আক্রান্তের হার দুটোই বেশি। তাই সবাইকে অনুরোধ টিকা দিন। টিকা দেওয়ার পরও নিয়মিত হাত ধোন, মাস্ক পরুন। সাবান পানি ও গেঞ্জির কাপড়ের মাস্ক দুটোই সমভাবে কার্যকরী।

লেখক : সাবেক অধ্যক্ষ, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন