পুঠিয়ায় চিনি মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে খেজুর গুড়!

  পুঠিয়া প্রতিনিধি ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খেজুর গুড়

রাজশাহী অঞ্চলে খেজুরের গুড় উৎপাদনের জন্য পুঠিয়া উপজেলার নাম আসে সবার আগে। দীর্ঘদিন থেকে দেশ-বিদেশে পুঠিয়ায় উৎপাদিত খেজুর গুড়ের সুনাম রয়েছে। শীত মৌসুম শুরু হতে না হতেই কিছু অসাধু গুড় উৎপাদকারীরা বেশি লাভের আশায় খেজুরের গুড়ের সঙ্গে চিনি মিশিয়ে বাজারজাত করছে। এতে করে সাধারণ ক্রেতারা প্রতারণার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছেন।

জানা গেছে, খেজুর গুড়েরের সর্ববৃহৎ আড়ৎ হচ্ছে উপজেলার ঝলমলিয়া ও বানেশ্বর হাট। শীত মৌসুমের শুরুতেই এই দুটি হাটসহ পুরো উপজেলাজুড়ে প্রায় আড়াই শতাধিক আড়ত গড়ে উঠে। হাটের দিনসহ প্রতিদিন সকাল থেকে আড়তগুলোতে খেজুরের গুড় কেনাবেচা করা হয়। এ বছর শীত মৌসুম শুরু হতে না হতেই আড়তগুলোতে ভেজাল খেজুর গুড়ের আমদানি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয় গাছিয়ারা (রস আহরণকারী) সম্প্রতি খেজুরের গাছ রস আহরণের জন্য প্রস্তুত করছে। কোথাও কোথাও সবেমাত্র গাছ থেকে রস আহরণ শুরু হয়েছে। কিন্তু চলতি বছর মৌসুম শুরু না হতেই প্রায় এক মাস থেকে আড়তগুলোতে মাত্রাতিরিক্ত খেজুরের গুড় দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে প্রতি কেজি গুড় ৪৫ থেকে ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সোমবার সকালে ঝলমলিয়া বাজারে খেজুরের গুড় বিক্রি করতে আসা সাদেক আলী নামের একজন বিক্রেতা বলেন, শীত পুরোদমে শুরু না হওয়ায় এখন তেমন রস আসছে না।

ওই রসের গুড় তৈরি করতে কিছু চিনি মেশাতে হয়। তাহলে গুড়ের রং ও মান অনেক বেড়ে যায়। অপর বিক্রেতা মোতাহার আলী বলেন, এখন সামান্য শীতে কোনো বাজারেই ভালোমানের গুড় পাওয়া যাবে না। বেশিরভাগ গুড়ে শুধু চিনি মেশাতে হয়। কেউবা গত বছরের পুরনো ‘র’ বা লালি মেশায়। গুড়ের রং ভালো হলে বাহির থেকে আসা পাইকাররা অনেক বেশি দামে কিনতে আগ্রহী হয়। গুড়ের রং করতে কি কি মেশাতে হয় এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, চুন, ফিটকিরির পাশাপাশি একটু বেশি করে চিনি, সোডা ও হাইডোজ দিতে হয়। আড়তদার শরীফুল ইসলাম বলেন, হাটে আসা বেশিরভাগ খেজুরের গুড়ে মাত্রাতিরিক্ত চিনি মেশানো আছে।

যার কারণে এই অঞ্চলের খেজুর গুড়ের চাহিদা দিন দিন কমে যাচ্ছে। বিগত বছরের তুলনায় এবার শুরুর দিকেই গুড়ের দামও অনেক কম। এ ব্যাপারে ইউএনও আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, খেজুরের গুড়ে চিনি বা পুরনো ‘র’ মিশ্রণ গুড় বাজারজাত হচ্ছে কিনা সেটা দেখার জন্য অচিরেই বিভিন্ন হাটে অভিযান চালানো হবে। যদি কোনো অসাধু বিক্রেতা গুড়ে ভেজাল দেয়ার চেষ্টা করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×