দশমিনার তিন চরে ধান লুটের আতঙ্ক

  দশমিনা প্রতিনিধি ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ধান

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার আন্তঃজেলা সীমানা নিয়ে বিরোধপূর্ণ চরে আমন ধানে সোনা রং ধরার সঙ্গে সঙ্গে ভূমিদস্যুদের আনাগোনা শুরু হয়ে গেছে।

একটি স্বার্থান্বেষী মহল মৌসুমী লাঠিয়ালদের সহায়তায় পেশিশক্তি প্রয়োগ করে দরিদ্র প্রান্তিক চাষীদের ধান লুটে নেয়। ভূমিদস্যুদের আনাগোনা দেখে আতঙ্কে পড়েছে দশমিনার তিন চরের প্রায় ১০ হাজার কৃষক। কৃষকরা চাষকৃত ক্ষেতের ধান ঘরে তোলা নিয়ে উদ্বেগ আর আতঙ্কে দিন অতিবাহিত করেছেন।

আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘ সূত্রিতার পাশাপাশি ভূমিদস্যুদের উসকানির কারণে প্রায় ৭৬ বছরের এ বিরোধ মীমাংসা হয়নি। সরেজমিন দেখা যায়, পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলার দক্ষিণ পূর্বে অবস্থিত ৭নং চরবোরহান ইউনিয়ন। তেঁতুলিয়া নদীর ঠিক মাঝখানে অবস্থিত এ চরের সঙ্গে ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার মুজিবনগর ইউনিয়নের চর মোতাহার মৌজার সীমানা বিরোধ লেগে আছে যুগ যুগ ধরে।

উপজেলা সদর দশমিনা ইউনিয়নের চরহাদি মৌজার সঙ্গে লালমোহন উপজেলার চর কচুখালী সীমানা বিরোধ রয়েছে। একই চরের দুই নামে পরিচিত। পূর্ব প্রান্ত চর কচুয়াখালী পশ্চিম প্রান্ত চরহাদি। ওইসব চরের ভুক্তভোগীরা স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, সিএস ম্যাপে গুরুত্ব না দিয়ে ভোলার ভূমিদস্যুরা আরএস ম্যাপ ও বুড়াগৌরাঙ্গ দোনের অবস্থিত অনুসারে দাবি করে আসছে। অথচ কাগজপত্রে দোন বলতে কিছু নেই।

৭নং চরবোরহান ইউপি চেয়ারম্যান নজির সরদার স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, ১৯৪০-৪২ সালে তৈরি আরএস ম্যাপের লাইন অনুসারে আন্তঃজেলা সীমানা নির্ধারণ করতে হবে। কিন্তু চর ফ্যাশনের ভূমিদস্যুরা ভূমি মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের মোটা অংকের অর্থ বিনিময় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেন। যাতে দশমিনার চরশাহজালালের বিশাল অংশ দাবি করে আসছে ৩০/৩৬ বছর ধরে। অথচ এ দাবি প্রায় শত বছরের আগের সিএস ম্যাপের পরিপন্থী।

চরবোরহান ও চরশাহজালালের শত শত পরিবার বিভিন্ন সময়ে বন্দোবস্ত নিয়ে বসবাস করে আসছে। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের ধান পাকলে প্রতি বছর ভোলার ভূমিদস্যুরা মৌসুমি লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে ধান লুট করে নিয়ে যায় ও বাসা-বাড়িতে হামলা ভাংচুর এবং অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটায়। বর্ষা মৌসুমে কৃষকদের উৎখাতের জন্য হালের বলদ ও মহিষ চুরি করে নিয়ে যায়। ইতিমধ্যে চরে ভূমিদস্যুদের আনাগোনা শুরু হয়ে গেছে।

এদিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের চরহাদির সঙ্গে লালমোহন উপজেলার চরকচুয়াখালীর সীমানা বিরোধ দীর্ঘদিনের। সীমানা বিরোধ ২০০০ সালের লালমোহন ভূমিদস্যুরা দশমিনা চরহাদি অংশের আমন ধান লুট করে নেয়ার সময় ভূমিহীন কৃষক নজির দেওয়ান বাধা দেয়ায় খুন হন।

ওই সময় দুই জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে সমঝোতা বৈঠকে ৫০ একর জমির মধ্যে ভোলার চর কচুাখালীর ৩০ একর ও দশমিনার চরহাদির অংশ ২০ একর জমি পৃথক ভোগ দখলে থাকবে ডিআরএস জড়িপ না হওয়া পর্যন্ত। ওই সমঝোতার দুই জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষর রয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর শান্তিপূর্ণভাবে থাকলেও চলতি বছরে চরহাদির ৫/৭ একর জমি অবৈধভাবে দখল করে চরকচুয়াখালীর লোকজন আশ্রায়ণ প্রকল্প নির্মাণ করেছে।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আমন ধান লুটের অপচেষ্টা। চরহাদির কৃষক সোহেল, আলাউদ্দিন, মহাম্মদ আমিনও বশার বলেন, ভোলার ভূমিদস্যুরা মৌসুমি লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে সীমান্তে আনাগোনা শুরু করেছেন। দশমিনা থানা ওসি রতন কৃষ্ণ রায় চৌধুরী বলেন, শিগগির অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×