চট্টগ্রামে জামিন পেলেও মুক্তি মিলছে না নেতাকর্মীদের

১৪০ মামলার তালিকা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে দিল বিএনপি

  চট্টগ্রাম ব্যুরো ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতারা ১৪০টি মামলার তালিকা জেলা নির্বাচনী কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়েছেন। রোববার সকালে শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় নেতা এএম নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল এসব মামলার কাগজপত্র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুনীর হোসাইন খানের কাছে জমা দেন। নগর বিএনপির পক্ষ থেকে প্রস্তুত করা তালিকা অনুযায়ী, নগরীর ১৫টি থানায় ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ১৪০টি মামলার এজাহারের কপিও জমা দেন। এসব মামলায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের চার হাজারের মতো নেতাকর্মী আসামি রয়েছেন। বিএনপি নেতারা জানান, পতেঙ্গা থানায় সবচেয়ে বেশি ১৬টি মামলা দায়ের হয়েছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। ইপিজেড থানায় ১৫টি ও চান্দগাঁও থানায় হয়েছে ১৩টি মামলা। এছাড়া বন্দর থানায় ১২, কোতোয়ালি থানায় ১১, খুলশী থানায় ৯, পাহাড়তলী থানায় ৯, হালিশহর থানায় ৫, আকবর শাহ থানায় ৫, সদরঘাটে ৯, চকবাজারে ৫, বাকলিয়ায় ১০, পাঁচলাইশে ৭, বায়েজিদে ১০ ও ডবলমুরিং থানায় ৪টি মামলা দায়ের করা হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। এসব মামলায় আসামি হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর, বিএনপি নেতা অধ্যাপক কুতুব উদ্দিন, বিএনপি নেতা মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী প্রমুখ। এছাড়াও এসব মামলায় নগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এসএম সাইফুল আলমসহ থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা রয়েছেন বলে জানান নগর বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী। মামলার কাগজপত্রের পাশাপাশি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে একটি আবেদনও জমা দেয়া হয়। ওই আবেদনে বলা হয়, বিএনপি নেতাকর্মীদের অনেকে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরও কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না। যাচাই-বাছাইয়ের নামে তাদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে একটি উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট দলীয় নেতাকর্মী ও দেশের মানুষকে উজ্জীবিত করার কাজ করছে। এই অবস্থায় পুলিশের গায়েবি মামলা ও গ্রেফতারের ঘটনা নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

বিএনপি সূত্র জানায়, মহানগর যুবদল নেতা জমির উদ্দিন মানিক ও জাহাঙ্গীর আলম বাবলু হাইকোর্ট থেকে জামিনে থাকার পরও গত ১৪ নভেম্বর চান্দগাঁও থানার পুলিশ তাদের আটক করে অন্য দুটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ ছাত্রদল নেতা সাইফুদ্দিন কামরান ও মো. নাজিম উদ্দিন সদরঘাট থানার মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে বের হওয়ার সময় গত ৬ নভেম্বর কোতোয়ালি থানা পুলিশ জেল গেট থেকে পুনরায় আটক করে। তাদের অন্য মামলায় জেল-হাজতে পাঠানো হয়। অথচ আগামী ২৮ নভেম্বর কমার্স কলেজে তাদের অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা দেয়ার কথা রয়েছে। এ গ্রেফতারের ফলে তাদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নগর বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী জানান, ‘তফসিল ঘোষণার পর নেতাকর্মীদের গ্রেফতারে নতুন পদ্ধতি দেখা যাচ্ছে। হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে এলেও গ্রেফতার করে অন্য মামলায় ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে নেতাকর্মীদের। তাছাড়া জামিন পাওয়ার পর জেল গেটে বসিয়ে রেখে আবার অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে। তাই এর প্রতিকার চেয়ে নগর বিএনপির পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×