বরগুনায় বিষখালী নদীতীরের মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়

  বরগুনা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বরগুনার বিষখালী নদীর দুই তীরজুড়ে প্রায় তিন যুগ ধরে চলছে অব্যাহত নদী ভাঙন। সেই ভাঙনকবলিত স্থানগুলো থেকে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রকাশ্যে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে ট্রলারে করে ইটভাটায় নিয়ে যাচ্ছে মাটি খেকোর দল। এরা নির্বিঘ্নে নদীর পাড়ের মাটি কেটে নেয়ার ফলে নদী ভাঙন আরও তীব্র হয়ে উঠছে। এদিকে নদী তীরের মাটি কেটে নেয়ায় হুমকির মুখে রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো।

জানা গেছে, বামনার বিষখালী নদীর তীরবর্তী অন্তত ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়েই চলছে একদিকে ভাঙন অন্যদিকে ভেকু মেশিন ও মাটিকাটা শ্রমিকদের দলবেঁধে মাটি কাটার মহোৎসব। এই মাটি কেটে নিচ্ছে ইটভাটা মালিক চক্র। এই চক্র কখনও দিনের আলোয় আবার কখনও রাতের আঁধারে চালায় নদী তীরের মাটি কেটে নেয়ার কাজ। তবুও প্রশাসন যেন নির্বিকার। বামনা প্রায় ১২টি ইটভাটা রয়েছে। অধিকাংশ ইটভাটার লাইসেন্স নেই। এই ইটভাটাগুলোর ইট তৈরিতে প্রতিদিন কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে হাজার হাজার ঘনফুট মাটি। আর এই মাটির সবটুকুই জোগান দিচ্ছে বিষখালী নদী তীরের কাদামাটি। প্রতিদিন রাত শেষ হতে না হতেই বিষখালীর দুই তীরজুড়ে চোখে পড়ে সারি সারি ট্রলার আর শতাধিক মাটি কাটার শ্রমিক। দ্রুত ও বেশি মাটি কাটার জন্য এই ভাটা মালিকরা ব্যবহার করে মাটি কাটার ভেকু মেশিন। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, বামনা উপজেলার চেঁচান, খোলপটুয়া, রামনা, দক্ষিণ রামনা ও চলাভাঙ্গার বিভিন্ন এলাকাসহ নদী তীরবর্তী প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিষখালী নদীর তীব্র ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এতে অন্তত ১২টি গ্রামের আবাদি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এমন বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্যে ইটভাটা মালিকরা শ্রমিকদের কাজে লাগিয়ে নদী তীরের মাটি কেটে নিচ্ছে। ট্রলার থামিয়ে একদল শ্রমিক ভাঙনকবলিত এলাকার মাটি নির্বিঘ্নে কেটে ট্রলারে ভরে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। নদী তীরের মাটি কেনা-বেচায় এখানে গড়ে উঠছে একটি বিরাট দালাল চক্র। এই চক্র নদী তীরের মাটি ইটভাটা মালিকদের কাছে বিক্রি করে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা। এর পর ভাটা মালিকরা তাদের ইচ্ছেমতো নদী তীর থেকে শুরু করে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পর্যন্ত কেটে নেয় মাটি। উপজেলার চলাভাংগা এলাকায় দেখা গেছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কোলঘেঁষে তারা মাটি কেটে নিয়েছে।

বরগুনা জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা মো. আবু হানিফ বলেন, নদীর তীরের মাটি কাটা অবৈধ। মাটি কেটে নেয়ার বিষয়ে কেউ এর আগে জানায়নি। সরেজমিন মাটি খেকোদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলী হরি বলেন, নদী তীরের মাটি কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ। আমি এ উপজেলায় নতুন। এই মাটি কাটার বিষয়ে এখনই আপনার কাছ থেকে শুনলাম। আমি এ অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধের জন্য আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×