রংপুর

সংসদে বঞ্চিতরা ঝুঁকছেন উপজেলায়

  মাহবুব রহমান, রংপুর ব্যুরো ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সারা দেশের মতো রংপুরেও বইতে শুরু করেছে উপজেলা নির্বাচনের হাওয়া। এই নির্বাচনী হাওয়ায় যোগ হয়েছে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিতরা। মনোনয়ন দৌড়ে সংসদ সদস্য প্রার্থিতা থেকে বঞ্চিত হলেও এবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নের জন্য ছুটতে শুরু করেছেন।

প্রার্থী ও দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবার প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে ভোট হবে। এর আগে উপজেলা পরিষদ সবগুলো নির্বাচনই নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হয়েছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে অনেক উপজেলার চেয়ারম্যন অংশগ্রহণ করতে চাইলেও দলীয় মনোনয়ন পাবেন না বলে দলের শীর্ষপর্যায় থেকেও সাফ জানিয়ে দেয়া হয়েছিল। চেয়ারম্যানরা স্বপদে থেকে সংসদ নির্বাচন করতে পারবেন না বলে আদেশ দেন উচ্চ আদালতও। তার পরেও অনেক উপজেলা চেয়ারম্যানই দলীয় মনোনয়ন ফরম কেনার পরেও দলীয় মনোনয়ন পাননি। তাই সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে বঞ্চিতরা এবার ঝুঁকছেন উপজেলা নির্বাচনে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর সদর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কেনেন রংপুর জেলা আওয়ামী যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিমা জামান ববি। তিনি বর্তমানে রংপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান। মহাজোটগত কারণে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচনের মনোনয়ন না পেয়ে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, আমি আওয়ামী লীগের একজন কর্মী। তাই দলের নেত্রীর নির্দেশ ও দলীয় শৃঙ্খলার প্রতি অনুগত হয়ে আমি সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াই। তবে এবার উপজেলা পরিষদে প্রার্থীর জন্য দলের মনোনয়ন চাইব। এবার যদি দলের মনোনয়ন পাই ও নির্বাচিত হই তাহলে প্রথমে আমি আমার উপজেলাকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত এলাকা হিসেবে মডেল উপজেলায় পরিণত করব। সব কিছু নির্ভর করবে দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের ওপর।

সংসদ সদস্য পদে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া গঙ্গাচড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলু উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ফের লড়তে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, কেউ কেউ দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের ভুল তথ্য দিয়ে আমাকে সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করেছে। এবার আমি যদি দলের মনোনয়ন পাই নির্বাচিত হলে চেয়ারম্যান হিসেবে আমি এলাকার সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে শতভাগ মাদকমুক্ত এলাকা গড়ে তোলা কাজ করব। গঙ্গাচড়া যেমন শান্তির উপজেলা সেই শান্তি যেন বজায় থাকে তাই সন্ত্রাসী কোনো কর্মকাণ্ড যেন না হয় সেজন্য কাজ করব।

রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কেনেন জাকির হোসেন সরকার। তিনি মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তবে তাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়নি। এখন তিনি আবারও উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি মনে করেন, তাকে প্রার্থী করলে তিনি নির্বাচিত হবেন। কারণ তিনি এখানে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে দলের একজন কর্মী হিসেব কাজ করেন।

অন্যদিকে, রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মায়া, তারাগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান লিটন, পীরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা নুর মোহাম্মদ মণ্ডল, পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আফসার আলী, গঙ্গাচড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াহেদুজ্জামান মাবু, জেলা বিএনপি যুগ্ম সম্পাদক মোকাররম হোসেন সংসদ নির্বাচনে তাদের নিজ নিজ দলের মনোনয়ন পাননি। এখন তারা উপজেলা নির্বাচনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। এ সব নেতা জানিয়েছেন, উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলের মনোনয়ন পেলে তারা নির্বাচিত হবেন বলে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাশা করেন। নির্বাচিত হলে এলাকায় দলের স্বার্থে সাধারণ মানুষের জন্য সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সততার সাথে চালিয়ে যাবেন। নিজ নিজ এলাকা মাদক-সন্ত্রাসমুক্ত এলাকা ঘোষণা করবেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×