ট্রেনে কাটা পড়েছে জবি ছাত্রীর দুই পা

চোখে অন্ধকার দেখছেন রুবিনা

  এসএ মাহমুদ সেলিম, পঞ্চগড় ২৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রুবিনা

স্বপ্ন ছিল তার বিসিএস দেয়ার। সে মতই লেখাপড়ার পাশাপাশি বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন রুবিনা। নিজের লেখাপড়ার খরচ চালানোর পাশাপাশি টিউশনি করতেন তিনি।

একই সঙ্গে বৃত্তির প্রাপ্ত টাকায় ছোট ভাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার খরচ চালানোসহ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বোনের চিকিৎসার খরচ চালাতেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্রী রুবিনা আক্তার। রুবিনার বাড়ি পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার দন্ডপাল ইউনিয়নের শান্তিনগর গ্রামের জংলীপাড়ায়।

এদিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে ঢাকা থেকে বাড়িতে মায়ের কাছে ফেরার দিনে গত বছরের ২৮ জানুয়ারি কমলাপুর রেলস্টেশনে মাথা ঘুরে পড়ে যান রুবিনা। এ সময় ওই লাইন দিয়ে ট্রেনের একটি ইঞ্জিন ঘোরানোর সময় রেল লাইনে কাটা পড়ে রুবিনার দুটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে সেখানে উপস্থিত কয়েকজনের সাহায্যে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেয়ার পর ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান রুবিনা।

এরপর সহপাঠীও কিছু মানুষের সহযোগিতায় তার চিকিৎসা চলে। তৎকালীন রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হকও রুবিনার চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা করেন এবং তার পুনর্বাসনের দায়িত্ব নেন। এরপর সাবেক রেলমন্ত্রী রেলওয়েতে তার চাকরির জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও আবেদনও নেন। একই সঙ্গে পঞ্চগড়-২ আসনের ও বর্তমান রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন ব্যক্তিগতভাবে সহায়তা ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ১ লাখ টাকার অনুদান নিয়ে দেন। তবে চাকরি এখনও হয়নি।

এদিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে রুবিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও তার দু’পা চিরতরে হারান। আর এর মধ্য দিয়ে হারিয়ে যায় তার জীবনের সব স্বপ্ন আশা-আকাক্সক্ষা। তাইতো এখন নিজের কাছেই তার নিজেকে অপ্রয়োজন মনে হয়। বিপন্ন জীবন নিয়ে তার বেঁচে থাকাই যেন তার কাছে অনর্থক মনে হয়। সারাক্ষণ বিছানায় শুয়ে শুয়ে কেবল বোবা কান্না ও চোখের জলে অনাগত ভবিষ্যতের পানে চেয়ে থাকাই যেন এখন তার একমাত্র নিয়তি।

এদিকে দরিদ্র এই মেধাবী শিক্ষার্থী তার দুটি পা হারানোয় তার নিজ গ্রাম শান্তিনগরের মানুষ হতবাক হয়েছে। মেয়ের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় দুশ্চিন্তায় রুবিনার মা-ভাই ও স্বজনরা। বর্তমানে রুবিনার অন্যতম সমস্যা হচ্ছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাকে হাঁটা চলার জন্য যে দুটো কৃত্রিম পা দেয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত ভারী হওয়ায় সেটা তিনি ব্যবহার করতে পারছে না। তাই সহজে ব্যবহারের জন্য তার নতুন এক জোড়া কৃত্রিম পা প্রয়োজন।

সরেজমিন রুবিনার গ্রামের বাড়ি দেবীগঞ্জ উপজেলার দণ্ডপাল ইউনিয়নের শান্তিনগর জংলীপাড়ায় তার শারীরিক অবস্থা জানতে গেলে তিনি জানান, তার বাবা রবিউল ইসলাম বছর আগেই মারা গেছেন। তারপর থেকে তার মা খুব কষ্ট করে অন্যের বাড়িতে কাজ করে জোড়াতালি দিয়ে কোনোমতে সংসার চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সহায়-সম্পদ বলতে বাড়ি-ভিটেসহ পৌনে দুই বিঘা জমিই সম্বল। ভাই বোনদের মধ্যে রুবিনা মেজ। রুবিনার বড় বোন জুলেখা মানসিকভাবে অসুস্থ আর ছোট ভাই রুবেল ইসলাম রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ১ম বর্ষে লেখাপড়া করছে।

এদিকে, সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে রুবিনার এখন একটাই চাওয়া সে কারো বোঝা হয়ে থাকতে চায় না, চায় না কারও করুনায় বাঁচতে। তাই তার শিক্ষা ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে তার একটি সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করার দাবি তার। যাতে সে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। দেশের সেবা করতে পারে। এ জন্য রুবিনা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ও রেলপথ মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×