বাঘা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

চিকিৎসক সংকটে সেবা ব্যাহত

  বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহী বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৭ পদের মধ্যে কাগজে-কলমে রয়েছেন ১০ জন ডাক্তার। বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ৬ জন। এছাড়া এখানে অপারেশনের জন্য সব যন্ত্রপাতি আছে। কিন্তু ডাক্তারের অভাবে তা করা হয় না। ফলে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন রোগীরা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ২৭ জন ডাক্তারের মধ্য ২১টি পদ শূন্য রয়েছে। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর ৯২টি পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ৬২ জন। শূন্য রয়েছে ৩০ জন। যেসব পদ শূন্য রয়েছে তাদের মধ্য, জুনিয়র কনসালটেন্ট মেডিসিন, জুনিয়ন কনসালটেন্ট অ্যানেসথেসিয়া, মেডিকেল অফিসার, সহকারী সার্জন চারজন, জুনিয়ন কনসালটেন্ট শিশু, অর্থো., কার্ডিও., চক্ষু, ইএনটি, যৌন ও চর্ম, সহকারী সার্জন, আএমও, ইএমও, প্যাথলজিস, মেডিকেল অফিসার ইউনানী, আয়ুর্বেদিক, হোমিওপ্যাথিক পদ শূন্য। বিভিন্ন ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৫ জন মেডিকেল অফিসার ও সহকারী সার্জন পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, সিনিয়র স্টাফ নার্স দু’জন, প্রধান সহকারী, কার্ডিওগ্রাফার, কমপাউন্ডার, ল্যাব এডেনডেন্ট, ওটি বয়, ইমারজেন্সি এডেনডেন্ট, অফিস সহকারী কাম অপারেটর দু’জন, ভাণ্ডার রক্ষক, স্বাস্থ্য সহকারী আটজন, কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার দু’জন, এমএলএসএস, আয়া, সুইপারসহ পদ শূন্য রয়েছে। অপারেশনের যন্ত্রপাতি বাক্সবন্দি থাকলেও ডাক্তারের অভাবে ছোট হোক আর বড় হোক কোনো অপারেশন হয় না। রোগীদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয়। সেখানে অবস্থার বেগতিক বা ডাক্তার না থাকায় বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হয় রোগীদের। তেল সরবরাহ না থাকায় জেনারেটর চালানো হচ্ছে না। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগীদের অন্ধকারে থাকতে হয়। একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটিও অচল রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও সঞ্জয় কুমার পাল বলেন, প্রতিদিন যে হারে রোগী আসছে, আমরা মাত্র কয়েকজন ডাক্তার রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছি। আমরা ছুটির দিনেও সেবা দিয়ে আসছি।

এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাগজে-কলমে ১০ জন ডাক্তারের মধ্যে কর্মরত রয়েছে টিএইচএ ডাক্তার সিরাজুল ইসলাম, আরএমও ডাক্তার সঞ্জয় কুমার পাল, ডাক্তার আক্তারুজ্জামান, ডাক্তার শাওন, ডাক্তার কাফি, ডাক্তার রুকসানা। অন্যরা ডিপার্টমেন্টাল পরীক্ষার জন্য ঢাকায় ও অসুস্থতার কারণে বাইরে রয়েছেন। এখানে ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হলেও প্রভাব খাটিয়ে তারা অন্যত্র বদলি হয়ে চলে যান। ফলে বিড়ম্বনা ও হয়রানির শিকার হতে হয় রোগীদের। মাঝে-মধ্যে দু-একজন ডাক্তারকে এখানে পোস্টিং দেয়া হয়। কিন্তু তারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারে থাকে না। এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক কোয়ার্টারে বহিরাগতরা থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দু-একজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী রয়েছেন।

বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে ৩১ শয্যার লোকবল দিয়ে ৫০ শয্যায় চালাতে হয়। মাঝেমধ্যে বিশেষ কারণবশত দু-একজন ডাক্তার না এলে নিরুপায় হয়ে কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে স্বাস্থ্য সহকারীদের নিয়ে আসা হয় চিকিৎসা কার্যক্রম চালাতে। তবে ডাক্তার সংকটের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার অবহিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×