রায়পুরে নদী দখল করে আ’লীগ নেতাদের মাছ চাষ

  রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি ১০ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মাছ চাষ

ডাকাতিয়া নদীর রায়পুর পৌরসভাসহ উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী, উত্তর চরবংশী, উত্তর চরআবাবিল, দক্ষিণ চরআবাবিল, ইউনিয়ন অংশে প্রায় ২০০ একর এলাকা দখল করে নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলের ১৫ প্রভাবশালী নেতা।

সম্প্রতি উচ্চ আদালত সারা দেশে নদী ও জলাশয় দখলমুক্ত করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়। কয়েকটি জায়গায় প্রশাসন অভিযান চালিয়ে দখলমুক্ত করলেও রায়পুরে অভিযান শুরু হয়নি। ‘দখল দূষণমুক্ত প্রবাহমান ডাকাতিয়া নদী, বাঁচবে প্রাণ-বাঁচবে প্রকৃতি’ এ স্লোগানে ডাকাতিয়া নদী ও জলাশয়গুলো দখলমুক্ত করে রায়পুর থেকে হাজীমারা পর্যন্ত নৌ-পথ চালুর দাবিতে শনিবার বিকাল ৩টায় স্থানীয় ডাকাতিয়া সুরক্ষা আন্দোলন কমিটির উদ্যোগে বর্ণাঢ্য মানববন্ধনের আয়োজন হয়েছে।

এভাবে নদী ও খালগুলো দিন দিন দখল হতে থাকলে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটতে পারে, এমনটি মনে করছেন এলাকাবাসী। দখলদারদের কবল থেকে নদী ও খালগুলো দখলমুক্ত করে সংস্কারের মধ্য দিয়ে অস্তিত্ব ফিরিয়ে আনার দাবি করছেন স্থানীয়রা। ডাকাতিয়া নদী দখলে অভিযুক্তরা হলেন- পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রফিকুল হায়দর বাবুল পাঠান, দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের মোল্লারহাট এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান মোল্লা, মোহাম্মদ আলী মোল্লা, জাহাঙ্গীর হোসেন মোল্লা, মান্নান সরকার, দক্ষিণ চরআবাবিল ইউনিয়নের হায়দরগঞ্জ এলাকার বাবুল বেপারি, নাছির মেম্বার, মাঈন উদ্দিন মোল্লা, শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক মানিক সরদার, আলী গোমস্তা ও হেলাল প্রমুখ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আওতাধীন এ নদীটি গত ১৫ বছর ধরে দখল করে রেখেছেন তারা।

মাছ চাষের নামে তারা সেখানে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে স্বাভাবিক পানি প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে চলেছেন। দখল প্রতিরোধে পাউবোর কর্মকর্তাদের কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা চোখে পড়ছে না। বরং তারা নিয়মিত দখলকারীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এছাড়া কতিপয় ব্যক্তিকে ম্যানেজ করে পাউবোর শতাধিক জমিতে অবৈধভাবে তোলা হয়েছে দেড়-শতাধিক দোকানঘর। ওই জায়গা ইজারার নামে একটি চক্র ইতিমধ্যে লাখ লাখ টাকাও হাতিয়ে নিয়েছে। পরিত্যক্ত ভবনগুলোতে দিন-রাত চলছে মদ-গাঁজা সেবনসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড। রায়পুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রফিকুল হায়দর বাবুল পাঠান বলেন, পৌরসভা থেকে অনুমতি নিয়ে আমরা ৪৫ জন ব্যবসায়ী প্রতি তিন বছর পর পর শহরের বাঁধ থেকে মহিলা কলেজ পর্যন্ত নদীতে মাছ চাষ করছি। অন্য অংশ জেলা মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মোস্তফা বেপারির কাছ থেকে নিয়ে কয়েকজন মাছ চাষ করছেন। চরআবাবিল ইউপি সদস্য শাহজাহান মোল্লা ও শ্রমিক লীগ নেতা মানিক সরদারসহ অন্য দখলদাররা বলেন, পূর্বে আমরা লিজ নিয়ে ডাকাতিয়া নদীতে মাছ চাষ করেছি।

তবে পাউবো চাইলে দখল ছেড়ে দেয়া হবে।উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিল্পী রাণী রায় বলেন, নদীতে মাছ চাষের বিষয়ে কোনো কাগজপত্র পাইনি। নদী দখলমুক্ত করতে একটি অভিযোগ পেয়েছি। সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, মাসিক সমন্বয় সভায় দখলমুক্ত ও কচুরিপানা অপসারণ বিষয়টি একাধিকবার তুলেছি। বর্জ্য ও কচুরিপানা অপসারণে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×