খুলনা নার্সিং কলেজ

সীমানা জটিলতায় আটকে গেছে নির্মাণ কাজ

  আহমদ মুসা রঞ্জু, খুলনা ব্যুরো ১৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দীর্ঘ ১০ বছর পর কাজ শুরু হলেও সীমানা জটিলতায় আটকে গেছে খুলনা নার্সিং কলেজ নির্মাণ কাজ। ফলে এ সেশনেও শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে পারছে না কলেজ কর্তৃপক্ষ। কবে নাগাদ কাজ শুরু করা যাবে তাও বলতে পারেননি স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের (এইচইডি) আওতাধীন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ১২ একর জমিতে ২০০৭ সালে শুরু হয়েছিল খুলনা নার্সিং কলেজ ও ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির নির্মাণ কাজ। যেটি মাত্র দু’বছরের মাথায় বন্ধ করে দিয়ে তৎকালীন ঠিকাদার আত্মগোপন করেন। এরপর থেকে নার্সিং কলেজ ও আইএইচটি’র নির্মাণ কাজ থমকে গেলেও সম্প্রতি আবারও শুধুমাত্র নার্সিং কলেজের অসমাপ্ত কাজ শুরু হয়। বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র নির্মাণ শেষ হয়েছে। চলছে সীমানা প্রাচীরের নির্মাণ কাজ। আসবাবপত্রও ইতোমধ্যে সরবরাহ হয়েছে। সীমানা প্রাচীরের জন্য এক কোটি ৮৮ লাখ টাকার টেন্ডার দিয়ে গত বছর ৬ নভেম্বর চুক্তির মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করেছে মাহবুব ব্রাদার্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যেটি এক বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। সম্প্রতি স্থানীয় একটি মহল কলেজের মেইন গেট এবং পেছনের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে বাধা দিচ্ছে। এ বিষয়টি জানিয়ে গত মাসে নার্সিং কলেজের পক্ষ থেকে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ খালেদা বেগম। ওই অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিয়োগকৃত সার্ভেয়ার কর্তৃক নার্সিং কলেজের সীমানা নির্ধারণের পর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ৪ ডিসেম্বর ’১৮ হতে সীমানা প্রাচীর, বালু ভরাট, রাস্তা নির্মাণসহ মেইন গেট নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ইতোমধ্যে পশ্চিম পাশের সীমানা প্রাচীরের নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের পথে। তবে কিছু ব্যক্তির বাধার কারণে তা আর করা সম্ভব হচ্ছে না। নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ খালেদা বেগম বলেন, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ শেষ হলেই আগামী জুন মাসের পর থেকে ছাত্রছাত্রী ভর্তি শুরু করা যেত। কিন্তু এটি না হলে আরও এক বছর পিছিয়ে পড়তে হবে। কলেজে বর্তমানে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে তিনি অধ্যক্ষ হিসেবে রয়েছেন। এছাড়া রয়েছেন ১২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। তবে চারজন প্রদর্শক এবং একজন প্রভাষক পদায়ন থাকলেও তাদের অন্যত্র প্রেষনে ও সংযুক্তিতে রাখা হয়েছে। তবে শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেই শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে এর কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া হবে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নার্সিং কলেজের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ সম্পর্কিত বাধার বিষয়ে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, যে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প এগিয়ে নিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ছাড় দেয়ার মানসিকতা থাকা উচিত। কিন্তু তা না করে বরং এ ধরনের একটি উন্নয়ন প্রকল্প বাধাগ্রস্ত করা খুলনার উন্নয়নের অন্তরায়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শেখ শামসুদ্দিন আহম্মেদ প্রিন্স বলেন, নার্সিং কলেজের জন্য নির্ধারিত জায়গা চিহ্নিত করেই সীমানা প্রাচীরের কাজ শুরু হয়। কিন্তু স্থানীয় কিছু লোক এতে বাধা দেয়ায় কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন
--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×