‘ইলা ভোট আমরার জীবনেও দেখছি না’

কুলাউড়ায় ভোট নিয়ে চরম হতাশা

প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আজিজুল ইসলাম, কুলাউড়া

দ্বিতীয় দফা অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষেদ নির্বাচন নিয়ে ভোটাররা চরম হতাশ। কুলাউড়া উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের সৈয়দ ময়েজ উদ্দিন আকল, জয়চন্ডী ইউনিয়নের রঙ্গীরকুল গ্রামের বাসিন্দা মির্জান খাঁ, কামারকান্দি গ্রামের চান্দ আলী, কর্মধা ইউনিয়নের ফটিগুলির বাসিন্দা সুনাই মিয়া (৬৮) ভোট দিতে এসে বলেন, বাবারে ইলা (এরকম) ভোট আমরার জীবনেও দেখছি না। এদের সবার বয়স ৬৫ থেকে ৭০ পর্যন্ত, ভোটাররা ভোট কেন্দ্রেই আসেনি।

একই চিত্র কুলাউড়ার চা বাগান অধ্যুষিত জয়চন্ডী ইউনিয়নের দিলদারপুর উচ্চ বিদ্যালয়, দিলদারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কামারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কর্মধা ইউনিয়নের নলডরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে ভোটারদের উপস্থিত এমপি নির্বাচনের তুলনায় অর্ধেক চোখে পড়ে। এর কারণ জানাতে গিয়ে মেরিনা চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি খোকা নায়েক ও সাধারণ সম্পাদক করিম মিয়া জানান, এমপি ভোটের চেয়ে অর্ধেক ভোটার উপজেলা নির্বাচনে ভোট দিতে এসেছে। এবার ভোট নিয়ে শ্রমিকরা বেশি আগ্রহী নয়।

শুধু ভোটারই নয় প্রার্থীরা নিজ গ্রামেও ভোটারদের নিতে পারেননি। উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের কর্মধা উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের ২নং বুথের অধীনে ভাতাইয়া গ্রাম। সেই গ্রামের মেয়ে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী পপি চৌধুরী। অথচ সকাল ১০টা পর্যন্ত এই বুথে ভোট পড়ে মাত্র একটি। বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে এগারোটি। অথচ এই গ্রামের মোট ভোটার ১৬৮। জয়চন্ডী ইউনিয়নের কামারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রিসাইডিং অফিসার রাজিকুল হাসান জানান, এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ৪৩২। বেলা সকাল ১০টা পর্যন্ত ৯টি বুথে সর্বোচ্চ দেড়শ’ ভোট পড়েছে। একই চিত্র কুলাউড়া শহরের ভোট কেন্দ্রগুলোতেও। উপজেলার সবক’টি ভোট কেন্দ্র ফাঁকা পরিলক্ষিত হয়। বিচ্ছিন্নভাবে দু’একজন ভোটারকে এসে ভোট দিতে দেখা যায়।