ঝিনাইদহ উপজেলা নির্বাচন

পাল্টাপাল্টি হামলা মামলার অভিযোগ

  ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ১৯ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঝিনাইদহের শহর গ্রাম সর্বত্র ভোটের মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। চলছে মার্কা ছিঁড়ে ফেলা এবং আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার প্রতিযোগিতা। আচরণ বিধি ভঙ্গের অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ২৪ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে জেলার ৪টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন।

ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সমর্থকরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একপক্ষ নৌকার পক্ষে কাজ করছেন। অপর পক্ষ দলের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান পিপিএম বলেছেন, ভোটারদের মাঝে আতংক ছাড়ায় কিংবা নির্বাচন প্রভাবিত হয় এমন কোনো ঘটনা ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রোকুনুজ্জামান বলেছেন, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ নির্বাচনে শাসক দলের স্থানীয় লোকজন দুই ভাগে ভাগ হয়ে লড়ছেন। নৌকা প্রতীক নিয়ে যারা লড়ছেন তারা প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থীদের কোনঠাসা করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

অভিযোগ উঠেছে আচরণবিধি মানছেন না তারা। হুমকি-ধমকি পোস্টার ছিঁড়ে, হামলা, মামলা করে ভোটের মাঠ দখলে রাখার চেষ্টা করছেন। এমন অভিযোগ করেছেন, ঝিনাইদহ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) জেএম রশীদুল আলম। তিনি আরও অভিযোগ করেছেন প্রতিপক্ষ নৌকার লোকজন নলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবীরের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চলিয়েছে। সে সঙ্গে নির্বাচনে ত্রাস সৃষ্টি করতে সদর উপজেলার হাটগোপালপুর, হরিশংকপুরে বাড়ি ঘরে হামলা ভাংচুর করা হয়েছে। তবে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আবদুর রশীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

হরিণাকুণ্ডু উপজেলা পরিষদের স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসাইনের মার্কা মোটর সাইকেল। তিনি অভিযোগ করেছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর লোকজন প্রতিদিন আচরণ বিধি ভঙ্গ করছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় সরাসরি বাধা দেয়া হচ্ছে তাকে। বিশ্বজিৎ নামের একজনকে পিটিয়ে এমনভাবে আহত করা হয়েছে যে, তাকে ঢাকায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মশিউর রহমান জোয়ার্দ্দার অভিযোগ অস্বীকার করে যুগান্তরকে বলেন প্রতিপক্ষ নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গ করছে এবং নৌকার প্রচার মাইক আটকিয়ে রাখছে।

শৈলকুপায় নৌকা ও আনারস সমর্থকরা মুখোমুখী। উভয় পক্ষ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। বিদ্রোহী (আনারস) প্রার্থীর পক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই ভোটারদের মাঝে প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ করেছেন নৌকা মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী নায়েব আলী জোয়ার্দ্দার। তিনি অভিযোগ করেছেন, এলাকায় একাধিক ধাওয়া-পাল্টাধাওয়াসহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় ভাটাই বাজারের ১৪৪ ধারা জারির করার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তিনি। অপর দিকে শৈলকুপা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থী (আনারস) মো. মোশাররফ হোসেন পাল্টা অভিযোগ করেছেন নৌকার লোকজন নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে চলেছে। এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। কালীগঞ্জে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে। এ কারণে সেখানে নির্বাচন হচ্ছে না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×