সড়কে নৈরাজ্য পর্ব-২

সড়কে ফিটনেসবিহীন যানবাহনের ছড়াছড়ি

নৈপথ্যে চাঁদাবাজচক্রের টোকেন বাণিজ্য

  আবুল খায়ের, কুমিল্লা ব্যুরো ২৫ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লায় গণপরিবহনে নৈরাজ্য এখন চরম আকার ধারণ করেছে। সড়ক আইন ও সরকারের বিধিমালা উপেক্ষা করে জেলার বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে গণপরিবহন পরিচালনা করছে মালিক সমিতিসহ বিভিন্ন অবৈধ সিন্ডিকেট। এ জেলার সড়কগুলোতে বেশিরভাগ যানবাহনের ফিটনেস না থাকলেও নেপথ্যে মালিক সমিতি ও পুলিশের নামে চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের টোকেন বাণিজ্যের কারণে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এতে দিন দিন সড়ক দুর্ঘটনা ও যাত্রী সাধারণের ভোগান্তি বাড়ছে। এদিকে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচলে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) কর্তৃপক্ষের মনিটরিং করার কথা থাকলেও এ জেলায় এ ধরনের কার্যক্রম মোটেও দেখা যাচ্ছে না। অনুসন্ধানে জানা যায়, সড়কে চলাচলকারী গণপরিবহনের জন্য সড়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক বেশকিছু নীতিমালা রয়েছে। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি কর্তৃপক্ষ এ নীতিমালা যথাযথভাবে প্রয়োগ করে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিধান রয়েছে। কুমিল্লার অধিকাংশ সড়ক-মহাসড়কে সরকারি সব বিধি-বিধান উপেক্ষা করে গণপরিবহন পরিচালনা করছে মালিক সমিতি ও বিভিন্ন সিন্ডিকেট। ফিটনেসবিহীন বাস, যানবাহনের ধরন বদলি, বাস থেকে ট্রাক, ট্রাক থেকে বাস, পানির মেশিন দিয়ে যাত্রী পরিবহনের ভটভটি, অটো ও ইজিবাইক, লেগুনা, মারুতিসহ সড়ক-মহাসড়কে দাপিয়ে চলছে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ যানবাহন। যাত্রী সাধারণকে জিম্মি করে এসব যানবাহন ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করে নিচ্ছে। সড়কে প্রশাসন কিংবা বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের কোনো নজরদারি না থাকায় এ জেলার সড়কগুলোতে বেশিরভাগই ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল করছে। সিন্ডিকেট কর্তৃক পরিবহন নিয়ন্ত্রণের কারণে যাত্রী সাধারণ চাহিদা অনুসারে চলাচলের জন্য যানবাহন পাচ্ছেন না। এতে বাধ্য হয়েই সামনে যে যানবাহন পাচ্ছেন তাতেই উঠে পড়ছেন। এসব সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে নিষিদ্ধ ও অবৈধ লেগুনা ও মারুতি নামের চার চাকাবিশিষ্ট বেশকিছু মিনি পরিবহন। সিএনজি অটোরিকশা ও তিন চাকার যানবাহন নিষিদ্ধ হওয়ার পর বিকল্প হিসেবে লেগুনা ও মারুতি পরিবহন সড়কে চালানো হচ্ছে। জেলার শাসনগাছা-ক্যান্টনমেন্ট-দেবিদ্বার-চান্দিনা-কোম্পানীগঞ্জ-পদুয়ারবাজার-বিশ্বরোড-মিয়ারবাজার-চৌদ্দগ্রাম এলাকায় মহাসড়কে এসব যানবাহন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। কোনো কাগজপত্র ছাড়াই ফিটনেসবিহীন এসব যানবাহন চালাচ্ছে লাইসেন্সবিহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকরা। যার ফলে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন যাত্রী সাধারণ। ছোট এসব পরিবহন মালিক ও চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দৈনিক ৪-৫শ’ টাকা চাঁদা (জিপি) দিয়ে তারা গাড়ি চালাচ্ছেন মহাসড়কে। ছোট আকারের এসব যানবাহনে যাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণ, নারী যাত্রীদের প্রায়ই বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হতে হয়। এছাড়া জিপির দোহাই দিয়ে যাত্রীদের জিম্মি করে ৩/৪ গুন বেশি ভাড়া আদায় করা হয়। অভিযোগ রয়েছে চাঁদাবাজির বিশাল অংকের টাকার ভাগ পান নামধারী পরিবহন নেতা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাসহ প্রভাবশালীরা। হয়রানির ভয়ে অনেকেই মুখ না খোলায় দিন দিন সড়কে বেড়েই চলেছে চাঁদাবাজ-লুটেরাদের এ দৌরাত্ম্য। পরিবহন সেক্টরের এ নৈরাজ্যের হাত থেকে রেহাই পেতে চান এ জেলার গণপরিবহনের যাত্রীরা। এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রহমত উল্লাহ বলেন, মহাসড়কে এসব ছোট পরিবহনে দুর্ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। এসব পরিবহনকে কোনোভাবেই মহাসড়কে চলতে দেয়া হবে না। জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে লেগুনা, মারুতিসহ মহাসড়কে যেসব লো-স্পিডের গাড়ি রয়েছে তা বন্ধ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এসব পরিবহন বন্ধে সব উপজেলার ইউএনওসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×