ভালুকায় বন বিভাগের জমি দখল

রেঞ্জ অফিসের সামনে দু’শতাধিক ভবন নির্মাণ

  জহিরুল ইসলাম জুয়েল, ভালুকা ২৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বর্তমান রেঞ্জার ও বিট অফিসার ময়মনসিংহের ভালুকা রেঞ্জ অফিসে যোগদান করার পর হবিরবাড়ি এলাকার দখলদাররা যেন বনের জমি দখলে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। রেঞ্জ অফিসের নাকের ডগায় বনের জমি দখল করে প্রভাবশালীরা বহুতল ভবনসহ দু’শতাধিক বসতবাড়ি নির্মাণ করেছে। এসব বিশাল আকারের বসতবাড়ি নির্মাণে অসাধু বন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। খোদ বনের দুই কর্মকর্তার বনের জমিতে ঘর নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। এতে বনভূমি বেহাত হওয়ার পাশাপাশি এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ হুমকীর সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, হবিরবাড়ি ইউনিয়নে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় শ্রমিকসহ লাখ লাখ লোক বসবাস করছেন। তাই এলাকায় আবাসনের ব্যাপক চাহিদা। ফলে আশপাশ ভালুকাসহ উপজেলার লোকজন এসে বনের একখণ্ড জমি সস্তায় দখল সূত্রে ক্রয়, শ্রমিক ও স্থানীয় বন বিভাগের লোকজনকে ম্যানেজ করে বাড়ি নির্মাণ করে। কোনো রকমের একটি রুম হলে ভাড়া ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা দেয়া যায়। বাসা ভাড়া ব্যাপক থাকায় বনের জমিতে ঘর নির্মাণে প্রতিযোগিতা চলছে। সম্প্রতি ব্যাপক হারে গড়ে উঠছে বেশ কয়েকটি বিশাল আকারের বহুতল ভবনসহ ইট দিয়ে টিনশেডের দু’শতাধিক বসতবাড়ি। স্থানীয় বন অফিসের কয়েকশ’ গজ দূরে এসব বহুতল ভবন ও বসতবাড়ি প্রকাশ্যে নির্মাণ হওয়ায় অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, এলাকার বন বিভাগ কি ধ্বংসের দারপ্রান্তে। বসতবাড়ি নির্মাণকারী একাধিক ব্যক্তি ও স্থানীয়রা জানান, এসব স্থাপনা নির্মাণে বন বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দিতে হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ভালুকা রেঞ্জ অফিসের অদূরে হবিরবাড়ি মৌজার ৯ নম্বর দাগে প্রকাশ্যে গড়ে তোলা হচ্ছে ৬ তলা ভবনের কাজ। একই দাগে আওলাতলি সড়কে বেশ কয়েকজন ১০-১২ রুমের বিশাল বাড়িসহ একটি গার্ডেনের বিশাল ঘর তুলেছে। ১৫৬ নম্বর দাগে বেলাশিয়াপাড়ায় বন বিভাগে নোয়াখালীতে কর্মরত সহকারী ফরেস্টার শাহজাহান ও নজরুলসহ বেশ কয়েকজন নির্মাণ করেছেন বিশাল বিশাল বসতবাড়ি। একই মৌজার ১৮৫ নম্বর দাগে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন আজিজুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন, খোকা মিয়া, আইনুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন। ১৫৪ নম্বর দাগে নজরুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন, একই মৌজার ৮৭ নম্বর দাগে আবদুর রাজ্জাক, তার ভাই ও বোনজামাই হাবিবুর রহমান ৫০ থেকে ৫৫টি বিশাল ঘর, আবদুল হামিদ, স্বাধীন সংমা ও অর্জুন বিশ্বাস বাড়ি নির্মাণ করেছেন। একই দাগে জাহিদ হোসেন নির্মাণ করছেন ৫ তলা বাড়ি। তাছাড়া ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে মাস্টারবাড়ি থেকে ধামশুর পর্যন্ত বন বিভাগের কোটি কোটি টাকা মূল্যের জমি দখলে নিয়ে প্রভাবশালীরা সীমানা প্রাচীর নির্মাণসহ শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বন এলাকার ১০ কিলোমিটারের ভেতর করাতকল স্থাপন নিষিদ্ধ থাকলেও ভালুকা রেঞ্জ অফিস সিডস্টোর বাজার, মহাসড়কের মাস্টারবাড়ি বাসস্ট্যান্ডে করাতকলসহ গজারি বনের ভেতর ও আশপাশ এলাকায় অর্ধশতাধিক অবৈধ করাতকল রয়েছে। সেসব করাতকলে দিনরাত এসব গজারি ও আকাশমণি গাছ চেড়াই করে যাচ্ছে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। আর এসব করাতকল থেকে বন বিভাগের অসাধু ব্যক্তিরা প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে মাসোহারা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভালুকা রেঞ্জার মোজাম্মেল হোসেন জানান, আমরা ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছি। ময়মনসিংহ (দক্ষিণ) ভালুকা অঞ্চলের সহকারী বন সংরক্ষক আবু ইউসুফ জানান, তিনি উপস্থিত থেকে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। তাছাড়া স্থানীয় বন কর্মকর্তাকে অবৈধ স্থাপনাকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×