বড়াল নদ যেন মরা খাল

  চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চাটমোহরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত এক সময়ের প্রমত্তা বড়াল নদ এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। দখল ও দূষণে ধুঁকছে দেশের অন্যতম এই নদটি। পলিথিন, পোড়া তেল, মবিল, পৌরসভার পয়ঃবর্জ্য, গৃহস্থালীর বর্জ্যে বদ্ধ জলাশয়ে পরিণত হয়েছে নদটি। কচুরিপানায় ভরপুর নদটিতে ময়লা-আবর্জনা পচে বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দীর্ঘদিন নদের বিভিন্ন পয়েন্টে ক্রসবাঁধের কারণে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছিল বড়াল নদের নাম। কিন্তু সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কয়েকটি ক্রসবাঁধ তুলে দিয়ে বেশ কয়েকটি ব্রিজ নির্মাণ করায় আশার আলো দেখতে শুরু করেছে চাটমোহর উপজেলাবাসী। কিন্তু প্রতিদিনই নদের দুই পাড় দখল করে ভরাট করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ হচ্ছে। নদের তলদেশে জমাট বেঁধেছে পলিথিনের স্তর আর রকমারি বর্জ্য। দখল-দূষণে নদটি এখন আবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে। নদের দুই পাশে দখল করে বড় বড় ইমারত নির্মাণ করেছে দখলকারীরা। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পৌর শহরের নতুন বাজার ও পুরাতন বাজার এলাকার বেশকিছু জায়গায় নদের জায়গা দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে কাঁচা-পাকা অবৈধ স্থাপনা। পুরাতন বাজার এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবনের পাশে নদের জায়গা দখল করে হকার্স মার্কেট গড় তোলা হয়েছে। কাপড় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো মাটি ফেলে ভরাট করে পাকা খুটি পুঁতে দোকানঘর নির্মাণ করছেন। এছাড়া জারদ্রিস মোড়, নতুন বাজার খেয়াঘাটসহ নদের দুই পাড়ে গড়ে উঠেছে বসতবাড়ি ও বিভিন্ন ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান। নদীর বুকে আবাদ হচ্ছে বিভিন্ন ফসলের। শুধু তাই নয় হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে বড়াল নদে। পৌরসভার ড্রেন দিয়ে সরাসরি বর্জ্য মিশে যাচ্ছে নদের পানিতে। যে কারণে বেড়েছে মশার উপদ্রব। শুধু তাই নয়, বর্জ্যরে উৎকট গন্ধে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। এতে মারাত্মক স্বাস্থ্য হুমকিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। দীর্ঘদিন নদটি খনন না হওয়ায় নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। ফলে বছরের বেশিরভাগ সময় থাকে পানিশূন্য।

বড়াল রক্ষা আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব এসএম মিজানুর রহমান বলেন, দখলকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। বড়াল নদ চালু করতে ড্রেজিং করা সবচেয়ে জরুরি। নদটি চালু করা এখন সময়ের দাবি। বড়াল পাড়ের লাখ লাখ মানুষ এই নদ চালুর দাবিতে সোচ্চার। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার অসীম কুমার বলেন, ‘কচুরিপানা সরানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া দখলমুক্ত করতে অচিরেই অভিযান পরিচালনা করা হবে। ড্রেজিংয়ের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.