নানা সমস্যার আবর্তে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

  কচুয়া (চাঁদপুর) প্রতিনিধি ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চাঁদপুরের ৫০ সয্যাবিশিষ্ট কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানান সমস্যা বিরাজ করছে। ফলে রোগীরা হাসপাতাল থেকে কাক্সিক্ষত সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন। হাসপাতালের প্রবেশমুখেই বেসরকারি হাসপাতালের দালালদের দৌরাত্ম্য। গ্রাম থেকে আসা সহজ-সরল রোগীদের তারা বলে, এখানকার যন্ত্রপাতি নষ্ট, পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফল ভুল আসবে, রোগীকে নিয়ে চলে আসেন বেসরকারি হাসপাতালে, সেখানে সবসময় চিকিৎসক থাকেন, আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এ সব দালালের সঙ্গে হাসপাতালের কয়েকজন অসাধু ডাক্তারের সখ্য রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের ভোগান্তি ও তাদের নানাভাবে হয়রানির চিত্র। এ হাসপাতালে চিকিৎসকদের বিভিন্ন পদ দীর্ঘদিন থেকে শূন্য। এ কারণে রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ খানে গাইনি কনসালট্যান্টের একটি পদ দীর্ঘদিন থেকে শূন্য রয়েছে। ফলে মহিলাদের জটিল রোগের চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। জুনিয়র কনসালট্যান্ট সার্জারি ও জুনিয়র কনসালট্যান্ট অ্যানেসথেসিয়া না থাকায় অপারেশন থিয়েটার বন্ধ রয়েছে বছরের পর বছর। টেকনিশিয়ান না থাকায় এক্সরে করা যাচ্ছে না। আলট্রাসনোগ্রাম করার কোনো মেশিন নেই। এতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হচ্ছে না। এমতাবস্থায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীদের হাতে স্লিপ ধরিয়ে দিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতে বলা হয়। ২২টি নার্স পদের মধ্যে ৩টি শূন্য। সহকারী নার্সের একটিমাত্র পদ। কিন্তু এটিও শূন্য। নাইটগার্ডের দুটি পদই শূন্য। এতে রাতের বেলায় হাসপাতাল অরক্ষিত থাকছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসকের ২১টি পদের মধ্যে ১৩ জন আছেন। তারমধ্যে একজন রয়েছেন ডেপুটেশনে (প্রশিক্ষণে)। ফলে কার্যত ১২ জন চিকিৎসক রয়েছেন। ৪টি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিটিতে একজন করে ডাক্তার থাকার কথা। অথচ শুধু রঘুনাথপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডাক্তার আছেন। পাথৈর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তার অনুপস্থিত রয়েছেন গত বছরের ৪ এপ্রিল থেকে। আশরাফপুর ও উপজেলা সদরের উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডাক্তারের পদ শূন্য রয়েছে। ৮টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ৮ জন সহকারী সার্জনের মধ্যে একজনও নেই। দোয়াটি ও রঘুনাথপুর কেন্দ্রে সহকারী সার্জন ছাড়া ও উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নেই। দীর্ঘদিন সংস্কারকাজ না করায় ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের কোয়ার্টারগুলোর জরাজীর্ন অবস্থা। কোনো কোনো কোয়ার্টার বসবাসের জন্য সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়া সত্ত্বেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মচারীরা বসবাস করছেন।

পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে ও জনবল সংকটের কারণে দৈনন্দিন কাজকর্ম দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ২০০৮ সাল থেকে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নেই। বর্তমানে অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তাফা। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য পরিবার কর্মকর্তা ডা. কবির হোসেন জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে জানান, এ সংকট সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter