নোয়াখালী আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ

সিলিং ডেকোরেশনে অনিয়ম

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মো. হানিফ, নোয়াখালী

নোয়াখালী আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজে ১৪ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার সিলিং ডেকোরেশন প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মীর হামিদুর রহমান ও কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঢাকার মোহাম্মদপুরের ঠিকাদার মেসার্স নির্ঝরা এন্টারপ্রাইজ পরস্পর যোগসাজশে ১৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সূত্রে জানা যায়, কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. মো. আবদুস সালাম কলেজের আসবাবপত্র সরবরাহ করতে ২০১৬ সালের ২৮ আগস্ট ওই ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেন। গত বছর ৩ আগস্ট বর্তমান অধ্যক্ষ ডা. মীর হামিদুর রহমান যোগদান করেন। এরপর মেয়াদোত্তীর্ণ ওই প্রকল্পে কলেজের আসবাবপত্র সরবরাহ ও সিলিং ডেকোরেশন করতে মন্ত্রণালয় ১৪ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। সরকারি বিধিমতে গণপূর্তের প্রতি স্কয়ার ফুট সিলিং ডেকোরেশন ৩৬৫ টাকা। জানা গেছে, একাধিক চেকের মাধ্যমে ঠিকাদারকে ১৪ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষকরা জানান, ওই দরপত্রের সার্ভে কমিটির আহ্বায়ক কলেজের শিক্ষক ডা. আবদুল হালিম, সদস্য সচিব ডা. রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ, সদস্য ডা. বাপ্পা গৌতম। গত বছর অক্টোবর-ডিসেম্বর ৩ মাসে ঠিকাদার আসবাবপত্র সরবরাহ না করে কলেজের লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন কক্ষে নিুমানের সিলিং ডেকোরেশন করেছেন। অধ্যক্ষ সার্ভে কমিটি ও স্টোরকিপারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ কার্যাদেশের তারিখে ঠিকাদারের বিলে সইও করিয়েছেন। শিক্ষকদের অভিযোগ, এতই নিুমানের সিলিং ডেকোরেশন হয়েছে যে, তার মোট ব্যয় এক কোটি টাকার বেশি হবে না। অপরদিকে ছাত্রাবাসের দ্বিতীয় তলায় টেবিল-চেয়ার না থাকায় ছাত্রীরা খাটের ওপর গণভাবে অবস্থান করে পড়ালেখা করছে। কলেজের অফিসকক্ষেও নতুন কোনো আসবাবপত্র না দিয়ে অপ্রয়োজনীয় সিলিং ডেকোরেশনের নামে অধ্যক্ষ ও ঠিকাদার যোগসাজশে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ ডা. মীর হামিদুর রহমান যুগান্তরকে জানান, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের কলেজের আসবাবপত্র সরবরাহ করতে ওই ঠিকাদারকে সাবেক অধ্যক্ষ কার্যাদেশ দিলেও বরাদ্দ ও অনুমোদন না থাকায় কাজ হয়নি। তাছাড়া ঠিকাদাররা মন্ত্রণালয়ে তদবির করে কার্যাদেশ নেয়। সেক্ষেত্রে কিছু অনিয়ম হতে পারে। এখানে অনিয়ম ও দুর্নীতিতে ঠিকাদারের সঙ্গে ক্ষমতাশীন দলের নেতারাও জড়িত রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।